Dark Mode
Image
  • Monday, 15 June 2026
ব্রাহ্মণপাড়ায় বিলুপ্তির পথে থানকুনি পাতা 🌿

ব্রাহ্মণপাড়ায় বিলুপ্তির পথে থানকুনি পাতা 🌿

একসময় গ্রামবাংলার অতি পরিচিত ভেষজ উদ্ভিদ থানকুনি পাতা সহজেই দেখা যেত রাস্তার ধারে, খাল-বিলের পাড়ে কিংবা বাড়ির আঙিনায়। কিন্তু Brahmanpara Upazila-তে এখন ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে এই পরিচিত সবুজ গাছ।

স্থানীয়দের মতে, আগের মতো আর সহজলভ্য নয় থানকুনি। যা একসময় স্বাভাবিকভাবে জন্মাতো, এখন তা খুঁজে পেতেই কষ্ট হচ্ছে।

ভেষজ গুণে সমৃদ্ধ এক উদ্ভিদ

Centella asiatica, যা থানকুনি নামে পরিচিত, গ্রামবাংলায় দীর্ঘদিন ধরে প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। পেটের সমস্যা, গ্যাস্ট্রিক, আমাশয়, ক্ষত নিরাময় এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে এই গাছের ব্যবহার রয়েছে।

একসময় বয়স্কদের পাশাপাশি তরুণদের মধ্যেও থানকুনি পাতার রস বা ভর্তা খাওয়ার প্রবণতা ছিল।

কমে যাওয়ার কারণ

স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহলের মতে, কয়েকটি কারণে এই ভেষজ গাছটির স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—

অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার

খাল-বিল ও জলাশয় ভরাট হয়ে যাওয়া

অপরিকল্পিত বসতবাড়ি ও স্থাপনা নির্মাণ

এই সব কারণে থানকুনির প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংস হচ্ছে, ফলে গাছটি স্বাভাবিকভাবে জন্মানোর সুযোগ হারাচ্ছে।

বাজারেও প্রভাব

ব্রাহ্মণপাড়া বাজারের বিক্রেতারা জানান, আগে স্থানীয় এলাকা থেকেই সহজে থানকুনি সংগ্রহ করা যেত। এখন অনেক সময় অন্য এলাকা থেকে আনতে হয়, যার কারণে এর দামও বেড়ে গেছে।

সংরক্ষণের আহ্বান

স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, থানকুনি শুধু একটি গাছ নয়—এটি আমাদের ঐতিহ্য এবং প্রাকৃতিক চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তারা জানান, বাড়ির আঙিনা বা টবে খুব সহজেই এই গাছ চাষ করা সম্ভব। প্রয়োজন শুধু কিছুটা সচেতনতা ও উদ্যোগ।

উপজেলাবাসীর প্রত্যাশা, স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ ভেষজ গাছ সংরক্ষণে উদ্যোগ নিলে থানকুনি পাতাকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।

Comment / Reply From