Dark Mode
Image
  • Saturday, 24 October 2026
জাপানে চাকরি: এখন থেকেই প্রস্তুতি নিন

জাপানে চাকরি: এখন থেকেই প্রস্তুতি নিন

 

১ এপ্রিল ২০২৭ থেকে জাপানে কর্মী নিয়োগ, যেতে হলে কী করতে হবে?

জাপানে কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশিদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের পর আগামী ১ এপ্রিল ২০২৭ থেকে এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ শুরু করার কথা জানিয়েছে সরকার। ফলে জাপানে কাজ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য এখন থেকেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

গত ১৭ অক্টোবর বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ‘মেমোরেন্ডাম অব কো-অপারেশন অন এমপ্লয়মেন্ট স্কিলস ডেভেলপমেন্ট’ (ESDP-MOC) চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ১৯ অক্টোবর এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানায়। চুক্তির লক্ষ্য দুই দেশের মধ্যে কর্মী পাঠানো ও গ্রহণের প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা বাড়ানো, বাংলাদেশি কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তাঁদের দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করা।

তবে নিয়োগ শুরুর তারিখ ঘোষণা করা হলেও নতুন চুক্তির আওতায় কোন কোন পেশায় কতজন কর্মী নেওয়া হবে, আবেদন কখন শুরু হবে এবং সবার জন্য যোগ্যতার শর্ত কী হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তাই প্রস্তুতির পাশাপাশি সরকারি বিজ্ঞপ্তির দিকে নজর রাখাও জরুরি।

কবে থেকে কর্মী নিয়োগ শুরু হবে?

সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল থেকে ESDP-MOC চুক্তির আওতায় জাপানে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে নিয়োগ শুরুর তারিখ আর আবেদন করার তারিখ এক নয়। কোনো কর্মীকে জাপানে যেতে হলে সংশ্লিষ্ট চাকরির বিজ্ঞপ্তি, যোগ্যতা যাচাই, নিয়োগকর্তার নির্বাচন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং ভিসাসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে।

তাই শুধু ১ এপ্রিলের অপেক্ষায় না থেকে এখন থেকেই নিজের দক্ষতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা এবং জাপানি ভাষা শেখার প্রস্তুতি নেওয়া যেতে পারে।

চুক্তির মেয়াদ কত বছর?

চুক্তিটির প্রাথমিক মেয়াদ পাঁচ বছর। এই মেয়াদ শেষে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরও পাঁচ বছরের জন্য বাড়ানোর বিধান রয়েছে। ফলে মোট মেয়াদ দাঁড়াবে ১০ বছর।

বাংলাদেশের পক্ষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। জাপানের পক্ষে দেশটির বিচার মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল পুলিশ এজেন্সির প্রতিনিধিরা এতে স্বাক্ষর করেন।

চুক্তির আওতায় কর্মীদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। 

বেতন ও আইনি সুরক্ষায় কী সুযোগ থাকছে?

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশি কর্মীরা জাপানের স্থানীয় কর্মীদের সমতুল্য আইনি সুরক্ষা পাবেন। পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন, তুলনামূলক বেশি বেতন এবং দীর্ঘমেয়াদে জাপানে বসবাসের সুযোগ তৈরির বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে। <Cite refs={["turn806708search2","turn806708search7"]}/>

তবে এর অর্থ এই নয় যে সব কর্মী একই বেতন পাবেন বা প্রত্যেকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের অনুমতি পাবেন। বেতন, কাজের সময়, ছুটি, থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সংশ্লিষ্ট চাকরির চুক্তি এবং জাপানের প্রযোজ্য নিয়মের ওপর নির্ভর করবে।

নারী কর্মীদের জন্য কী সুরক্ষা থাকবে?

সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। গর্ভধারণ বা সন্তান জন্মদানের কারণে নারী কর্মীদের চাকরিচ্যুত করা কিংবা তাঁদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা যাবে না বলে জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া এসব কারণে নারী কর্মীদের বাধ্যতামূলকভাবে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর কোনো বিধান চুক্তিতে রাখা হয়নি বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। 

জাপানে যেতে আগ্রহীরা এখন কী প্রস্তুতি নেবেন?

নতুন চুক্তির অধীনে পেশাভিত্তিক যোগ্যতা ও আবেদনপ্রক্রিয়ার বিস্তারিত নির্দেশনা প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত কয়েকটি বিষয়ে প্রস্তুতি নিতে পারেন।

১. জাপানি ভাষা শেখা শুরু করুন

জাপানে কাজের জন্য ভাষাজ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তাই এখন থেকেই জাপানি ভাষার প্রাথমিক শিক্ষা শুরু করা ভালো। নিজের লক্ষ্য করা পেশায় কোন স্তরের ভাষাজ্ঞান প্রয়োজন, তা সংশ্লিষ্ট চাকরির বিজ্ঞপ্তি থেকে নিশ্চিত করতে হবে।

