Dark Mode
Image
  • Friday, 31 July 2026
অজান্তেই দাঁতের ক্ষতি করছে এই ৫ অভ্যাস

অজান্তেই দাঁতের ক্ষতি করছে এই ৫ অভ্যাস

দাঁতের ক্ষতি করছে যে ৫ অভ্যাস, সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দিনে দুবার দাঁত ব্রাশ করলেই দাঁতের পূর্ণ যত্ন নেওয়া হয়—এমন ধারণা সব সময় সঠিক নয়। দৈনন্দিন জীবনের কিছু সাধারণ অভ্যাসও ধীরে ধীরে দাঁতের এনামেল ক্ষয়, মাড়ির সমস্যা এবং মুখগহ্বরের বিভিন্ন রোগের কারণ হতে পারে। ভারতীয় অর্থোডন্টিস্ট ডা. জাইনীল পারেখের মতে, এসব অভ্যাস সম্পর্কে সচেতন থাকলে দীর্ঘমেয়াদে দাঁত সুস্থ রাখা অনেক সহজ।

১. সারাদিন ধরে চিনিযুক্ত ও অ্যাসিডিক পানীয় পান

কোমল পানীয়, বোতলজাত ফলের রস, ফ্লেভারযুক্ত কফি, আইসড টি বা এনার্জি ড্রিংক বারবার পান করলে দাঁত দীর্ঘ সময় অ্যাসিডের সংস্পর্শে থাকে। এতে দাঁতের এনামেল ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে শুরু করে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, এসব পানীয় একবারে পান করে পরে পানি দিয়ে কুলকুচি করলে দাঁতের ক্ষতির ঝুঁকি কমানো যায়।

২. ঘুমের মধ্যে দাঁত কিড়মিড় করা

মানসিক চাপ বা উদ্বেগের কারণে অনেকেই অজান্তেই দাঁতে দাঁত চেপে ধরেন বা দাঁত কিড়মিড় করেন। দীর্ঘদিন এই অভ্যাস থাকলে এনামেল ক্ষয়, চোয়ালের ব্যথা, মাথাব্যথা এমনকি দাঁত ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে।

ঘুম থেকে ওঠার পর চোয়ালে ব্যথা বা দাঁতের সংবেদনশীলতা অনুভব করলে দ্রুত দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৩. নাকের বদলে মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া

মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার ফলে মুখের ভেতর শুষ্ক হয়ে যায় এবং লালার পরিমাণ কমে যায়। অথচ লালা মুখের ব্যাকটেরিয়া ও অ্যাসিড দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এই কারণে মুখ শুকিয়ে গেলে দাঁতের ক্ষয় এবং মাড়ির রোগের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।

৪. দাঁতকে যন্ত্র হিসেবে ব্যবহার

বোতল খোলা, প্যাকেট ছেঁড়া, নখ কামড়ানো কিংবা কলম চিবানোর মতো অভ্যাস দাঁতের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।

এসব কারণে দাঁতে সূক্ষ্ম ফাটল, এনামেল ক্ষয় এবং পরবর্তীতে বড় ধরনের দাঁতের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৫. সারাদিন অল্প অল্প করে খাবার খাওয়া

প্রতিবার খাবার খাওয়ার পর মুখের ব্যাকটেরিয়া অ্যাসিড তৈরি করে, যা দাঁতের এনামেলের ক্ষতি করে। সারাদিন বারবার খাবার খেলে দাঁত পুনরুদ্ধারের সুযোগ কমে যায়।

তাই অপ্রয়োজনীয় স্ন্যাকস কমিয়ে স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

ডা. জাইনীল পারেখ বলেন, শুধু নিয়মিত ব্রাশ ও ফ্লস করাই যথেষ্ট নয়। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, সঠিকভাবে দাঁত ব্যবহার এবং মুখের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার মাধ্যমে দীর্ঘদিন দাঁত ও মাড়ি সুস্থ রাখা সম্ভব।

Comment / Reply From