Dark Mode
Image
  • Thursday, 29 January 2026

নীরবে সাম্রাজ্য গড়া প্রতিষ্ঠান: কেন বাংলাদেশের শীর্ষে একে খান গ্রুপ

নীরবে সাম্রাজ্য গড়া প্রতিষ্ঠান: কেন বাংলাদেশের শীর্ষে একে খান গ্রুপ

বাংলাদেশের করপোরেট জগতে যেসব প্রতিষ্ঠান নীরবে কিন্তু দৃঢ়ভাবে নিজেদের অবস্থান গড়ে তুলেছে, একে খান অ্যান্ড কোম্পানি তাদের অন্যতম। চট্টগ্রামভিত্তিক এই শিল্পগোষ্ঠীটি গ্ল্যামার কিংবা মিডিয়ার আলোচনায় খুব একটা না থাকলেও দেশের অর্থনীতিতে তাদের অবদান অসাধারণ। এমনকি অনেকেই এই গ্রুপের নাম খুব একটা না শুনলেও, সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক জরিপে উঠে এসেছে একে খানের চমকপ্রদ সাফল্য।

বিশ্বব্যাংক গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশন (IFC)–এর সাম্প্রতিক জরিপে একে খান গ্রুপকে বাংলাদেশের সবচেয়ে শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক আয় (কর পরিশোধের পর) প্রায় ১.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

ঐতিহ্যের শুরু ১৯৪৫ সালে

বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে একে খান গ্রুপ সবচেয়ে পুরোনো প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। ১৯৪৫ সালে প্রখ্যাত শিল্পপতি আবুল কাসেম খান এই কোম্পানির যাত্রা শুরু করেন। তিনি ছিলেন তৎকালীন সময়ের একজন কিংবদন্তি ব্যবসায়ী। চট্টগ্রামের পরিচিত ‘একে খান মোড়’ তার নামেই নামকরণ করা হয়েছে—যা তার প্রভাব ও অবদানের সাক্ষ্য বহন করে।

২৪টির বেশি প্রতিষ্ঠানের বিশাল নেটওয়ার্ক

বর্তমানে একে খান গ্রুপের আওতায় রয়েছে ২৪টি সহযোগী প্রতিষ্ঠান। দেশের টেলিযোগাযোগ খাতেও এই গ্রুপের অবদান উল্লেখযোগ্য। এক সময়ের একটেল—বর্তমানের রবি আজিয়াটা—বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করেছিল একে খান গ্রুপের হাত ধরেই। একটেলের নামের ‘AK’ অংশটি এসেছে প্রতিষ্ঠাতা আবুল কাসেম খানের নাম থেকে।

অর্থনৈতিক জোন ও শিল্প সম্প্রসারণ

শুধু ব্যবসায়িক সাফল্যেই নয়, শিল্পায়নের ক্ষেত্রেও একে খান গ্রুপের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। নরসিংদী জেলায় তাদের রয়েছে এ কে খান ইকোনমিক জোন, যা দেশের শিল্প উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে বড় ভূমিকা রাখছে।

উত্তরাধিকারেই চলছে নেতৃত্ব

১৯০৫ সালে জন্মগ্রহণ করা আবুল কাসেম খান ১৯৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন। বর্তমানে তার উত্তরসূরিরা একে খান গ্রুপের ব্যবসায়িক কার্যক্রম দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করে যাচ্ছেন, ধরে রাখছেন প্রতিষ্ঠাতার গড়া ঐতিহ্য ও সুনাম।

নীরব থাকলেও, বাংলাদেশের করপোরেট ইতিহাসে একে খান গ্রুপ যে একটি শক্তিশালী ও প্রভাবশালী নাম—তা আজ আর অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

Comment / Reply From