রেট্রো ছবি বানিয়ে বিপদে পড়বেন না
আশি-নব্বই দশকের পোশাক, পুরোনো দিনের চুলের স্টাইল কিংবা সেই সময়ের আবহ—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সাহায্যে নিজের ছবিকে এমন রূপ দেওয়া এখন কয়েক সেকেন্ডের ব্যাপার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে রেট্রো লুকের ছবি তৈরির প্রবণতা।
বিনোদনের জন্য বিষয়টি আকর্ষণীয় হলেও তৃতীয় পক্ষের এআই প্ল্যাটফর্মে ব্যক্তিগত ছবি আপলোড করার ক্ষেত্রে রয়েছে কিছু গোপনীয়তা ও নিরাপত্তাঝুঁকি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছবি রূপান্তরের সুবিধা নিতে গিয়ে ব্যবহারকারীরা অজান্তেই নিজেদের সংবেদনশীল তথ্য অন্য প্রতিষ্ঠানের সার্ভারে তুলে দিতে পারেন।
শুধু ছবিই কি আপলোড হচ্ছে?
কোনো এআই অ্যাপে ছবি দেওয়ার অর্থ শুধু ছবিটি সার্ভারে পাঠানো নয়—ছবির সঙ্গে থাকা বিভিন্ন তথ্যও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। ছবির মেটাডেটায় যদি অবস্থান-সংক্রান্ত তথ্য থাকে, সেটিও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে পৌঁছানোর সম্ভাবনা থাকে। একইভাবে ছবির পেছনে থাকা স্থান, প্রতিষ্ঠান বা কোনো পরিচয়পত্রের তথ্যও অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রকাশ হয়ে যেতে পারে।
বিশেষ করে একটি ছবিতে মুখমণ্ডল স্পষ্টভাবে থাকলে সেটি সাধারণ ব্যক্তিগত ছবির চেয়ে বেশি সংবেদনশীল। কারণ পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা সম্ভব হলেও মানুষের মুখের মতো বায়োমেট্রিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করা যায় না।
ডিপফেক থেকে ভুয়া অ্যাকাউন্ট—ঝুঁকি কোথায়?
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, অনিরাপদ প্ল্যাটফর্মে মুখমণ্ডলের ছবি বা কণ্ঠস্বরের নমুনা জমা হলে সেগুলো অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এসব তথ্য ব্যবহার করে ভুয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট তৈরি কিংবা বিভ্রান্তিকর ডিপফেক ভিডিও বানানোর মতো ঘটনা ঘটতে পারে।
আরেকটি বিষয় নিয়েও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কোনো ব্যবহারকারী অ্যাপ বা নিজের অ্যাকাউন্ট মুছে ফেললেও আপলোড করা ছবি সঙ্গে সঙ্গে পুরোপুরি মুছে যাবে—এমন নিশ্চয়তা সবসময় থাকে না। কোনো প্রতিষ্ঠানের ব্যাকআপ সার্ভারে তথ্য থেকে যেতে পারে। আবার প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী এসব তথ্য ভবিষ্যতে এআই মডেল প্রশিক্ষণ বা বাণিজ্যিক কাজেও ব্যবহৃত হতে পারে।
এআই অ্যাপে ছবি দেওয়ার আগে যা দেখবেন
কোনো তৃতীয় পক্ষের এআই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের আগে তাদের Privacy Policy ও Terms of Service পড়ে নেওয়া ভালো। বিশেষ করে আপলোড করা ছবি কতদিন সংরক্ষণ করা হবে, কী কাজে ব্যবহার করা হবে এবং নির্দিষ্ট সময় পর তা মুছে ফেলা হবে কি না—এসব তথ্য খেয়াল করা জরুরি।
অ্যাপটি যদি অপ্রয়োজনীয়ভাবে পুরো গ্যালারি, লোকেশন, ক্যামেরা বা কনট্যাক্টসের অনুমতি চায়, তাহলে সতর্ক হওয়া উচিত। সম্ভব হলে পুরো গ্যালারির পরিবর্তে শুধু যে ছবিটি এডিট করবেন, সেটিরই অ্যাকসেস দেওয়া নিরাপদ।
সংবেদনশীল নথির ছবি আপলোড নয়
রেট্রো লুক বা অন্য কোনো এআই এডিটের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ব্যাংক কার্ড কিংবা এ ধরনের সংবেদনশীল নথির ছবি কোনো এআই টুলে আপলোড করা উচিত নয়।
এআই দিয়ে ছবি রূপান্তরের প্রবণতা হয়তো মজার ও বিনোদনমূলক, কিন্তু প্রতিটি ছবি যে নিরাপদে ব্যবহার হবে, তার নিশ্চয়তা নেই। তাই নতুন কোনো এআই ট্রেন্ডে অংশ নেওয়ার আগে ছবিটি কোথায় যাচ্ছে, কতদিন থাকবে এবং কী কাজে ব্যবহার হতে পারে—এই তিনটি বিষয় ভেবে নেওয়াই নিরাপদ।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!