অকারণে ওজন বদলাচ্ছে? জেনে নিন থাইরয়েড সমস্যার সতর্ক সংকেত
ঘুম ঠিকমতো হচ্ছে, নিয়মিত খাবারও খাচ্ছেন। তারপরও হঠাৎ ওজন বেড়ে যাচ্ছে কিংবা দ্রুত কমে যাচ্ছে, সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগছে, চুল পড়ছে বা মন খারাপ থাকছে—এসবকে অনেকেই সাধারণ সমস্যা মনে করে অবহেলা করেন। কিন্তু এসব লক্ষণের পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যা।
বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ থাইরয়েডজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষদের তুলনায় নারীদের মধ্যে এ সমস্যা বেশি দেখা যায়। তবে সময়মতো রোগ শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
থাইরয়েড কী?
থাইরয়েড হলো গলার সামনের দিকে প্রজাপতির আকৃতির একটি ছোট গ্রন্থি। এটি থাইরক্সিন (T4) এবং ট্রাই-আয়োডোথাইরোনিন (T3) নামে দুটি গুরুত্বপূর্ণ হরমোন উৎপন্ন করে।
এই হরমোনগুলো শরীরের বিপাকক্রিয়া, হৃদ্স্পন্দন, শরীরের তাপমাত্রা, শক্তি উৎপাদন এবং বিভিন্ন অঙ্গের স্বাভাবিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
হরমোনের উৎপাদন স্বাভাবিকের চেয়ে কম বা বেশি হলে নানা ধরনের শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।
থাইরয়েড সমস্যার প্রধান ধরন
হাইপোথাইরয়েডিজম
এই অবস্থায় থাইরয়েড গ্রন্থি পর্যাপ্ত হরমোন তৈরি করতে পারে না। ফলে শরীরের বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যায়।
হাইপারথাইরয়েডিজম
এ ক্ষেত্রে থাইরয়েড গ্রন্থি প্রয়োজনের তুলনায় বেশি হরমোন উৎপন্ন করে। ফলে শরীরের বিপাকক্রিয়া অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।
হাইপোথাইরয়েডিজমের সাধারণ লক্ষণ
- সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগা
- অকারণে ওজন বেড়ে যাওয়া
- ঠান্ডা বেশি অনুভব করা
- কোষ্ঠকাঠিন্য
- ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া
- চুল পড়া বা পাতলা হয়ে যাওয়া
- মুখ ও শরীরে ফোলাভাব
- মনোযোগ কমে যাওয়া
- স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়া
- বিষণ্নতা বা মন খারাপ
- হৃদ্স্পন্দন ধীর হয়ে যাওয়া
- নারীদের মাসিক অনিয়মিত বা অতিরিক্ত হওয়া
হাইপারথাইরয়েডিজমের সাধারণ লক্ষণ
- দ্রুত ওজন কমে যাওয়া
- বুক ধড়ফড় করা বা হৃদ্স্পন্দন বেড়ে যাওয়া
- অতিরিক্ত ঘাম হওয়া
- গরম সহ্য করতে না পারা
- হাত কাঁপা
- অস্থিরতা বা উদ্বেগ
- ঘুমের সমস্যা
- ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া
- ঘন ঘন মলত্যাগ
- পেশি দুর্বল হয়ে পড়া
- কিছু ক্ষেত্রে চোখ স্বাভাবিকের তুলনায় বাইরে বেরিয়ে আসা (বিশেষ করে গ্রেভস ডিজিজে)
যেসব লক্ষণ অবহেলা করবেন না
নিচের যেকোনো উপসর্গ দীর্ঘদিন থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি—
- অকারণে ওজনের বড় পরিবর্তন
- দীর্ঘদিন ধরে ক্লান্তি
- হৃদ্স্পন্দনের অস্বাভাবিক পরিবর্তন
- গলায় ফোলা বা গিঁট অনুভব হওয়া
- দীর্ঘদিন চুল পড়া
- মাসিক চক্রে পরিবর্তন
- সন্তান ধারণে সমস্যা
- অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরম সহ্য করতে না পারা
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
কিছু মানুষের ক্ষেত্রে থাইরয়েড রোগের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। যেমন—
- নারী
- ৬০ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তি
- পরিবারে থাইরয়েড রোগের ইতিহাস থাকলে
- অটোইমিউন রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি
- গর্ভাবস্থায় বা সন্তান জন্মের পর কিছু নারী
- আগে ঘাড়ে রেডিয়েশন থেরাপি নেওয়া ব্যক্তি
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, উপরের লক্ষণগুলোর এক বা একাধিক দীর্ঘদিন ধরে দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে TSH, Free T3 ও Free T4 পরীক্ষার মাধ্যমে থাইরয়েডের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হয়।
সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় এবং নিয়মিত চিকিৎসার মাধ্যমে অধিকাংশ থাইরয়েড সমস্যা সফলভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
সচেতনতা: এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র স্বাস্থ্য সচেতনতার উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। এটি কোনোভাবেই চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়। ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সমস্যা, রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার জন্য অবশ্যই নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!