ওষুধ ছাড়াই বন্ধ নাক খুলবে, মেনে চলুন এই ৩ সহজ উপায়
ঠান্ডা, অ্যালার্জি কিংবা সাইনাসের সমস্যায় নাক বন্ধ হয়ে গেলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে এবং স্বাভাবিক কাজেও অস্বস্তি তৈরি হয়। অনেকেই জোরে নাক ঝাড়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু এতে উপকারের বদলে নাকের ভেতরের কোমল টিস্যু ও রক্তনালীর ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নাক বন্ধ হওয়ার কারণ শুধু সর্দি জমে থাকা নয়। অনেক সময় নাকের ভেতরের রক্তনালীর প্রদাহ ও ফোলাভাবের কারণেও শ্বাসপ্রশ্বাসে বাধা তৈরি হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের কেক স্কুল অব মেডিসিন-এর ওটোল্যারিঙ্গোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. কেভিন হুর এবং সেডার্স-সিনাই মেডিকেল গ্রুপ-এর বিশেষজ্ঞ ডা. টেলর কার্লের পরামর্শ অনুযায়ী, ওষুধ ছাড়াও কিছু সহজ ঘরোয়া উপায়ে দ্রুত বন্ধ নাকের অস্বস্তি কমানো সম্ভব।
গরম ভাপ নিন
বন্ধ নাক খোলার সবচেয়ে কার্যকর ও নিরাপদ উপায়গুলোর একটি হলো গরম পানির ভাপ নেওয়া। গরম বাষ্প জমে থাকা সর্দি নরম করে এবং নাকের ভেতরের শুষ্কতা কমিয়ে শ্বাস নিতে স্বস্তি দেয়।
এ জন্য গরম পানির শাওয়ার চালিয়ে বাষ্পযুক্ত বাথরুমে ১০ থেকে ১৫ মিনিট থাকতে পারেন। অথবা একটি পাত্রে গরম পানি নিয়ে মাথা তোয়ালে দিয়ে ঢেকে ৫ থেকে ১০ মিনিট ধীরে ধীরে ভাপ নিন।
এ ছাড়া গরম চা বা কফির বাষ্প শ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করলেও সাময়িক আরাম মিলতে পারে। ঘরে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করলেও নাকের আর্দ্রতা বজায় থাকে।
সঠিক নেসাল স্প্রে ব্যবহার করুন
নাকের প্রদাহ কমাতে স্যালাইন নেসাল স্প্রে বেশ নিরাপদ ও কার্যকর। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী স্টেরয়েড বা অ্যান্টিহিস্টামিন নেসাল স্প্রেও ব্যবহার করা যেতে পারে।
তবে দ্রুত নাক খোলার জন্য ব্যবহৃত ডিকনজেস্ট্যান্ট স্প্রে টানা দুই থেকে তিন দিনের বেশি ব্যবহার করা উচিত নয়। কারণ দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে ‘রিবাউন্ড কনজেশন’ হতে পারে, ফলে স্প্রে বন্ধ করলেই নাক আগের চেয়ে আরও বেশি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
ঘুমানোর সময় মাথা উঁচু রাখুন
রাতে অনেকের নাকের সমস্যা আরও বেড়ে যায়। কারণ চিত হয়ে শুয়ে থাকলে মাথার দিকে রক্তপ্রবাহ বাড়ে, ফলে নাকের ভেতরের টিস্যুর ফোলাভাবও বৃদ্ধি পায়।
এ সমস্যা কমাতে ঘুমানোর সময় মাথার নিচে একটি নয়, দুটি বালিশ ব্যবহার করুন। এতে মাথা হৃদযন্ত্রের তুলনায় কিছুটা উঁচুতে থাকবে এবং নাকের ভেতরের চাপ কমে শ্বাস নিতে সুবিধা হবে।
আরও কিছু প্রয়োজনীয় পরামর্শ
নাক বন্ধ থাকলে পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং শরীরকে যথেষ্ট বিশ্রাম দিন। এতে শ্লেষ্মা পাতলা হয় এবং দ্রুত আরাম পাওয়া যায়।
তবে যদি দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে নাক বন্ধ থাকে, অথবা বারবার একই সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে অবশ্যই নাক-কান-গলা (ইএনটি) বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। কারণ এর পেছনে নাকের হাড় বাঁকা, নাকের পলিপ বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা থাকতে পারে।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!