Dark Mode
Image
  • Thursday, 27 August 2026
পোষা প্রাণী কি সত্যিই মানসিক চাপ কমায়? গবেষণায় মিলল চমকপ্রদ তথ্য

পোষা প্রাণী কি সত্যিই মানসিক চাপ কমায়? গবেষণায় মিলল চমকপ্রদ তথ্য

কর্মব্যস্ত একটি দিন শেষে মানসিক প্রশান্তির জন্য মানুষ নানা ধরনের উপায় বেছে নেন। কেউ গান শোনেন, কেউ বই পড়েন, আবার কেউ সময় কাটান প্রিয় পোষা প্রাণীর সঙ্গে। কুকুরের সঙ্গে খেলাধুলা কিংবা বিড়ালকে কোলে নিয়ে আদর করলে মন ভালো হয়ে যায়—এমন ধারণা বেশ প্রচলিত। কিন্তু পোষা প্রাণীর সঙ্গে সময় কাটানো কি সবসময় মানসিক চাপ কমায়? গবেষণায় উঠে এসেছে, বিষয়টি এতটা সরল নয়।

স্বাভাবিক সময়ে পোষা প্রাণী হতে পারে আনন্দের সঙ্গী

‘ফ্রন্টিয়ার্স ইন সাইকোলজি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় পোষা প্রাণী ও মানুষের মানসিক অবস্থার সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামের গবেষকদের পরিচালিত এই গবেষণায় বিড়াল ও কুকুরের মালিকদের কয়েক দিন ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের মেজাজ, মানসিক চাপ এবং পোষা প্রাণীর সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ার তথ্য একটি অ্যাপের মাধ্যমে দিনে একাধিকবার সংগ্রহ করা হয়।

গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, মানুষ যখন স্বাভাবিক বা তুলনামূলক ভালো মেজাজে থাকেন, তখন কুকুর বা বিড়ালের সঙ্গে সময় কাটানো ইতিবাচক অনুভূতি বাড়াতে পারে। পোষা প্রাণীর সঙ্গে মেলামেশা অনেকের কাছে আনন্দ ও সঙ্গ পাওয়ার অনুভূতি তৈরি করে।

তীব্র চাপের সময়ে পরিস্থিতি ভিন্ন

তবে প্রচণ্ড মানসিক চাপ বা উদ্বেগের মুহূর্তে পোষা প্রাণীর উপস্থিতি সবসময় একই ধরনের উপকার করে না। গবেষণায় দেখা গেছে, তীব্র চাপের সময়ে কুকুরের সঙ্গে সময় কাটালেও মানসিক চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বিড়ালের ক্ষেত্রে ফলাফল ছিল আরও ভিন্ন। তীব্র মানসিক চাপে থাকা অবস্থায় বিড়ালকে আদর বা তার সঙ্গে মেলামেশার চেষ্টা করলে কিছু মালিকের নেতিবাচক অনুভূতি বরং বেড়ে যেতে পারে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

কেন বিড়ালের ক্ষেত্রে এমন হতে পারে?

গবেষকদের ধারণা, এর পেছনে কুকুর ও বিড়ালের স্বভাবগত পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কুকুর সাধারণত মানুষের সঙ্গে বেশি সক্রিয়ভাবে যোগাযোগ করে এবং অনেক ক্ষেত্রে মালিকের আচরণ ও আবেগের প্রতিও সাড়া দেয়।

অন্যদিকে বিড়াল তুলনামূলক স্বাধীনচেতা। তারা সবসময় মানুষের আদর বা শারীরিক সংস্পর্শ পছন্দ নাও করতে পারে। ফলে মালিক যখন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় বিড়ালকে কাছে টানার চেষ্টা করেন, তখন প্রাণীটি দূরে সরে গেলে বা বিরক্তি প্রকাশ করলে পরিস্থিতি আরও অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে।

বিড়ালের শারীরিক ভাষা বোঝাও গুরুত্বপূর্ণ

বিড়াল কখন আদর পছন্দ করছে আর কখন বিরক্ত হচ্ছে, তা বোঝা অনেকের জন্য সহজ নয়। কান পেছনে নেওয়া, লেজ দ্রুত নাড়ানো, শরীর শক্ত করে রাখা কিংবা ফোঁস করে ওঠার মতো আচরণ অস্বস্তির সংকেত হতে পারে। এমন অবস্থায় জোর করে তাকে কোলে নেওয়া বা আদর করা উচিত নয়।

তবে দীর্ঘমেয়াদে পোষা প্রাণীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ

গবেষণার ফলাফল থেকে অবশ্য এমনটা বলা যায় না যে পোষা প্রাণী মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বরং দীর্ঘমেয়াদে পোষা প্রাণী মানুষের একাকীত্ব কমাতে, সামাজিক যোগাযোগ বাড়াতে এবং দৈনন্দিন জীবনে আনন্দ যোগ করতে ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে পোষা প্রাণীকে মানসিক চাপ কমানোর ‘তাৎক্ষণিক সমাধান’ হিসেবে দেখাও ঠিক নয়। বিশেষ করে তীব্র উদ্বেগ বা মানসিক সংকটের সময়ে প্রাণীকে নিজের ইচ্ছামতো আচরণে বাধ্য না করে তার স্বাভাবিক আচরণ ও সীমারেখাকে সম্মান করা জরুরি।

দিন শেষে পোষা প্রাণীর সঙ্গে সম্পর্কও পারস্পরিক বোঝাপড়ার বিষয়। তাই মন খারাপের দিনে প্রিয় বিড়ালটি যদি দূরে থাকতে চায়, তাকে জোর করে কাছে টানার বদলে নিজের মতো থাকার সুযোগ দেওয়াই হতে পারে সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।

Comment / Reply From