Dark Mode
Image
  • Thursday, 29 January 2026

ইটভাটার আগ্রাসনে উর্বরতা হারাচ্ছে চাঁদপুরের ফসলি জমি

ইটভাটার আগ্রাসনে উর্বরতা হারাচ্ছে চাঁদপুরের ফসলি জমি

চাঁদপুরে ইটভাটার আগ্রাসনে ধীরে ধীরে নিঃশেষ হচ্ছে ফসলি জমির উর্বরতা। প্রতি বছর শীত মৌসুম এলেই জেলার বিভিন্ন এলাকায় অবাধে কাটা হচ্ছে কৃষিজমির উপরিভাগের উর্বর মাটি, যা ইট তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে। এর ফলে জমির উৎপাদনক্ষমতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি নিচু হয়ে যাচ্ছে ভূমির স্তর। এতে সেচব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে, চাষে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চাঁদপুর জেলায় মোট ৯৩টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে চালু আছে ৮৫টি। এসব ভাটায় ব্যবহৃত অধিকাংশ মাটি আসছে কৃষিজমি থেকে। ফরিদগঞ্জ, হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি উপজেলায় শীত মৌসুমে ফসলি জমির মাটি অবৈধভাবে কাটার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি।

ফরিদগঞ্জ উপজেলার সুবিদপুর ইউনিয়নের সাচনমেঘ গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, একসময় এলাকার জমিগুলো উঁচু ছিল। ইটভাটার জন্য মাটি কাটার কারণে এখন জমি অনেক নিচু হয়ে গেছে। ফলে পানি ধরে রাখা যায় না, জমি প্রস্তুত করতে সময় ও খরচ দুটোই বেড়েছে। বৈশাখ মাসে ঝড়বৃষ্টিতে ফসল পানিতে তলিয়ে যায়, অনেক সময় ঘরে তোলাই সম্ভব হয় না।

একই এলাকার কৃষক ফয়সাল আহমেদ জানান, উর্বর মাটি কাটার কারণে শুধু নিজের জমিই নয়, পাশের জমিগুলোরও ক্ষতি হচ্ছে। পানি ধরে রাখা যাচ্ছে না, আবার ট্রাক্টরে মাটি পরিবহনের ফলে গ্রামীণ সড়ক ভেঙে যাচ্ছে, লোকালয়ে বাড়ছে ধুলাবালু।

উটতলী গ্রামের কৃষক ওসমান গণি বলেন, একটি জমি নিচু হলে পাশের জমিগুলোও সমতল রাখতে বাধ্য হয়ে মাটি বিক্রি করতে হয়। কয়েক বছর পর এসব জমিতে আর আগের মতো ফলন পাওয়া যায় না।

স্থানীয়রা জানান, ফরিদগঞ্জ ও হাজীগঞ্জ এলাকায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই রাতের আঁধারে কৃষিজমির মাটি কাটা হয় এবং ট্রাক্টর দিয়ে তা ইটভাটায় নেওয়া হয়। অথচ কৃষিকাজ ছাড়া ট্রাক্টর ব্যবহারের নিয়ম নেই।

চাঁদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, কৃষিজমির উপরিভাগের ৬ থেকে ৮ ইঞ্চি মাটিতেই ফসল উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান থাকে। এই মাটি কেটে নেওয়ায় জমির উর্বরতা শক্তি নষ্ট হচ্ছে এবং উৎপাদনক্ষমতা কমে যাচ্ছে। চাঁদপুর জলমগ্ন এলাকা হওয়ায় জমি নিচু হলে নিবিড় চাষের সক্ষমতাও হারাচ্ছে।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেটু কুমার বড়ুয়া জানান, কৃষিজমির মাটি কাটার সংবাদ পেলেই কৃষি বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে তাৎক্ষণিক অভিযান চালানো হচ্ছে। গত দুই মাসে ২০টি অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা আদায়সহ ভেকু, ড্রেজার ও ট্রাক্টর জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষকদের সচেতন করতে সভা-সমাবেশও করা হচ্ছে।

Comment / Reply From

You May Also Like