সৃষ্টির প্রতি দয়াই আল্লাহর সন্তুষ্টির পথ
সৃষ্টিকে ভালোবাসলেই মেলে স্রষ্টার সন্তুষ্টি
ইসলামে মানুষের পাশাপাশি পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণী ও সৃষ্টির প্রতি দয়া, মমতা ও সহানুভূতি প্রদর্শনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কারণ, সমগ্র সৃষ্টিজগৎ মহান আল্লাহর সৃষ্টি এবং প্রতিটি প্রাণী তাঁরই স্নেহ ও রহমতের আওতায় রয়েছে। তাই কোনো জীবের প্রতি দয়া প্রদর্শন করা যেমন ইবাদতের অংশ, তেমনি অকারণে কষ্ট দেওয়া গুরুতর অন্যায়।
সব সৃষ্টি আল্লাহর নিদর্শন
পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম প্রাণী থেকে শুরু করে বিশালাকার জীবজন্তু—সবই মহান আল্লাহর অসীম ক্ষমতা ও সৃষ্টিশৈলীর নিদর্শন। তিনি প্রত্যেক প্রাণীর রিজিকের ব্যবস্থা করেন এবং তাদের প্রতিটি অবস্থার খবর রাখেন। পাহাড়, নদী, সমুদ্র কিংবা আকাশ—সবখানেই তাঁর সৃষ্টির বিস্ময় ছড়িয়ে রয়েছে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন,
"তারা কি তাদের মাথার ওপর উড়ন্ত পাখিদের দেখে না? তারা কখনো ডানা বিস্তার করে, কখনো গুটিয়ে নেয়। পরম করুণাময় আল্লাহই তাদের স্থির রাখেন। নিশ্চয়ই তিনি সবকিছু দেখেন।"
— (সুরা মুলক: ১৯)
আরও ইরশাদ হয়েছে,
"আকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে, সবই আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে। রাজত্ব ও সমস্ত প্রশংসা তাঁরই এবং তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।"
— (সুরা তাগাবুন: ১)
সৃষ্টির প্রতি দয়া আল্লাহর রহমত লাভের মাধ্যম
কোনো জীবকে অকারণে কষ্ট দেওয়া আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি অবিচার। অন্যদিকে মানুষ, পশু-পাখি কিংবা যেকোনো জীবের প্রতি দয়া ও সহানুভূতি প্রদর্শন করলে মহান আল্লাহও বান্দার প্রতি দয়া করেন।
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
"যারা দয়া করে, পরম করুণাময় আল্লাহ তাদের প্রতি দয়া করেন। তোমরা পৃথিবীর অধিবাসীদের প্রতি দয়া কর, তাহলে আকাশের অধিবাসী তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।"
— (সুনানে আবু দাউদ, তিরমিজি)
ক্ষুদ্র প্রাণীকেও কষ্ট দেওয়া নিষেধ
ইসলামে এমনকি একটি ক্ষুদ্র পিঁপড়ার প্রতিও অন্যায় আচরণ করতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, এক নবীকে একটি পিঁপড়া কামড় দেওয়ার পর তিনি পুরো পিঁপড়ার বাসা পুড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। তখন মহান আল্লাহ ওহির মাধ্যমে তাকে সতর্ক করেন যে, একটি পিঁপড়ার কারণে কেন আল্লাহর প্রশংসাকারী পুরো একটি জাতিকে ধ্বংস করা হলো।
এই ঘটনাটি বুখারি ও মুসলিম শরিফে বর্ণিত হয়েছে, যা ইসলামে সব প্রাণীর প্রতি ন্যায় ও দয়ার শিক্ষা দেয়।
তৃষ্ণার্ত কুকুরকে পানি পান করানোর পুরস্কার
ইসলামের অন্যতম শিক্ষণীয় ঘটনার মধ্যে রয়েছে তৃষ্ণার্ত একটি কুকুরকে পানি পান করানোর ঘটনা।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, এক ব্যক্তি পথ চলতে গিয়ে খুব তৃষ্ণার্ত হয়ে একটি কূপ থেকে পানি পান করেন। পরে উঠে দেখেন, একটি কুকুর তৃষ্ণায় কাদামাটি চাটছে। তখন তিনি আবার কূপে নেমে নিজের মোজায় পানি ভরে কুকুরটিকে পান করান।
এই মানবিক কাজের কারণে মহান আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হন এবং তাকে ক্ষমা করে দেন।
ইসলামের শিক্ষা
ইসলাম মানুষকে শুধু মানুষের প্রতিই নয়, বরং সব সৃষ্টির প্রতি দায়িত্বশীল হতে শিক্ষা দেয়। প্রাণী, প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি দয়া, সহমর্মিতা এবং যত্নশীল আচরণ একজন মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। কারণ, সৃষ্টিকে ভালোবাসার মধ্য দিয়েই অর্জিত হয় মহান স্রষ্টার সন্তুষ্টি ও রহমত।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!