ব্যবসায় সফলতার চাবিকাঠি: কৌশলী মার্কেটিং ও ক্রেতার আস্থা
প্রতিদিনকার ব্যবসায়িক কার্যক্রমে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বড় অংশজুড়ে রয়েছে মার্কেটিং। এই একটি বিষয়ে দক্ষতা ও কৌশলগত বুদ্ধিমত্তা অর্জন করতে পারলে ব্যবসায়িক সফলতা অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। কারণ, সঠিক ক্রেতাকে খুঁজে বের করে তার চাহিদা অনুযায়ী পণ্য বা সেবা সরবরাহ করতে পারলেই মুনাফা অর্জন নিশ্চিত করা সম্ভব।
ব্যবসার মূল শক্তি হলো ক্লায়েন্ট বা ক্রেতা। যাঁর কাছ থেকে আপনি পণ্য বিক্রি করে লাভ করছেন, তাঁর গুরুত্ব সবার আগে দিতে হবে। ক্রেতার প্রকৃত চাহিদা বোঝা, সেই অনুযায়ী সমাধান দেওয়া এবং দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করাই একজন সফল ব্যবসায়ীর প্রধান দায়িত্ব। কোনো ক্রেতার সঙ্গে কথা বলার সময় নিজের লাভের চেয়ে তার প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
ক্রেতা আপনার কাছ থেকে কী প্রত্যাশা করছে—এই প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট হওয়া জরুরি। আপনি যে পণ্য বা সেবা সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, তা কি সত্যিই তার চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ? পাশাপাশি, নির্ধারিত মূল্যে কাঙ্ক্ষিত মানের পণ্য দেওয়া সম্ভব কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। ক্রেতা সন্তুষ্ট থাকলেই ভবিষ্যতে সে আবার আপনার কাছেই ফিরবে।
প্রচলিত আছে— কাস্টমার লক্ষ্মী। লক্ষ্মীকে নিজ হাতে বিদায় করা কখনোই বুদ্ধিমানের কাজ নয়। অসংগতি ও প্রতারণা যেখানে, সেখানে ক্রেতার আস্থা থাকে না। কোনো ক্রেতা যদি একবার প্রতারিত হয়, তাহলে ভবিষ্যতে সে আর ফিরে আসবে না। তাই নির্দিষ্ট সময়ে পণ্য ডেলিভারি, প্রতিশ্রুতি রক্ষা এবং প্রয়োজনে পণ্য ফেরত গ্রহণ—সবকিছুই হাসিমুখে ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে করতে হবে।
ক্রেতাকে কখনোই ভুল তথ্য দিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা উচিত নয়। কোনো বিষয়ে নিশ্চিত না হলে স্পষ্টভাবে স্বীকার করাই শ্রেয়। কারণ ক্রেতা স্পষ্টবাদিতাকে সম্মান করে, কিন্তু প্রতারণাকে কখনোই মেনে নেয় না। নিজের কষ্টার্জিত অর্থ খরচ করে কেউ ঠকতে চায় না।
পুরোনো ক্রেতার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা ব্যবসার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন ক্রেতা খোঁজার পাশাপাশি নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন পুরোনো ক্রেতাদের সঙ্গে। কারণ, হয়তো তাঁর নিজের প্রয়োজন নেই, কিন্তু তাঁর পরিচিত কেউ আপনার পণ্য বা সেবার খোঁজে থাকতে পারে। এই রেফারেন্সই ভবিষ্যতে আপনার জন্য বড় সুযোগ এনে দিতে পারে।
অতিরিক্ত মুনাফার লোভ ব্যবসাকে দীর্ঘস্থায়ী করে না। কম লাভে বেশি বিক্রির দিকে মনোযোগ দিন। এতে মোট মুনাফার পরিমাণ বাড়ে এবং বাজারে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি হয়। কথায় ও কাজে মিল থাকলে ক্রেতা নিজ থেকেই আপনাকে খুঁজে নেবে।
ব্যবসার পথে কিছু অসৎ প্রস্তাব বা শর্টকাট সুযোগ আসতেই পারে। কিন্তু সৎ পথে না গেলে সেই লাভ কখনোই স্থায়ী হয় না। সাময়িকভাবে কোনো সুযোগ হাতছাড়া হলেও সততার কারণে ভবিষ্যতে আরও বড় ও সম্মানজনক সুযোগ আসতে পারে। তাই ব্যবসায় এগিয়ে চলার একমাত্র সঠিক পথ হলো সততা ও নৈতিকতা।
লিখেছেন: রকিবুল
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!