কম ঘুমেই বাড়ছে বিষণ্নতার ঝুঁকি!
পর্যাপ্ত ঘুম শুধু শরীরকে বিশ্রাম দেয় না, মানসিক সুস্থতাও বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত আট ঘণ্টার কম ঘুম হলে মানুষের মধ্যে বিষণ্নতা, উদ্বেগ এবং নেতিবাচক চিন্তার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।
মার্কিন গবেষকদের পরিচালিত এ গবেষণায় ঘুমের সময়কাল এবং মানসিক প্রতিক্রিয়ার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া গেছে। গবেষকদের মতে, পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মস্তিষ্ক নেতিবাচক তথ্য ও অভিজ্ঞতার প্রতি বেশি সংবেদনশীল হয়ে ওঠে, ফলে দুশ্চিন্তা ও হতাশা সহজেই মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।
নেতিবাচক চিন্তার প্রভাব বাড়ে
গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন ধরনের ছবি দেখানো হয় এবং তাদের চোখের নড়াচড়ার ধরণ পর্যবেক্ষণ করা হয়। ফলাফলে দেখা যায়, যারা কম ঘুমান বা নিয়মিত দেরিতে ঘুমাতে যান, তারা নেতিবাচক ছবিগুলোর দিকে বেশি সময় ধরে তাকিয়ে থাকেন।
অন্যদিকে পর্যাপ্ত ঘুমানো ব্যক্তিরা নেতিবাচক তথ্য থেকে দ্রুত মনোযোগ সরিয়ে নিতে সক্ষম হন। গবেষকরা মনে করেন, ঘুমের ঘাটতি মানুষের চিন্তা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাকে দুর্বল করে দেয়।
বিষণ্নতা ও উদ্বেগের ঝুঁকি কেন বাড়ে?
গবেষণার প্রধান লেখক মেরিডিথ কোলসের মতে, পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মস্তিষ্ক নেতিবাচক তথ্যকে বেশি গুরুত্ব দিতে শুরু করে। ফলে হতাশাজনক চিন্তা দীর্ঘ সময় ধরে মনে ঘুরতে থাকে।
এই নেতিবাচক চিন্তার চক্র দীর্ঘস্থায়ী হলে তা ধীরে ধীরে বিষণ্নতা, উদ্বেগ এবং অন্যান্য মানসিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।
ভালো ঘুম কেন জরুরি?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুস্থ মানসিক অবস্থার জন্য প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ঘুমের অভাব শুধু ক্লান্তিই বাড়ায় না, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, মনোযোগ এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে জার্নাল অব বিহেভিয়র থেরাপি অ্যান্ড এক্সপেরিমেন্টাল সাইকিয়াট্রি-তে। গবেষকদের মতে, মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!