Dark Mode
Image
  • Thursday, 29 January 2026
চ্যাটজিপিটিতে বয়স শনাক্তের নতুন ফিচার আনছে ওপেনএআই

চ্যাটজিপিটিতে বয়স শনাক্তের নতুন ফিচার আনছে ওপেনএআই

ব্যবহারকারীদের বয়স অনুমান করে কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণের নতুন ফিচার চালু করতে যাচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই। ‘এজ প্রেডিকশন’ নামে এই প্রযুক্তির মূল লক্ষ্য হলো—১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য চ্যাটজিপিটিকে আরও নিরাপদ করে তোলা।

ওপেনএআই জানিয়েছে, নতুন এই ফিচার ধাপে ধাপে বিশ্বব্যাপী চালু করা হবে। কোনো অ্যাকাউন্ট কিশোরের হতে পারে বলে সিস্টেম যদি অনুমান করে, তাহলে সেখানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়তি সুরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হবে। এর ফলে সহিংসতা, যৌনতা কিংবা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্ধারিত সংবেদনশীল কনটেন্ট দেখার সুযোগ সীমিত হয়ে যাবে।

তবে ওপেনএআই স্বীকার করেছে, বয়স শনাক্তের এই পদ্ধতি শতভাগ নির্ভুল নয়। ফলে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারী ভুলবশত কিশোরদের অভিজ্ঞতার আওতায় পড়তে পারেন। এমন পরিস্থিতিতে পূর্ণ সুবিধা ফিরে পেতে পরিচয় যাচাই করতে হবে। এজন্য ব্যবহারকারীকে একটি সেলফি জমা দিতে হবে, যা ‘পারসোনা’ নামের একটি পরিচয় যাচাই সেবার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।

প্রথম ধাপে ইউরোপীয় ইউনিয়নে এই ফিচার চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইউরোপে শিশু ও কিশোরদের অনলাইন সুরক্ষা নিয়ে কঠোর নিয়ম থাকায় সেখানে এই উদ্যোগকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে ওপেনএআই।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে চ্যাটজিপিটিতে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য আলাদা অভিজ্ঞতা চালুর পথ তৈরি করবে। গত ডিসেম্বর মাসে ওপেনএআইয়ের অ্যাপ্লিকেশন বিভাগের প্রধান ফিদজি সিমো জানিয়েছিলেন, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকেই চ্যাটজিপিটিতে ‘অ্যাডাল্ট মোড’ চালু হতে পারে। এর আগে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানও বয়স যাচাই করা ব্যবহারকারীদের জন্য পরিণত কনটেন্ট অনুমোদনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

বর্তমানে চ্যাটজিপিটির সাপ্তাহিক সক্রিয় ব্যবহারকারী সংখ্যা প্রায় ৮০ কোটি। এত বড় ব্যবহারকারীভিত্তির কারণে বয়সভিত্তিক কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ ওপেনএআইয়ের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি আয় বাড়ানোর দিকেও নজর দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু ব্যবহারকারীর জন্য চ্যাটজিপিটিতে বিজ্ঞাপন দেখানো শুরু হবে। ওপেনএআইয়ের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে তাদের বার্ষিক আয় ২০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, যা আগের বছর ছিল ৬ বিলিয়ন ডলার।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বয়স শনাক্তের এই ফিচার একদিকে যেমন কিশোরদের নিরাপত্তা জোরদার করবে, অন্যদিকে গোপনীয়তা ও তথ্য সুরক্ষা নিয়ে নতুন বিতর্কও তৈরি করতে পারে। বাস্তবে এই প্রযুক্তি কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা ও বাস্তব প্রয়োগের ওপর।

Comment / Reply From

You May Also Like