Dark Mode
Image
  • Monday, 24 August 2026
পড়াশোনার ফাঁকে কনটেন্ট, প্রথম আয় ১৪–১৫ হাজার

পড়াশোনার ফাঁকে কনটেন্ট, প্রথম আয় ১৪–১৫ হাজার

পড়াশোনার পাশাপাশি কনটেন্ট তৈরি করে অনেক তরুণই গড়ে তুলছেন নিজের পরিচিতি ও ক্যারিয়ার। কেউ এটিকে পেশা হিসেবে নিচ্ছেন, আবার কেউ ভবিষ্যতের দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যেই ক্যাম্পাস জীবন থেকে শুরু করছেন কনটেন্ট তৈরি। তবে ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট, পরীক্ষা ও কনটেন্ট তৈরির ব্যস্ততা একসঙ্গে সামলানো সহজ নয়। তবুও পরিকল্পনা ও সময় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অনেকেই এগিয়ে যাচ্ছেন সফলতার পথে।

এমনই একজন তরুণ কনটেন্ট ক্রিয়েটর পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের সৃজনশীলতা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করেছেন আলাদা পরিচয়। বিবিএ পড়ার পাশাপাশি তিনি যুক্ত রয়েছেন বিভিন্ন ক্লাব কার্যক্রমের সঙ্গেও। অবসর সময়কে কাজে লাগিয়ে নতুন কনটেন্টের পরিকল্পনা, বই পড়া এবং তরুণদের জন্য শিক্ষামূলক ভিডিও তৈরির পাশাপাশি নিজের দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা করেন নিয়মিত।

শুরুটা ছিল খুবই সাধারণ

কনটেন্ট তৈরির শুরুটা খুব বড় কোনো পরিকল্পনা নিয়ে হয়নি। ধীরে ধীরে ভিডিও তৈরি করতে করতে বিষয়টির প্রতি আগ্রহ বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে নিজের সৃজনশীলতা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে পেশাদারভাবে কাজ করার সুযোগ আসে।

একটি ইংরেজি কোচিং সেন্টারের কাজের প্রস্তাবের মধ্য দিয়ে তার পেশাদার কনটেন্ট ক্রিয়েশনের যাত্রা শুরু হয়। সেখানে কাজ করে প্রথমবার সম্মানী হিসেবে পান প্রায় ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা।

নিজের যোগ্যতা ও সৃজনশীলতার বিনিময়ে প্রথম উপার্জনের অভিজ্ঞতা তার কাছে ছিল বিশেষ কিছু। সেই প্রথম সম্মানী শুধু আর্থিক অর্জন ছিল না; বরং নিজের সক্ষমতার ওপর আত্মবিশ্বাসও অনেকটা বাড়িয়ে দেয়।

পড়াশোনা ও কনটেন্ট—দুই দিক সামলানোর চ্যালেঞ্জ

শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি নিয়মিত কনটেন্ট তৈরি করতে গিয়ে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট ও পরীক্ষার প্রস্তুতির সঙ্গে নিয়মিত মানসম্মত কনটেন্ট তৈরির জন্য প্রয়োজন হয় ভালো সময় ব্যবস্থাপনার।

একই সঙ্গে দর্শকদের জন্য নতুন ও কার্যকর কনটেন্ট তৈরি করাও সহজ নয়। প্রতিনিয়ত নতুন বিষয় খুঁজে বের করা, ভিডিওর পরিকল্পনা করা এবং তা দর্শকদের কাছে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করতে যথেষ্ট সময় ও পরিশ্রম প্রয়োজন।

তবে এসব চ্যালেঞ্জকে শেখার অংশ হিসেবেই দেখেছেন তিনি। ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কনটেন্ট তৈরির পাশাপাশি নিজের যোগাযোগ ও উপস্থাপনা দক্ষতাও উন্নত করেছেন।

কনটেন্ট থেকে পাবলিক স্পিকিংয়ে

ভিডিও তৈরির পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে যুক্ত হন পাবলিক স্পিকিং ও তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের কাজে। দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পাবলিক স্পিকার হিসেবে কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।

কনটেন্ট তৈরির মাধ্যমে যে যোগাযোগ দক্ষতা তৈরি হয়েছে, তা বাস্তব জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রেও কাজে লাগছে। বিশেষ করে তরুণদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো, কার্যকর যোগাযোগ শেখানো এবং নিজেদের সম্ভাবনা সম্পর্কে সচেতন করার কাজকে গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।

অনুসারীর সংখ্যা ছাড়িয়ে বড় অর্জন তরুণদের পরিবর্তন

বর্তমানে শুধু ফেসবুকেই তার পেজের অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ। সব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মিলিয়ে অনুসারীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৫ লাখ।

তবে তার কাছে অনুসারীর সংখ্যা সবচেয়ে বড় সাফল্য নয়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, তাদের যোগাযোগ দক্ষতা বাড়ানো এবং আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে পারাটাকেই তিনি নিজের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন।

ভবিষ্যতে তরুণদের দক্ষতা বিকাশ ও শিক্ষার প্রসারে আরও বড় পরিসরে কাজ করার লক্ষ্য রয়েছে তার। পড়াশোনার পাশাপাশি কনটেন্ট তৈরির মাধ্যমে অর্জিত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তরুণদের জন্য আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশাও রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা

ডিজিটাল যুগে কনটেন্ট ক্রিয়েশন শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি তরুণদের জন্য দক্ষতা অর্জন, পরিচিতি তৈরি এবং আয়েরও একটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। পড়াশোনার পাশাপাশি দায়িত্বশীলভাবে কনটেন্ট তৈরির অভিজ্ঞতা ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারেও কাজে লাগতে পারে।

তবে সাফল্যের জন্য পড়াশোনাকে অবহেলা না করে সময় ব্যবস্থাপনা, ধারাবাহিকতা ও মানসম্মত কাজের ওপর গুরুত্ব দেওয়াই সবচেয়ে জরুরি।

Comment / Reply From