পুরোনো SSD ভালো রাখতে ৫ বিষয়ে রাখুন নজর
দ্রুতগতির পারফরম্যান্সের কারণে কম্পিউটার ও ল্যাপটপে SSD এখন বেশ জনপ্রিয়। HDD-এর তুলনায় এতে কোনো চলমান যান্ত্রিক অংশ নেই, ফলে গতি ও শারীরিক স্থায়িত্বের দিক থেকে এটি বেশ সুবিধাজনক। তবে SSD-ও চিরস্থায়ী নয়। NAND flash memory-তে নির্দিষ্ট পরিমাণ ডেটা লেখা ও মুছে ফেলার পর ধীরে ধীরে এর কর্মক্ষমতা কমতে পারে।
SSD-এর endurance বোঝাতে নির্মাতারা সাধারণত TBW (Terabytes Written) ব্যবহার করেন। এটি মূলত একটি SSD তার নির্ধারিত আয়ুষ্কালে মোট কত পরিমাণ ডেটা লেখার জন্য তৈরি, তার একটি নির্দেশক। তবে TBW সীমায় পৌঁছালেই যে SSD সঙ্গে সঙ্গে নষ্ট হয়ে যাবে, বিষয়টি এমন নয়। সঠিক ব্যবহার ও নিয়মিত নজরদারির মাধ্যমে পুরোনো SSD-এর ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ কমানো সম্ভব।
১. অপ্রয়োজনীয় বড় ডেটা লেখা কমান
একই SSD-তে বারবার বড় ফাইল ডাউনলোড, মুছে ফেলা ও আবার স্থানান্তর করলে write workload বাড়তে পারে। বিশেষ করে বড় ভিডিও, নিয়মিত ব্যাকআপ বা দীর্ঘদিন রাখার প্রয়োজন নেই—এমন ফাইল SSD-তে জমিয়ে না রাখাই ভালো।
তবে সাধারণ দৈনন্দিন কাজে SSD-এর write endurance নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তারও প্রয়োজন নেই। স্বাভাবিক ব্যবহারে বেশির ভাগ আধুনিক SSD দীর্ঘ সময় ভালোভাবে কাজ করতে পারে।
২. অতিরিক্ত গরম হতে দেবেন না
ভারী ফাইল ট্রান্সফার, গেম খেলা বা ভিডিও এডিটিংয়ের সময় SSD-এর তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে। দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত তাপের মধ্যে থাকলে ড্রাইভের কর্মক্ষমতা ও স্থায়িত্বে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তাই কম্পিউটার কেসের ভেতরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা জরুরি। প্রয়োজন হলে SSD-এর জন্য উপযুক্ত heatsink বা cooling ব্যবস্থাও ব্যবহার করা যেতে পারে।
৩. SSD একেবারে পূর্ণ করে ফেলবেন না
SSD-এর কন্ট্রোলার সাধারণত wear leveling প্রযুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন মেমোরি সেলে লেখার কাজ ছড়িয়ে দেয়। এতে নির্দিষ্ট কিছু সেলের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ার সম্ভাবনা কমে।
ড্রাইভে পর্যাপ্ত খালি জায়গা থাকলে এই ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকরভাবে করা সম্ভব হয়। তাই অপ্রয়োজনীয় ফাইল সরিয়ে রাখা এবং বড় ভিডিও, ছবি বা পুরোনো ব্যাকআপ প্রয়োজনে অন্য ড্রাইভে স্থানান্তর করা ভালো অভ্যাস।
৪. নিয়মিত SSD-এর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন
পুরোনো SSD কতটা ভালো অবস্থায় আছে, তা জানতে নিয়মিত এর health status পরীক্ষা করা যেতে পারে। SSD নির্মাতাদের নিজস্ব সফটওয়্যার কিংবা উপযুক্ত monitoring tool-এর মাধ্যমে সাধারণত drive health, temperature এবং মোট কত ডেটা লেখা হয়েছে—এসব তথ্য দেখা যায়।
এ ছাড়া S.M.A.R.T. বা Self-Monitoring, Analysis and Reporting Technology তথ্য থেকেও ড্রাইভের সম্ভাব্য সমস্যার কিছু ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে।
৫. গুরুত্বপূর্ণ ডেটার বিকল্প কপি রাখুন
SSD যত নির্ভরযোগ্যই হোক, গুরুত্বপূর্ণ ফাইলের একমাত্র কপি হিসেবে এটিকে ব্যবহার করা উচিত নয়। TBW সীমায় পৌঁছানোর আগেও হার্ডওয়্যার বা ইলেকট্রনিক ত্রুটির কারণে SSD নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
তাই গুরুত্বপূর্ণ ছবি, নথি, ভিডিও ও কাজের ফাইলের অন্তত একটি অতিরিক্ত কপি বাহ্যিক স্টোরেজ বা নির্ভরযোগ্য ক্লাউড স্টোরেজে রাখা নিরাপদ। এতে হঠাৎ SSD বিকল হলেও ডেটা হারানোর ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
শেষ কথা
পুরোনো SSD-এর আয়ু বাড়াতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো অপ্রয়োজনীয় write workload কমানো, অতিরিক্ত তাপ এড়িয়ে চলা, পর্যাপ্ত খালি জায়গা রাখা এবং নিয়মিত ড্রাইভের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ডেটার ব্যাকআপ রাখলে SSD হঠাৎ নষ্ট হলেও বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!