ভ্রমণপিপাসুদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় কেন বিশেষ আকর্ষণ
যুক্তরাষ্ট্রে শরৎকাল মানেই শুধু প্রকৃতির রঙ বদল নয়, বরং লাখো শিক্ষার্থীর ক্যাম্পাসে ফিরে আসার উৎসবমুখর সময়। এই সময় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হয়ে ওঠে প্রাণচঞ্চল ও দর্শনীয়, যা ভ্রমণপ্রেমীদের কাছেও এক অনন্য অভিজ্ঞতার সুযোগ এনে দেয়।
বিশ্বের অনেক দেশে বিশ্ববিদ্যালয় কেবল পাঠদানের জায়গা হলেও যুক্তরাষ্ট্রে ক্যাম্পাসগুলো ছোট শহরের মতোই বিস্তৃত। আধুনিক রেস্টুরেন্ট, ঐতিহাসিক ভবন, জাদুঘর, আর বিস্তীর্ণ সবুজ পার্কে ঘেরা এসব ক্যাম্পাসে গড়ে উঠেছে নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। হলিউডের বহু জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের পটভূমিও তৈরি হয়েছে এই ক্যাম্পাস জীবনকে ঘিরেই।
অনেকে ভাবেন, কলেজ ফুটবল ম্যাচ বা বিশাল খোলা আকাশের নিচে পার্টির দৃশ্য কেবল সিনেমার কল্পনা। বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়েই এসব আয়োজন দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে, ফলে বিদেশি পর্যটকরাও উপভোগ করতে পারেন একেবারে ‘খাঁটি আমেরিকান’ অভিজ্ঞতা।
কলেজ ফুটবলের উন্মাদনা
আগস্ট থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে কলেজ ফুটবল মৌসুম চলে। দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে এই খেলাই যেন বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রাণ। ম্যাচের আগে পার্কিং লটে বসে ‘টেইলগেট পার্টি’—খাবার, গান আর আড্ডায় রীতিমতো উৎসবের আমেজ তৈরি করে।
মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘দ্য বিগ হাউস’ স্টেডিয়াম বিশ্বের সবচেয়ে বড়গুলোর একটি, যেখানে একসঙ্গে ১ লাখ ৭ হাজার দর্শক খেলা দেখতে পারেন। পেন স্টেট ইউনিভার্সিটির বিখ্যাত ‘হোয়াইট আউট’ ইভেন্টে পুরো গ্যালারি সাদা পোশাকে ভরে ওঠে। আবার লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটির টেইলগেট পার্টিতে স্থানীয় খাবার গাম্বো ও ক্রেফিশের সঙ্গে সঙ্গীত যোগ করে ভিন্ন মাত্রা।
ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের টান
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রাচীনতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রতিষ্ঠিত ১৬৩৬ সালে। এখানকার ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম ও ২৮১ একরের আর্নল্ড আর্বোরেটাম পর্যটকদের আকর্ষণের বড় কেন্দ্র।
প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাথরের স্থাপনা ও সবুজ প্রাঙ্গণ ইতিহাসপ্রেমীদের মুগ্ধ করে। একসময় এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অস্থায়ী রাজধানী। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় গথিক স্থাপত্য ও বিনামূল্যে ঘুরে দেখার সুযোগ থাকা বাইনেকি রেয়ার বুক লাইব্রেরি ও পিবডি মিউজিয়ামের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।
কৃষ্ণাঙ্গ ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষ্য
‘হিস্টোরিক্যালি ব্ল্যাক কলেজেস অ্যান্ড ইউনিভার্সিটিজ’ যুক্তরাষ্ট্রের কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীর শিক্ষা ও সংগ্রামের ইতিহাস বহন করে। দাসপ্রথার সময় যাদের শিক্ষার সুযোগ ছিল না, তাদের জন্য ১৮৩৭ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর যাত্রা শুরু।
আটলান্টার মোরহাউস কলেজ থেকে পড়েছেন মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র। আলাবামার টাসকিগি বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে জর্জ ওয়াশিংটন কার্ভার মিউজিয়াম। ওয়াশিংটন ডিসির হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের হোমকামিং উৎসব এবং স্পেলম্যান কলেজের আর্ট মিউজিয়াম দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে।
সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শুধু পড়াশোনার কেন্দ্র নয়, বরং ইতিহাস, সংস্কৃতি ও বিনোদনের এক অনন্য ভ্রমণগন্তব্য। ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য এগুলো হতে পারে স্মরণীয় অভিজ্ঞতার ঠিকানা।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!