Dark Mode
Image
  • Saturday, 01 August 2026
ঘুমের ঘোরে কথা বলেন? জানুন এর বৈজ্ঞানিক কারণ

ঘুমের ঘোরে কথা বলেন? জানুন এর বৈজ্ঞানিক কারণ

ঘুমের ঘোরে মানুষ কেন কথা বলে? জানুন বিজ্ঞান কী বলছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: গভীর রাতে হঠাৎ ঘুমন্ত কেউ যদি অস্পষ্টভাবে কথা বলতে শুরু করেন, অনেকেই অবাক হয়ে যান। কারও ক্ষেত্রে এটি হাস্যকর মনে হলেও, চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি একটি পরিচিত ঘুমজনিত আচরণ। চিকিৎসাবিজ্ঞানে ঘুমের মধ্যে কথা বলাকে বলা হয় ‘সোমনিলোকুই’ (Somniloquy), যা প্যারাসোমনিয়া (Parasomnia) বা ঘুমের সময় অস্বাভাবিক আচরণের একটি ধরন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনের কোনো না কোনো সময়ে প্রায় ৬৬ শতাংশ মানুষ ঘুমের মধ্যে কথা বলেন। শিশুদের মধ্যে এ প্রবণতা বেশি দেখা গেলেও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এটি কমে যায়। মাত্র ৫ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্কের ক্ষেত্রে এটি নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়।

কেন ঘুমের মধ্যে কথা বলে মানুষ?

অনেকেই মনে করেন, মানুষ কেবল স্বপ্ন দেখার সময়ই কথা বলে। তবে বিজ্ঞান বলছে, ঘুমের প্রায় সব ধাপেই এমনটি ঘটতে পারে।

ঘুমের নন-আরইএম (Non-REM) পর্যায়ে মস্তিষ্ক আংশিকভাবে জেগে উঠলে মানুষ অস্পষ্ট শব্দ, বিড়বিড় বা ছোট বাক্য বলতে পারে। অন্যদিকে আরইএম (REM) পর্যায়ে, যখন প্রাণবন্ত স্বপ্ন দেখা হয়, তখন স্বপ্নের সঙ্গে মিল রেখে দীর্ঘ সংলাপ বা স্পষ্ট বাক্যও উচ্চারণ করা সম্ভব।

এ ছাড়া কিছু কারণ এই প্রবণতা বাড়িয়ে দিতে পারে। যেমন—

  • অতিরিক্ত মানসিক চাপ

  • পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব

  • জ্বর

  • অ্যালকোহল বা মাদক গ্রহণ

  • কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

ঘুমের ঘোরে বলা কথা কি সত্যি?

অনেকেই মনে করেন, ঘুমের মধ্যে মানুষ মনের গোপন কথা বলে ফেলে। তবে গবেষণা বলছে, এ ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের গবেষকদের মতে, ঘুমের ঘোরে বলা কথার বেশিরভাগই এলোমেলো, কল্পনাপ্রসূত এবং অর্থহীন। যদিও বাক্যগুলো ব্যাকরণগতভাবে সঠিক হতে পারে, তবে বাস্তব জীবনের সত্য বা গোপন তথ্য প্রকাশের সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই।

অন্য এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমন্ত অবস্থায় মানুষ সবচেয়ে বেশি উচ্চারণ করে ‘না’ শব্দটি। এ ছাড়া রাগ, বিরক্তি বা গালাগালিও তুলনামূলক বেশি শোনা যায়, যা স্বপ্নের আবেগেরই প্রতিফলন।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত?

সাধারণভাবে ঘুমের মধ্যে কথা বলা ক্ষতিকর নয়। তবে নিচের লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন—

  • হঠাৎ প্রাপ্তবয়সে নিয়মিত ঘুমের মধ্যে কথা বলা শুরু হলে।

  • কথা বলার পাশাপাশি চিৎকার, হাত-পা ছোড়া বা ভয় পাওয়ার আচরণ দেখা দিলে।

  • ঘুমের মধ্যে হাঁটা বা খাওয়ার অভ্যাস যুক্ত হলে।

  • সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে এবং স্বাভাবিক ঘুমে ব্যাঘাত ঘটালে।

কীভাবে কমানো সম্ভব?

যদিও এর নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই, তবে কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস সমস্যাটি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

  • প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া।

  • পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম নিশ্চিত করা।

  • ঘুমানোর আগে মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করা।

  • রাতে অতিরিক্ত চা, কফি বা অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা।

  • ঘুমের সময়সূচি ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য তথ্য নোট করে রাখা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ঘুমের ঘোরে কথা বলা স্বাভাবিক এবং উদ্বেগের কারণ নয়। তবে এর সঙ্গে অন্য অস্বাভাবিক আচরণ যুক্ত হলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Comment / Reply From