প্রযুক্তিপটু কিন্তু একাডেমিকে পিছিয়ে? জেন-জি নিয়ে গবেষণার দাবি
১৯৯৭ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া প্রজন্মকে বলা হয় জেনারেশন জেড বা জেন-জি। প্রযুক্তির সঙ্গে বেড়ে ওঠা এই প্রজন্মকে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি প্রযুক্তিপটু হিসেবে দেখা হয়। স্মার্টফোন, সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে তারা দক্ষ। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, একাডেমিক দক্ষতায় তারা আগের প্রজন্মের তুলনায় পিছিয়ে পড়ছে।
শীর্ষস্থানীয় স্নায়ুবিজ্ঞানী জ্যারেড কুনি হরভাথ দাবি করেছেন, আধুনিক ইতিহাসে এই প্রথম কোনো প্রজন্ম নিয়মিতভাবে আগের প্রজন্মের তুলনায় খারাপ ফল করছে। কংগ্রেসে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, স্ট্যান্ডার্ড একাডেমিক পরীক্ষায় জেন-জির ফলাফল মিলেনিয়ালদের তুলনায় কম।
কোন কোন ক্ষেত্রে পিছিয়ে?
কগনেটিভ ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করা এই গবেষক জানান, মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি, সাক্ষরতা, সংখ্যাজ্ঞান, সমস্যা সমাধান দক্ষতা এবং সামগ্রিক আইকিউ—প্রায় সব জ্ঞানীয় সূচকেই জেন-জি আগের প্রজন্মের তুলনায় দুর্বল পারফরম্যান্স দেখিয়েছে।
তার দাবি, গত প্রায় ১৫০ বছর ধরে একাডেমিক মানদণ্ডে প্রতিটি প্রজন্ম আগের প্রজন্মকে ছাড়িয়ে গেছে। কিন্তু জেন-জি সেই ধারাকে ভেঙে দিয়েছে। ৮০টি দেশের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, স্কুলে ব্যাপকভাবে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার পর শিক্ষার্থীদের পারফরম্যান্সে উল্লেখযোগ্য অবনতি হয়েছে।
প্রযুক্তিই কি দায়ী?
হরভাথ প্রযুক্তিবিরোধী নন। তবে তাঁর মতে, জেন-জি হলো প্রথম প্রজন্ম যারা দীর্ঘ সময় ডিজিটাল স্ক্রিনে কাটায়। একজন কিশোর জেগে থাকার সময়ের অর্ধেকের বেশি সময় স্ক্রিনে ব্যয় করে। এর ফলে মনোযোগের ঘাটতি ও গভীরভাবে শেখার সক্ষমতা কমে যেতে পারে।
তিনি বলেন, স্ক্রিনভিত্তিক শিক্ষায় সাধারণত সারাংশ বা বুলেট-পয়েন্ট নির্ভর তথ্য বেশি থাকে। ফলে শিক্ষার্থীরা বিষয়বস্তুর গভীরে না গিয়ে ভাসা-ভাসা জ্ঞান অর্জন করে। হাতে-কলমে শিক্ষা, সরাসরি আলোচনা ও বিশ্লেষণধর্মী চর্চার বিকল্প হিসেবে ডিজিটাল স্ক্রিন কার্যকর নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস?
গবেষণায় আরও একটি বিষয় উঠে এসেছে—অনেক জেন-জি নিজেদের বুদ্ধিমত্তা নিয়ে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী। বাস্তব দক্ষতা ও আত্মমূল্যায়নের মধ্যে ব্যবধান থাকতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন গবেষক।
সমাধান কী?
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি পুরোপুরি বাদ দেওয়া সম্ভব নয় এবং তা প্রয়োজনও নেই। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রযুক্তি ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি। শিক্ষার মানোন্নয়নে ভারসাম্যপূর্ণ পদ্ধতি—যেখানে ডিজিটাল ও হাতে-কলমে শেখা একসঙ্গে থাকবে—সেটিই হতে পারে কার্যকর সমাধান।
উল্লেখ্য, এসব তথ্য নিউইয়র্ক পোস্টে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে উঠে এসেছে।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!