Dark Mode
Image
  • Thursday, 29 January 2026

বইই গড়ে ভবিষ্যৎ: জ্ঞান, সাফল্য ও মানসিক সুস্থতার নির্ভরযোগ্য সঙ্গী

বইই গড়ে ভবিষ্যৎ: জ্ঞান, সাফল্য ও মানসিক সুস্থতার নির্ভরযোগ্য সঙ্গী

বই মানুষের ভবিষ্যৎ গড়ার নীরব কারিগর। বিশ্বের প্রায় সব সফল ও খ্যাতিমান ব্যক্তির জীবন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়—তাঁদের সাফল্যের পেছনে বইয়ের অবদান অনস্বীকার্য। বই পড়ে অর্জিত জ্ঞান বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করেই তাঁরা নিজেদের লক্ষ্যে পৌঁছেছেন।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ যথার্থই বলেছেন, একেকটা বই একেকটা জানালার মতো—যে জানালা দিয়ে ভবিষ্যৎ দেখা যায়। অর্থাৎ বই মানুষকে কেবল বর্তমান বোঝায় না, বরং আগামীর পথও দেখায়।

বিশ্বখ্যাত বিনিয়োগকারী Warren Buffett পেশাজীবনের শুরুতে প্রতিদিন ৬০০ থেকে ১০০০ পৃষ্ঠা বই পড়তেন। Bill Gates বছরে অন্তত ৫০টি বই শেষ করেন। Elon Musk রকেট সায়েন্সের জ্ঞান অর্জন করেছেন বই পড়ার মাধ্যমেই। Mark Cuban প্রতিদিন তিন ঘণ্টার বেশি সময় বই পড়েন। লক্ষণীয় বিষয় হলো—এত সফল হওয়ার পরও তাঁরা জ্ঞানচর্চা থেকে দূরে সরে যাননি।

শুধু জ্ঞান নয়, শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্যও চিকিৎসকরা প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা বই পড়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। বই পড়ার এমনই কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা তুলে ধরা হলো—

 ১. জ্ঞান অর্জন ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা

বই পড়ার মূল উদ্দেশ্যই হলো জ্ঞানার্জন। যারা নিয়মিত বই পড়ে এবং সেই জ্ঞান বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে পারে, তারাই জীবনের সংকটময় মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হয়। বই পড়ার মাধ্যমে মস্তিষ্কের তথ্য ধারণক্ষমতা বাড়ে, যা যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সহায়ক ভূমিকা রাখে।

২. মানসিক উদ্দীপনা ও হতাশা কমায়

বর্তমান প্রজন্মের বড় একটি সমস্যা হলো মানসিক চাপ ও হতাশা। বই পড়া মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে এবং নেতিবাচক চিন্তা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত পড়াশোনা Dementia ও Alzheimer’s-এর মতো রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

৩. মনোযোগ ক্ষমতা বৃদ্ধি

পূর্ণ মনোযোগ ছাড়া কোনো কাজে সফলতা আসে না। বই পড়া মনোযোগ বাড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর অনুশীলন। বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা Attention Deficit সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের জন্য নিয়মিত বই পড়া অত্যন্ত উপকারী।

৪. শব্দভাণ্ডার ও প্রকাশভঙ্গির উন্নয়ন

বই মানুষের শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ করে। যে ব্যক্তি যত বেশি বই পড়ে, তার ভাষা তত বেশি প্রাঞ্জল ও শক্তিশালী হয়। উন্নত শব্দভাণ্ডার ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়তা করে।

৫. মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়

শান্ত পরিবেশে বই পড়া মানসিক চাপ কমায় এবং এক ধরনের প্রশান্তি এনে দেয়। সারাদিন কাজের পর সোশ্যাল মিডিয়া বা টিভির বদলে বই পড়লে চোখের ক্ষতি কম হয় এবং বিশ্রামের পাশাপাশি জ্ঞান অর্জনও সম্ভব হয়।

 ৬. স্মৃতিশক্তি শক্তিশালী করে

নিয়মিত বই পড়লে মস্তিষ্কের স্মৃতিশক্তি বাড়ে। অল্প অল্প করে প্রতিদিন পড়ার অভ্যাস গড়ে তুললে দীর্ঘদিন আগের তথ্যও সহজে মনে রাখা যায়। ফলে শেখার ক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।

সব মিলিয়ে বলা যায়, বই কেবল জ্ঞানার্জনের মাধ্যম নয়—এটি মানসিক সুস্থতা, আত্মবিশ্বাস ও সফল জীবনের অন্যতম চাবিকাঠি।

**সূত্র: ইয়ুথ কার্নিভাল**

Comment / Reply From