যাঁরা জাপানের Specified Skilled Worker (SSW-১) কর্মসূচির আওতায় যেতে চান, তাঁদের সাধারণত নির্ধারিত জাপানি ভাষা পরীক্ষার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পেশার দক্ষতা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। ভাষাগত যোগ্যতার জন্য Japan Foundation Test for Basic Japanese (JFT-Basic) অথবা Japanese-Language Proficiency Test (JLPT)-এর অন্তত N4 স্তর গ্রহণযোগ্য হতে পারে। তবে ক্ষেত্রভেদে নিয়ম আলাদা এবং নির্দিষ্ট কিছু কাজে আরও উচ্চতর ভাষাজ্ঞান প্রয়োজন। 

মনে রাখতে হবে, এই শর্তগুলো SSW কর্মসূচির জন্য প্রযোজ্য; নতুন ESDP-MOC চুক্তির আওতায় সব পেশার জন্য একই পরীক্ষা বাধ্যতামূলক হবে কি না, তা বিস্তারিত নির্দেশনা প্রকাশের পর নিশ্চিত হতে হবে।

২. নিজের দক্ষতা ও কাজের অভিজ্ঞতা বাড়ান

জাপানে কোন ধরনের কাজে যেতে চান, তা আগে থেকে ঠিক করুন। কারিগরি কাজ, উৎপাদন, নির্মাণ, সেবা খাত কিংবা অন্য পেশায় যেতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কাজের ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের চেষ্টা করুন।

প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণ সনদ, শিক্ষাগত যোগ্যতার কাগজপত্র এবং কাজের অভিজ্ঞতার প্রমাণ গুছিয়ে রাখুন। তবে চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে যে যোগ্যতা চাওয়া হবে, সেটিই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।

৩. সরকারি বিজ্ঞপ্তি ও বৈধ নিয়োগপদ্ধতি অনুসরণ করুন

চুক্তির আওতায় আবেদন শুরুর তারিখ, পেশার তালিকা এবং নিয়োগের নিয়ম জানতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (BMET) এবং বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (BOESL) বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করুন।

সরকারিভাবে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে সেখানে উল্লেখিত শর্ত অনুযায়ী আবেদন করুন। বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে যেতে চাইলে তার লাইসেন্স ও অনুমোদন যাচাই করে নিন।

এ ছাড়া জাপানে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অভিবাসন ও কাজের অনুমতির শর্ত জানতে দেশটির সরকারি Specified Skilled Worker তথ্যসাইট দেখতে পারেন।

৪. খরচ ও চাকরির চুক্তি যাচাই করুন

জাপানে কাজের জন্য কত টাকা খরচ হবে, তা পেশা, নিয়োগপদ্ধতি, প্রশিক্ষণ, পরীক্ষা, কাগজপত্র ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়ের ওপর নির্ভর করতে পারে। নতুন চুক্তির আওতায় সবার জন্য নির্দিষ্ট অভিবাসন ব্যয় ঘোষণা করা হয়েছে—এমন তথ্য এখনো নিশ্চিত নয়।

তাই খরচের বিস্তারিত লিখিতভাবে জেনে নিন। চাকরির চুক্তিতে বেতন, কর্মঘণ্টা, অতিরিক্ত কাজের পারিশ্রমিক, ছুটি, আবাসন, খাবার এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা উল্লেখ আছে কি না, তা যাচাই করুন।

কেউ ‘নিশ্চিত ভিসা’, ‘গ্যারান্টিযুক্ত চাকরি’ কিংবা নতুন চুক্তির নামে দ্রুত জাপানে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে অগ্রিম বড় অঙ্কের টাকা চাইলে সতর্ক থাকুন। সরকারি বিজ্ঞপ্তি ও অনুমোদিত নিয়োগপ্রক্রিয়া যাচাই না করে টাকা দেওয়া উচিত নয়।

কখন আবেদন শুরু হবে, এখনো কী জানা বাকি?

নতুন চুক্তির ঘোষণা অনুযায়ী, কর্মী নিয়োগ শুরু হবে ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল। তবে নতুন ব্যবস্থায় আবেদনপত্র জমা দেওয়ার নির্দিষ্ট তারিখ, পেশাভিত্তিক নিয়োগসংখ্যা, বয়সসীমা, ভাষা পরীক্ষার শর্ত, প্রয়োজনীয় নথি এবং নিয়োগের পূর্ণ ধাপ সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশনা প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত আবেদনকারীদের অপেক্ষা করতে হবে।

অন্যদিকে, জাপানে কাজের জন্য বিদ্যমান কর্মসূচিগুলোর আওতায় আলাদা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হতে পারে। তাই নতুন চুক্তির অপেক্ষায় থাকলেও সরকারি ও বৈধ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা যেতে পারে।

জাপানে কাজের নতুন সুযোগকে কাজে লাগাতে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ভাষা ও পেশাগত দক্ষতা বাড়ানো, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা এবং নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করা। শুধু নিয়োগ শুরুর তারিখ জানলেই হবে না—সঠিক যোগ্যতা, বৈধ নিয়োগপদ্ধতি ও লিখিত চাকরির শর্ত নিশ্চিত করেই বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করা উচিত।

 

 

Comment / Reply From