বন্ধ এসি চালুর আগে যা জানা জরুরি
গরম শুরু হতেই অনেকেই আবার চালু করছেন ঘরের এসি। তবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর হঠাৎ এসি চালু করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে শুধু ঠাণ্ডা কম আসে না, বরং বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যাওয়া, দুর্গন্ধ ছড়ানো এমনকি বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটিও দেখা দিতে পারে।
ঢাকার একাধিক এসি সার্ভিসিং বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালে এসি বন্ধ থাকলে এর ফিল্টারে ধুলো জমে, ইনডোর ইউনিটে পোকামাকড় বাসা বাঁধে, এমনকি অনেক সময় টিকটিকি বা অন্যান্য প্রাণী মারা পড়ে থাকে। এসব পরিষ্কার না করে চালু করলে শর্ট সার্কিট বা সার্কিট বোর্ড ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
কেন সার্ভিসিং জরুরি?
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে এসির বিভিন্ন অংশে সমস্যা তৈরি হয়—
- ফিল্টার ও কুলিং কয়েলে ধুলা জমে বাতাস চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়
- আউটডোর ইউনিটে পাতা ও ময়লা জমে তাপ নির্গমন কমে যায়
- রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস কমে যেতে পারে
- ড্রেন পাইপ ব্লক হয়ে পানি পড়ার সমস্যা দেখা দেয়
- পিসিবিতে পোকামাকড় থাকলে শর্ট সার্কিটের ঝুঁকি বাড়ে
এসব কারণে এসির কম্প্রেসরের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং যন্ত্রের আয়ু কমে যায়।
চালুর আগে যা করতেই হবে
ফিল্টার পরিষ্কার বা পরিবর্তন
ধুলো জমে গেলে ঠাণ্ডা কম আসে ও দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। প্রয়োজন হলে নতুন ফিল্টার ব্যবহার করতে হবে।
ইনডোর ইউনিট পরিষ্কার
কুলিং কয়েল ও ব্লোয়ারে ময়লা জমলে পারফরম্যান্স কমে যায়। টেকনিশিয়ান দিয়ে গভীর পরিষ্কার করানো ভালো।
আউটডোর ইউনিট পরীক্ষা
বাইরে থাকা অংশে জমে থাকা ধুলো ও পাতা পরিষ্কার করতে হবে, যাতে তাপ ঠিকমতো বের হতে পারে।
গ্যাস লেভেল চেক
গ্যাস কমে গেলে কুলিং কমে যায়। লিক থাকলে তা ঠিক করে রিফিল করতে হবে।
ড্রেন পাইপ পরিষ্কার
পাইপ ব্লক থাকলে পানি ঘরে পড়তে পারে, তাই নিয়মিত পরিষ্কার জরুরি।
বৈদ্যুতিক সংযোগ পরীক্ষা
তার ঢিলা বা শর্ট সার্কিটের ঝুঁকি এড়াতে সংযোগ ও রিমোট ঠিক আছে কি না দেখে নিতে হবে।
কতদিন পরপর সার্ভিসিং করবেন?
- বাসাবাড়িতে বছরে অন্তত ২ বার
- বেশি ব্যবহার হলে আরও ঘনঘন
- অফিস বা বাণিজ্যিক ব্যবহারে ৩–৪ মাস পরপর
সার্ভিসিংয়ের ধরন ও খরচ
- বেসিক ক্লিনিং: ৭০০–১০০০ টাকা (নিজেও করা যায়)
- মাস্টার সার্ভিসিং: ২৫০০–৩০০০ টাকা
- গ্যাস রিফিল: ৩০০০–৫০০০ টাকা
ওয়ারেন্টি থাকলে ব্র্যান্ড সার্ভিস সেন্টারে কম খরচে বা বিনামূল্যে সার্ভিস পাওয়া যেতে পারে।
শেষ কথা
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এসি সরাসরি চালু না করে আগে ভালোভাবে পরীক্ষা ও সার্ভিসিং করানোই সবচেয়ে নিরাপদ। এতে যেমন যন্ত্রের আয়ু বাড়বে, তেমনি কমবে বিদ্যুৎ খরচ এবং মিলবে সর্বোচ্চ কুলিং পারফরম্যান্স।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!