কানাডায় মাস্টার্স করতে চাইলে যেসব তথ্য জানা জরুরি
উন্নত জীবনমান, বিশ্বমানের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং তুলনামূলক সহজ অভিবাসন নীতির কারণে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে কানাডা এখন উচ্চশিক্ষার অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য। বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে স্নাতক (অনার্স) শেষ করে মাস্টার্স বা পিএইচডির জন্য আবেদন করাকে বিশেষজ্ঞরা সবচেয়ে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন। কারণ এই পর্যায়ে বৃত্তি ও ফান্ডিং পাওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।
আবেদন করার সঠিক সময়
কানাডার অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে সেপ্টেম্বর সেশনকে কেন্দ্র করে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সাধারণত আগের বছরের নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যেই আবেদন সম্পন্ন করতে হয়। তবে বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে সময়সীমায় কিছুটা পার্থক্য থাকতে পারে। অভিজ্ঞদের মতে, যত দ্রুত আবেদন করা যায়, তত বেশি স্কলারশিপ ও ফান্ডিং পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
প্রয়োজনীয় নথিপত্র
স্নাতকোত্তর বা পিএইচডিতে আবেদনের সময় শিক্ষার্থীদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে—
অনার্স ও মাস্টার্সের ট্রান্সক্রিপ্ট ও সনদ
ইংরেজি ভাষার দক্ষতার প্রমাণ (IELTS বা TOEFL)
২–৩টি একাডেমিক সুপারিশপত্র
উদ্দেশ্যপত্র (Statement of Purpose)
একাডেমিক যোগ্যতা ও ভাষার দক্ষতা
সাধারণভাবে সিজিপিএ ৩.২৫ বা তার বেশি থাকলে আবেদনকে নিরাপদ ধরা হয়। তবে ফল যত ভালো হবে, ভর্তি ও স্কলারশিপ পাওয়ার সম্ভাবনাও তত বাড়বে। ইংরেজি দক্ষতার ক্ষেত্রে অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে IELTS স্কোর ৬.০ থেকে ৭.০ প্রয়োজন হয়। কিছু প্রতিষ্ঠান ‘মিডিয়াম অব ইনস্ট্রাকশন’ গ্রহণ করলেও নির্দিষ্ট বিষয়ে GRE বা GMAT চাওয়া হতে পারে।
সুপারিশপত্র ও উদ্দেশ্যপত্রের গুরুত্ব
সুপারিশপত্র সাধারণত সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় সরাসরি শিক্ষকের কাছে ইমেইলের মাধ্যমে চেয়ে নেয়। তাই শিক্ষকদের প্রাতিষ্ঠানিক ইমেইল ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে উদ্দেশ্যপত্র আবেদন প্রক্রিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখানে কেন নির্দিষ্ট বিষয়ে পড়তে চান, কেন কানাডা বেছে নিয়েছেন এবং ভবিষ্যৎ লক্ষ্য কী—এসব বিষয় স্পষ্ট ও যুক্তিসংগতভাবে তুলে ধরতে হয়।
আবেদন ফি ও আর্থিক সহায়তা
বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে আবেদন ফি সাধারণত ১৫০ থেকে ২৫০ কানাডিয়ান ডলার পর্যন্ত হতে পারে। তবে বাংলাদেশ নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ হওয়ায় কিছু বিশ্ববিদ্যালয় আবেদন ফি মওকুফ করে থাকে—যেমন University of Alberta।
থিসিসভিত্তিক মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রামে প্রায় সব শিক্ষার্থীই বৃত্তি বা ফান্ডিং পান। এই ফান্ডিংয়ের আওতায় গবেষণা সহকারী (RA) বা শিক্ষক সহকারী (TA) হিসেবে থাকা-খাওয়ার খরচ বহন করা হয়। নন-থিসিস প্রোগ্রামে নিজস্ব অর্থায়নে পড়াশোনা করতে হলেও শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে নির্দিষ্ট সময় কাজ করার সুযোগ পান, যেখানে ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় প্রায় ১৫ ডলার।
বিষয় নির্বাচনে রয়েছে বিস্তৃত সুযোগ
অনেকের ধারণা, কানাডা শুধু বিজ্ঞান বা প্রকৌশল শিক্ষার জন্য উপযুক্ত—যা পুরোপুরি সঠিক নয়। এখানে কলা, সামাজিক বিজ্ঞান, পাবলিক হেলথ, সংগীত, রাজনীতি থেকে শুরু করে ন্যানোটেকনোলজির মতো পাঁচ শতাধিক বিষয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে বিষয় পরিবর্তন করেও উচ্চশিক্ষা নেওয়া সম্ভব।
অতিরিক্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
কিছু কানাডিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের সময় ডিগ্রির মান যাচাইয়ের জন্য WES বা সমমানের Credential Evaluation প্রয়োজন হয়। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে এক থেকে দুই মাস সময় লাগতে পারে, তাই আগেভাগে প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।
পড়াশোনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা বর্তমানে সপ্তাহে প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে পারেন। বড় শহরের তুলনায় ছোট প্রদেশগুলোতে জীবনযাত্রার ব্যয় কম হওয়ায় সেখানে পড়াশোনা করা তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!