Dark Mode
Image
  • Friday, 30 January 2026

মঙ্গলে মানব বসতির পথে নতুন আশা: পৃথিবীর দুই অণুজীবই ভরসা

মঙ্গলে মানব বসতির পথে নতুন আশা: পৃথিবীর দুই অণুজীবই ভরসা

দীর্ঘদিন ধরেই মঙ্গল গ্রহকে মানুষের বসবাসের উপযোগী করে তোলার স্বপ্ন দেখছেন বিজ্ঞানীরা। প্রতিকূল পরিবেশ, অক্সিজেনের অভাব এবং তীব্র মহাজাগতিক বিকিরণ—সব মিলিয়ে এই লাল গ্রহে মানব বসতি স্থাপন এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণা সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।

গবেষকদের দাবি, পৃথিবীতে বিদ্যমান মাত্র দুটি অণুজীব ব্যবহার করেই মঙ্গলের রুক্ষ পরিবেশে মানুষের জন্য নিরাপদ আবাসস্থল গড়ে তোলা সম্ভব হতে পারে। এই অণুজীবগুলো মঙ্গলের আলগা ও ধুলোময় মাটিকে শক্ত নির্মাণসামগ্রীতে রূপান্তর করতে সক্ষম, পাশাপাশি অক্সিজেন উৎপাদনেও ভূমিকা রাখবে।

বিজ্ঞান সাময়িকী Frontiers in Microbiology-তে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, এই প্রক্রিয়ায় মূলত দুটি অণুজীব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এর মধ্যে প্রথমটি হলো Sporosarcina pasteurii। এই ব্যাকটেরিয়াটি ‘ইউরিওলাইসিস’ নামের এক রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্যালসিয়াম কার্বনেট তৈরি করে, যা মঙ্গলের ধূলিকণাকে কংক্রিটের মতো শক্ত করে তোলে। এই পদ্ধতিকে বলা হচ্ছে ‘বায়োসিমেন্টেশন’।

দ্বিতীয় অণুজীবটি হলো Chroococcidiopsis, যা এক ধরনের সায়ানোব্যাকটেরিয়া। এটি চরম প্রতিকূল ও উচ্চ বিকিরণযুক্ত পরিবেশেও টিকে থাকতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই ব্যাকটেরিয়া সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে অক্সিজেন উৎপাদন করতে সক্ষম, যা মঙ্গলে মানুষের জীবনধারণের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

গবেষকদের মতে, এই দুই অণুজীব একসঙ্গে ব্যবহার করলে মঙ্গলের স্থানীয় মাটি দিয়েই শক্ত ও পুরু দেয়ালের স্থাপনা তৈরি করা সম্ভব হবে। এতে একদিকে যেমন পৃথিবী থেকে ভারী নির্মাণসামগ্রী পাঠানোর বিপুল খরচ কমবে, অন্যদিকে মঙ্গলের পাতলা বায়ুমণ্ডল ও কসমিক রেডিয়েশন থেকে মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া সহজ হবে।

উল্লেখ্য, পৃথিবী থেকে মাত্র এক কেজি নির্মাণসামগ্রী মঙ্গলে পাঠাতেই কয়েক কোটি টাকা ব্যয় হয়। সেই তুলনায় স্থানীয় সম্পদ ব্যবহার করে আবাসন নির্মাণ মহাকাশ গবেষণায় একটি অত্যন্ত সাশ্রয়ী ও টেকসই সমাধান।

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই বায়োসিমেন্টেশন প্রযুক্তি ভবিষ্যতে মঙ্গলে শুধু ঘরবাড়ি নির্মাণই নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে মানব বসতি গড়ে তোলার ভিত্তি তৈরি করতে পারে। লাল গ্রহে মানুষের বসবাসের স্বপ্ন বাস্তবের আরও এক ধাপ কাছে চলে এসেছে বলেই মনে করছেন তারা।

Comment / Reply From

You May Also Like