Dark Mode
Image
  • Thursday, 29 January 2026

আজওয়া খেজুর: নবীজির হাতে রোপিত বরকতময় ফলের ইতিহাস ও ফজিলত

আজওয়া খেজুর: নবীজির হাতে রোপিত বরকতময় ফলের ইতিহাস ও ফজিলত

ইসলামি ঐতিহ্যে এমন কিছু খাদ্য রয়েছে, যেগুলো শুধু পুষ্টিগুণের জন্য নয়—বরং ইতিহাস, বরকত ও ফজিলতের কারণেও বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছে। আজওয়া খেজুর তেমনই এক অনন্য ফল। হাদিসে বর্ণিত এই খেজুরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ–এর নিজ হাতে রোপণের এক বিস্ময়কর ঘটনা।

🌱 হযরত সালমান ফারসি (রা.) ও আজওয়া খেজুরের ঐতিহাসিক পটভূমি

হযরত সালমান ফারসি (রা.) ছিলেন একজন পারসিক মুসলমান, যিনি একসময় একজন ইহুদির দাসত্বে আবদ্ধ ছিলেন। মুক্তির বিনিময়ে ইহুদি মালিক যে শর্ত দেন, তা ছিল প্রায় অসম্ভব—

নগদ ৬০০ দিনার প্রদান

৩০টি খেজুর গাছ রোপণ করে তাতে ফল ধরানো

ইহুদির মূল উদ্দেশ্য ছিল তাঁকে মুক্তি না দেওয়া, কারণ খেজুর গাছ থেকে ফল আসতে সাধারণত বহু বছর সময় লাগে।

হযরত সালমান ফারসি (রা.) বিষয়টি রাসূলুল্লাহ ﷺ–কে জানালে, তিনি ৬০০ দিনারের ব্যবস্থা করেন এবং হযরত আলী (রা.)–কে সঙ্গে নিয়ে ইহুদির কাছে যান।

✨ নবীজির হাতে রোপিত অলৌকিক খেজুর গাছ

ইহুদি এক কাঁদি খেজুর দিয়ে জানায়—এই খেজুর থেকেই চারা উৎপন্ন করতে হবে। কিন্তু সে গোপনে খেজুরগুলো আগুনে পুড়িয়ে ফেলে, যাতে চারা না জন্মায়।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বিষয়টি বুঝতে পেরে নিজ হাতে সেই পোড়া খেজুরগুলো গর্তে রোপণ করেন। হযরত আলী (রা.) গর্ত খুঁড়েন এবং হযরত সালমান ফারসি (রা.) পানি দেন। নবীজী ﷺ সালমান (রা.)–কে নির্দেশ দেন—বাগানের শেষ প্রান্তে না যাওয়া পর্যন্ত পেছনে না তাকাতে।

শেষে তাকিয়ে দেখা যায়—সব গাছে পাকা, কালো রঙের খেজুর ঝুলছে। এই খেজুরই পরবর্তীতে আজওয়া খেজুর নামে পরিচিত হয়—যা আজ বিশ্বের সবচেয়ে দামী ও সম্মানিত খেজুরগুলোর একটি।

📖 আজওয়া খেজুর সম্পর্কে হাদিসের বর্ণনা

সহীহ বুখারিতে বর্ণিত—

“যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে সাতটি আজওয়া খেজুর খাবে, সেদিন তাকে কোনো বিষ ও যাদু ক্ষতি করতে পারবে না।”
(সহীহ বুখারি, হাদিস: ৫৩৫৭)

এই হাদিসের ভিত্তিতেই আজওয়া খেজুরকে রোগ প্রতিরোধ ও আত্মিক সুরক্ষার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।

🥭 পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্যগত উপকারিতা (প্রচলিত গবেষণা ও অভিজ্ঞতা অনুযায়ী)

আজওয়া খেজুর সম্পর্কে ইসলামি ঐতিহ্য ও আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানে যেসব উপকারিতার কথা বলা হয়—

উচ্চমাত্রার ডায়েটারি ফাইবার

শক্তির উৎস হিসেবে কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ

ক্যালসিয়াম ও আয়রন—হাড় ও রক্তস্বল্পতায় সহায়ক

হজমশক্তি বাড়াতে সহায়তা করে

হৃদ্‌স্বাস্থ্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক

অন্তঃসত্ত্বা নারীদের প্রসবকালীন সহায়তা করে বলে প্রচলিত বিশ্বাস

ত্বক, চোখ ও স্নায়ুর জন্য উপকারী

বি.দ্র.: এসব উপকারিতা ধর্মীয় বর্ণনা ও পুষ্টিগত বিশ্লেষণের আলোকে বলা হয়; চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে নয়।

🤲 বিশ্বাস, বরকত ও শেফা

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই খেজুরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে রাসূলুল্লাহ ﷺ–এর হাতের স্পর্শ ও সাহাবিদের ইতিহাস। তাই অনেক মুসলমান মহব্বত, বরকত ও শেফার নিয়তে আজওয়া খেজুর গ্রহণ করে থাকেন।

Comment / Reply From