Dark Mode
Image
  • Wednesday, 13 May 2026
বজ্রপাতে মৃতদেহ চুরি কেন হয়?

বজ্রপাতে মৃতদেহ চুরি কেন হয়?

দেশজুড়ে বজ্রপাতে মৃত্যুর ঘটনা বাড়ার সঙ্গে মাঝেমধ্যে সামনে আসে আরও একটি অস্বাভাবিক অভিযোগ—বজ্রপাতে মারা যাওয়া মানুষের লাশ চুরি বা মরদেহ নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা। বিষয়টি অনেকের কাছে রহস্যময় মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে মূলত কুসংস্কার, গুজব এবং কিছু অসাধু চক্রের অপতৎপরতা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বজ্রপাতে মৃত মানুষের শরীরে কোনো অলৌকিক শক্তি বা বিশেষ উপাদান থেকে যায়—এমন ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বজ্রপাত আসলে অত্যন্ত উচ্চ ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক স্রোত, যা শরীরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে মারাত্মক ক্ষতি করে। মৃত্যুর পর শরীরে অতিপ্রাকৃত কোনো শক্তি জমা থাকে না।

তবে দেশের কিছু গ্রামাঞ্চলে এখনো প্রচলিত রয়েছে নানা লোকবিশ্বাস। কোথাও ধারণা করা হয়, বজ্রপাতে মৃত ব্যক্তির শরীরের অংশ, পোশাক বা ব্যবহৃত জিনিস তাবিজ, ঝাড়ফুঁক কিংবা তথাকথিত কালোজাদুর কাজে ব্যবহার করা যায়। এই বিশ্বাসকে কেন্দ্র করেই কিছু ক্ষেত্রে মরদেহ চুরি বা লাশ নিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তাদের মতে, “লাশ চুরি” বলে যেসব খবর ছড়ায়, তার সবই অপরাধমূলক ঘটনা নয়। অনেক সময় পারিবারিক বিরোধ, জমি-সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব কিংবা সামাজিক আতঙ্ক থেকেও গুজব তৈরি হয়। আবার দ্রুত দাফন বা মরদেহ স্থানান্তরের ঘটনাকেও ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়।

সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, বজ্রপাতের মতো আকস্মিক মৃত্যু মানুষের মনে ভয় ও রহস্য তৈরি করে। সেই ভয় থেকেই জন্ম নেয় অলৌকিক ব্যাখ্যা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই ছাড়া তথ্য ছড়িয়ে পড়লে এসব কুসংস্কার আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। বজ্রপাতে মৃত্যু হলে দ্রুত প্রশাসনকে জানানো, আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা এবং গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানো গেলে এই ধরনের আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি অনেকটাই কমে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের সাবেক প্রধান সোহেল মাহমুদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বজ্রপাতে মৃত্যু হওয়া দেহ এবং ইলেকট্রিক শকে মৃত্যু হওয়া দেহের মধ্যে মৌলিক কোনো পার্থক্য নেই।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, বজ্রপাত তৈরির জন্য সাধারণত বাতাসের আর্দ্রতা, অস্থিতিশীল বায়ু এবং ঊর্ধ্বমুখী বায়ুপ্রবাহ প্রয়োজন হয়। বজ্রপাতের সময় বায়ুর তাপমাত্রা প্রায় ৩০ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এতে বাতাস দ্রুত প্রসারিত হয়ে শক্তিশালী কম্পন তৈরি করে, যা বজ্রধ্বনি হিসেবে শোনা যায়।

Comment / Reply From