আম খেলেই মোটা? সত্যিটা বলছেন পুষ্টিবিদরা
গ্রীষ্মকাল এলেই বাজারজুড়ে দেখা মেলে রসালো ও সুগন্ধি আমের। স্বাদ আর পুষ্টিগুণের কারণে ছোট-বড় সবার কাছেই এটি জনপ্রিয় একটি ফল। তবে দীর্ঘদিন ধরেই অনেকের মনে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খায়—আম খেলে কি সত্যিই ওজন বেড়ে যায়?
পুষ্টিবিদদের মতে, আম নিজে ওজন বাড়ানোর জন্য দায়ী নয়। বরং কতটা আম খাওয়া হচ্ছে, কখন খাওয়া হচ্ছে এবং কীভাবে খাওয়া হচ্ছে—এসব বিষয়ই নির্ধারণ করে শরীরে এর প্রভাব কেমন হবে। সঠিক নিয়ম মেনে খেলে আম স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করতে পারে।
পুষ্টিগুণে ভরপুর আম
আমে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, আঁশ এবং প্রাকৃতিক শর্করা। খোসা ও আঁটি বাদ দিয়ে ১০০ গ্রাম আমে সাধারণত ৬৫ থেকে ৭০ ক্যালরি থাকে, যা তুলনামূলকভাবে কম।
অন্যদিকে একই পরিমাণ সেদ্ধ ভাতে প্রায় ১২৫ ক্যালরি থাকে। তাই শুধু ক্যালরির দিক থেকে নয়, পুষ্টিগুণের বিবেচনায়ও আম অনেক ক্ষেত্রে ভাত বা প্রসেসড স্ন্যাক্সের চেয়ে ভালো বিকল্প হতে পারে।
যেভাবে খেলে বাড়তে পারে ওজন
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওজন বাড়ার মূল কারণ আম নয়, বরং ভুল খাদ্যাভ্যাস। অনেকেই ভাত বা রুটির পর ডেজার্ট হিসেবে আম খান। কেউ আবার আমের সঙ্গে দুধ, মুড়ি বা মিষ্টিজাতীয় খাবার খান। এতে শরীরে একসঙ্গে অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট প্রবেশ করে এবং ক্যালরির পরিমাণ বেড়ে যায়।
বিশেষ করে রাতে খাবারের পর আম খাওয়ার অভ্যাস শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমাতে পারে। কারণ রাতের সময় শারীরিক কার্যকলাপ কম থাকে, ফলে অতিরিক্ত ক্যালরি সহজে খরচ হয় না।
ওজন কমাতে যেভাবে খাবেন আম
পুষ্টিবিদরা বলছেন, আমকে আলাদা খাবার হিসেবে খাওয়াই সবচেয়ে ভালো। সকালের নাশতা বা দুপুরের খাবারের বিকল্প হিসেবে পরিমাণমতো আম খাওয়া যেতে পারে।
এক বেলায় প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ গ্রাম আম খাওয়া যেতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে একই সময়ে ভাত, রুটি বা অন্য কার্বোহাইড্রেটজাতীয় খাবার না খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
বিকেলের আগেই আম খাওয়া শেষ করা ভালো। দিনের বেলায় শরীর বেশি সক্রিয় থাকায় ক্যালরি খরচ হওয়ার সুযোগও বেশি থাকে। এছাড়া জুসের পরিবর্তে আস্ত আম খাওয়া বেশি উপকারী, কারণ এতে আঁশ পাওয়া যায় এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে।
খাওয়ার পর কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি বা হালকা ব্যায়াম করলে শরীর অতিরিক্ত ক্যালরি সহজে ব্যবহার করতে পারে।
খালি পেটে আম খাওয়া কি ক্ষতিকর?
অনেকের ধারণা, খালি পেটে আম খেলে গ্যাস্ট্রিক হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, আম টকজাতীয় ফল নয়। এতে থাকা প্রাকৃতিক আঁশ ও শর্করা সাধারণত হজমে সহায়তা করে। তাই পরিমিত পরিমাণে খেলে খালি পেটেও এটি ক্ষতিকর নয়।
সব মিলিয়ে বলা যায়, আম কোনো ‘ওজন বাড়ানো ফল’ নয়। বরং সচেতনভাবে ও সঠিক নিয়মে খেলে এটি হতে পারে স্বাস্থ্যকর ডায়েটেরই একটি অংশ। তাই ভয় নয়, পরিমিত ও সঠিকভাবে আম খাওয়ার অভ্যাসই হতে পারে সুস্থ থাকার সহজ উপায়।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!