Dark Mode
Image
  • Wednesday, 28 October 2026
পাখি দেখায় ডিমেনশিয়া রোগীদের মুখে হাসি

পাখি দেখায় ডিমেনশিয়া রোগীদের মুখে হাসি

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকের স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাভাবনার ক্ষমতা কমতে থাকে। ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে দৈনন্দিন ঘটনা মনে রাখা, কথোপকথন অনুসরণ করা কিংবা পরিচিত পরিবেশে স্বচ্ছন্দ থাকা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে পাখি দেখা ও প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানো তাদের মানসিক প্রশান্তি এবং সামাজিক যোগাযোগে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

যুক্তরাজ্যের ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসের ফোর্জ মিল লেকে প্রতি সপ্তাহে পাখি দেখতে জড়ো হন একদল বয়স্ক মানুষ। তাদের অনেকেই ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত। প্রতিদিনের নানা বিষয় মনে করতে কিংবা অন্যের কথা বুঝে কথোপকথনে অংশ নিতে তাদের অসুবিধা হয়। কিন্তু পাখি দেখার সময় দৃশ্যটি বদলে যায়। পাখির রং, আচরণ ও চলাফেরা নিয়ে তারা নিজেদের মধ্যে কথা বলেন, আনন্দ ভাগাভাগি করেন।

এই দলের একজন ৭৮ বছর বয়সী হ্যারল্ড। একসময় প্রকৃতি ও পাখির প্রতি তার গভীর আগ্রহ ছিল। কিন্তু ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে নিতে থাকেন তিনি। বাড়তে থাকে উদ্বেগও। বাবার এই পরিবর্তন দেখে মেয়ে লুসি তাকে পাখি দেখার দলে নিয়ে আসেন।

প্রথম দিকে সেখানে কিছুটা অস্বস্তি বোধ করতেন হ্যারল্ড। তবে ধীরে ধীরে পাখির প্রতি তার আগ্রহ ফিরে আসে। একটি রবিন পাখি দেখে তার মুখে হাসি ফুটে ওঠে। পানিতে হাঁসের খেলা দেখেও আনন্দ পান তিনি। আশপাশের গাছে নীল রঙের ছোট পাখিদের উড়ে বেড়াতে দেখে দীর্ঘদিন পর বাবাকে হাসতে দেখেন লুসি।

ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করা যুক্তরাজ্যের দাতব্য সংস্থা এজ ইউকের কর্মকর্তা জেনি বাডিঙ্গার মনে করেন, হ্যারল্ডের জন্য ওই মুহূর্তগুলো ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তখন তিনি স্মৃতিশক্তি কিংবা নিজের আত্মবিশ্বাস নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন না; বরং প্রকৃতির সঙ্গে যুক্ত থেকে বর্তমান সময়ের আনন্দ উপভোগ করছিলেন।

স্মৃতির বাইরেও গুরুত্বপূর্ণ আনন্দ

পাখি দেখা বা বার্ডওয়াচিং কেবল সময় কাটানোর একটি উপায় নয়। এতে প্রকৃতির প্রতি মনোযোগ দেওয়া, চারপাশের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করা এবং অন্যদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এমন কার্যক্রম একাকিত্ব কমাতে, যোগাযোগে উৎসাহ দিতে এবং দৈনন্দিন জীবনে আনন্দের মুহূর্ত তৈরি করতে সহায়ক হতে পারে।

গবেষণায় পাখি পর্যবেক্ষণের সঙ্গে মস্তিষ্কের কার্যক্রম ও মানসিক সুস্থতার সম্ভাব্য ইতিবাচক সম্পর্ক নিয়েও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে পাখি দেখলেই স্মৃতিশক্তি বাড়বে কিংবা ডিমেনশিয়া নিরাময় হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। এটি চিকিৎসার বিকল্প নয়; বরং ব্যক্তির আগ্রহ ও সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়ক কার্যক্রম হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।

হ্যারল্ডের অভিজ্ঞতা দেখায়, স্মৃতির দুর্বলতা সত্ত্বেও আনন্দ অনুভব করা, প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করা এবং অন্যদের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করা সম্ভব। কখনো কখনো পরিচিত কোনো পাখির দেখা কিংবা লেকের পানিতে হাঁসের খেলা—এমন ছোট মুহূর্তও কারও জীবনে স্বস্তি ও আনন্দ ফিরিয়ে আনতে পারে।

Comment / Reply From