ফ্রিজ ভালো রাখতে এই ৮ ভুল এড়িয়ে চলুন
রান্নাঘরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গৃহস্থালি যন্ত্রগুলোর একটি হলো রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজ। প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা, বছরের প্রতিটি দিনই এটি নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে। তাই দীর্ঘদিন ভালোভাবে ব্যবহার করতে চাইলে নিয়মিত যত্ন নেওয়া জরুরি।
অযত্নে থাকলে ফ্রিজ থেকে দুর্গন্ধ বের হতে পারে, খাবার দ্রুত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে, বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যায় এবং কম্প্রেসরের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ করলে ফ্রিজের কার্যক্ষমতা দীর্ঘদিন ধরে বজায় রাখা সম্ভব।
আমেরিকান ক্লিনিং ইনস্টিটিউট (ACI) এবং খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ফ্রিজের যত্নে নিচের আটটি বিষয় মেনে চলা উচিত।
১. সঠিক তাপমাত্রা বজায় রাখুন
ফ্রিজের কার্যকারিতা বজায় রাখতে এর ভেতরের তাপমাত্রা ঠিক রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (FDA)-এর নির্দেশনা অনুযায়ী, ফ্রিজের তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৪০°F)-এর নিচে এবং ডিপ ফ্রিজের তাপমাত্রা -১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস (০°F) রাখা উচিত। এতে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি কমে এবং খাবার দীর্ঘদিন নিরাপদ থাকে।
২. অতিরিক্ত ভর্তি বা একেবারে খালি রাখবেন না
অনেকেই ফ্রিজে অতিরিক্ত খাবার গাদাগাদি করে রাখেন। এতে ঠান্ডা বাতাস ঠিকভাবে চলাচল করতে পারে না এবং সব খাবার সমানভাবে ঠান্ডা হয় না।
আবার একেবারে খালি ফ্রিজেও কম্প্রেসরকে বেশি কাজ করতে হয়। তাই বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, ফ্রিজের অন্তত ২০ শতাংশ জায়গা খালি রাখা উচিত, যাতে বাতাস সহজে চলাচল করতে পারে।
৩. কনডেন্সার কয়েল পরিষ্কার করুন
ফ্রিজের পেছনে বা নিচে থাকা কনডেন্সার কয়েল তাপ বাইরে বের করে দেয়। সময়ের সঙ্গে এতে ধুলাবালি জমে গেলে ফ্রিজের কার্যক্ষমতা কমে যায় এবং বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যায়।
বছরে অন্তত দুইবার নরম ব্রাশ বা ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে কয়েল পরিষ্কার করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
৪. গরম খাবার সরাসরি ফ্রিজে রাখবেন না
রান্না করা গরম খাবার সরাসরি ফ্রিজে রাখলে ভেতরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। এতে শুধু নতুন রাখা খাবারই নয়, আগে থেকে সংরক্ষিত খাবারও নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে।
খাবার স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ঠান্ডা হওয়ার পরই ফ্রিজে সংরক্ষণ করা উচিত।
৫. দরজার রাবার (গ্যাসকেট) পরীক্ষা করুন
ফ্রিজের দরজার চারপাশে থাকা রাবার বা গ্যাসকেট ঠান্ডা বাতাস বাইরে বের হতে বাধা দেয়।
রাবার ঢিলা বা ছিঁড়ে গেলে ঠান্ডা বাতাস বেরিয়ে যায় এবং কম্প্রেসরকে অতিরিক্ত কাজ করতে হয়। এটি পরীক্ষা করতে দরজার মাঝে একটি কাগজ রেখে বন্ধ করুন। যদি সহজেই কাগজ বের হয়ে আসে, তাহলে গ্যাসকেট পরিবর্তনের সময় হয়েছে।
৬. প্রাকৃতিক উপায়ে দুর্গন্ধ দূর করুন
ফ্রিজের দুর্গন্ধ দূর করতে রাসায়নিক স্প্রে ব্যবহার না করাই ভালো।
এর পরিবর্তে একটি ছোট বাটিতে বেকিং সোডা বা কয়েক টুকরো কাঠকয়লা রেখে দিলে তা দুর্গন্ধ ও অতিরিক্ত আর্দ্রতা শোষণ করে। এছাড়া লেবুর রস দিয়ে ফ্রিজের ভেতর মুছে নিলেও সতেজ সুবাস বজায় থাকে।
৭. দেয়ালের সঙ্গে ঠেসে রাখবেন না
ফ্রিজ বসানোর সময় দেয়ালের সঙ্গে একেবারে লাগিয়ে রাখা উচিত নয়।
ফ্রিজের পেছনে এবং দুই পাশে অন্তত ১ থেকে ২ ইঞ্চি ফাঁকা জায়গা রাখলে গরম বাতাস সহজে বের হতে পারে এবং কম্প্রেসরের ওপর চাপ কম পড়ে।
৮. নিয়মিত পরিষ্কার ও ডিফ্রোস্ট করুন
যেসব ফ্রিজে অটো ডিফ্রোস্ট সুবিধা নেই, সেগুলোতে বরফ আধা ইঞ্চির মতো জমলে ফ্রিজ বন্ধ করে বরফ গলিয়ে পরিষ্কার করা উচিত।
বরফ কাটতে কখনো ছুরি বা ধারালো বস্তু ব্যবহার করবেন না। এছাড়া প্রতি মাসে অন্তত একবার ফ্রিজের প্লাগ খুলে তাকগুলো বের করে কুসুম গরম পানি ও হালকা ডিটারজেন্ট দিয়ে পরিষ্কার করলে ফ্রিজ দীর্ঘদিন ভালো থাকে।
দীর্ঘদিন ভালো রাখতে নিয়মিত যত্নই যথেষ্ট
ফ্রিজের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ শুধু এর আয়ু বাড়ায় না, বরং বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে এবং খাবারের গুণগত মানও দীর্ঘদিন অক্ষুণ্ন রাখে। তাই ছোট ছোট অভ্যাসে পরিবর্তন এনে ফ্রিজকে রাখুন সবসময় নতুনের মতো সচল।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!