Dark Mode
Image
  • Thursday, 29 January 2026
অসীম নীলের ডাকে কক্সবাজার ও ইনানী

অসীম নীলের ডাকে কক্সবাজার ও ইনানী

সমুদ্র মানেই নীলের হাতছানি, ঢেউয়ের গর্জন আর হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া এক নিরব প্রশান্তি। সেই অসীম নীলের টানেই শীতের এক ভোরে কক্সবাজার ও ইনানী সৈকতের পথে রওনা হয়েছিলেন একদল নবীন শিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থী। শিক্ষা সফরের অংশ হিসেবে সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ (টিটিসি), ঢাকার আয়োজনে এই ভ্রমণ যেন হয়ে ওঠে শেখা, দেখা আর অনুভবের এক অনন্য অধ্যায়।

১৪ জানুয়ারি রাতের যাত্রা শেষে ভোরে কক্সবাজারে পৌঁছেই চোখে পড়ে নীল জলরাশির অপার সৌন্দর্য। স্বল্প বিশ্রাম ও নাশতা শেষে দলের প্রথম গন্তব্য ছিল ইনানী সমুদ্র সৈকত। কক্সবাজার থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ইনানী তার কালো প্রবাল, পাথুরে তটরেখা আর মুক্ত প্রকৃতির জন্য আলাদা পরিচিতি পেয়েছে। ভাটার সময় সৈকতে দাঁড়িয়ে ঢেউ আর প্রবালের মেলবন্ধন যে কাউকেই মুগ্ধ করে।

ইনানীতে পৌঁছেই শুরু হয় ছবি তোলা, ঢেউ ছোঁয়া আর সমুদ্রের সঙ্গে একাত্ম হওয়ার চেষ্টা। কেউ প্রবালের ওপর দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন, কেউ ঢেউয়ের তালে তালে হাঁটছেন, আবার কেউ সমুদ্রের গান গেয়ে মুহূর্তটাকে স্মরণীয় করে রাখছেন। কালো প্রবালের গায়ে আছড়ে পড়া ঢেউ যেন প্রকৃতির নিজস্ব শিল্পকর্ম। সময়ের সীমাবদ্ধতায় স্পিডবোট বা হর্সরাইডিং সম্ভব না হলেও ইনানীর নির্মল সৌন্দর্য মন ভরিয়ে দেয়।

দুপুরে হোটেলে ফিরে মধ্যাহ্নভোজ শেষে বিকেলে শুরু হয় কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত পর্ব। বিশ্বের দীর্ঘতম অখণ্ড বালুকাময় সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে তখন পর্যটকদের ঢল। সুগন্ধা পয়েন্টে বালুর বুকে ফুটবল খেলা, ঢেউয়ের সঙ্গে দৌড়ঝাঁপ আর দলবদ্ধ ছবি তোলায় মেতে ওঠে সবাই।

বিকেলের প্রধান আকর্ষণ ছিল সূর্যাস্ত। দিগন্তে সূর্য ডুবে যাওয়ার দৃশ্য যেন প্রকৃতি ও মানুষের অনুভূতিকে এক সুতোয় বেঁধে দেয়। সূর্যাস্তের পর কেউ ঢেউয়ে ভিজে নিলেন, কেউ চুপচাপ বসে সমুদ্রের গর্জন শুনলেন। সন্ধ্যায় বার্মিজ মার্কেট ও শুটকি পল্লিতে কেনাকাটার মধ্য দিয়ে ভ্রমণের আরেকটি রঙিন অধ্যায় যোগ হয়।

রাত গভীর হলেও কক্সবাজার সৈকত ছিল প্রাণবন্ত। গান, আড্ডা আর লোনা বাতাসে রাতের সমুদ্র যেন আলাদা এক মোহ ছড়ায়। পরদিন ভোরে লাবণী পয়েন্টে সূর্যোদয় দেখার মধ্য দিয়ে সফরের শেষ অধ্যায় শুরু হয়। জোয়ারের ঢেউ, সকালের আলো আর সমুদ্রের নিরবতা সবাইকে কিছুটা আবেগী করে তোলে।

শেষবারের মতো সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে ফেরার পথে অনেকের মনেই ছিল একটাই প্রশ্ন—আরও একটু যদি থাকা যেত! কক্সবাজার ও ইনানী যেন শুধু একটি ভ্রমণ নয়, বরং স্মৃতির পাতায় লেখা হয়ে থাকা এক গভীর অনুভূতির নাম।

Comment / Reply From

You May Also Like