বসন্তে ফিকে হচ্ছে শিমুলের লাল রং
একসময় ঋতুরাজ বসন্ত এলেই গ্রামবাংলা ঢেকে যেত রক্তলাল শিমুলে। শীতের শেষে পাতাহীন ডালে ডালে ফুটে থাকা শিমুল ফুল প্রকৃতিকে দিত এক অনন্য আবহ। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে সেই চিরচেনা দৃশ্য এখন অনেকটাই বিরল। Dinajpurসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দ্রুত কমে যাচ্ছে শিমুল গাছ, যা নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রকৃতিপ্রেমীরা।
স্থানীয়দের মতে, মাত্র এক দশক আগেও গ্রামের আঙিনা, রাস্তার ধারে কিংবা ফসলের মাঠের পাশে সহজেই দেখা মিলত শিমুলের। বর্তমানে অযত্ন, বীজ রোপণে অনীহা এবং নির্বিচারে গাছ কাটার প্রবণতায় কমে গেছে এর উপস্থিতি। অথচ শিমুল শুধু দৃষ্টিনন্দন গাছই নয়—এটি পরিবেশ ও গ্রামীণ অর্থনীতির সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত।
তবে আশার আলো দেখা যাচ্ছে Dinajpur-Birganj Highway–এর প্রায় ২৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে। সড়কের দুই পাশে বিভিন্ন গাছের ফাঁকে ফাঁকে দাঁড়িয়ে থাকা শতাধিক শিমুল গাছে এখন লাল ফুলের সমারোহ। পাতা ঝরে গেলেও রক্তিম ফুলে সেজে থাকা এই গাছগুলো পথচারী ও যাত্রীদের দৃষ্টি কাড়ছে। ঝরে পড়া ফুলে কোথাও কোথাও তৈরি হয়েছে লাল গালিচার মতো দৃশ্য; পাখিদের কলতানে মুখর হয়ে উঠছে চারপাশ।
প্রকৃতিপ্রেমী মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, “শিমুল গাছ কমে যাওয়ায় অনেক পাখি আবাসস্থল হারাচ্ছে। কাক, কোকিল, চিল, বক—বড় গাছের অভাবে তাদের অস্তিত্বই হুমকির মুখে।”
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম, আব্দুর রাজ্জাক ও সবুর চৌধুরীরা জানান, একসময় শিমুলের তুলা সংগ্রহ করে বিক্রি করে বাড়তি আয় হতো। লেপ-তোষক ও বালিশ তৈরিতে শিমুলের তুলার ব্যবহার ছিল ব্যাপক। গ্রামীণ ভেষজ চিকিৎসায় শিমুলের রস ও মূলেরও কদর ছিল।
বিরল উপজেলার উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা শাহজাহান আলী বলেন, “শিমুল ফুল প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি ঔষধি গাছ হিসেবেও পরিচিত। কাঠ দীর্ঘস্থায়ী না হওয়া এবং ফোমের ব্যবহার বাড়ায় তুলার চাহিদা কমেছে। তবু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় শিমুল রোপণ অত্যন্ত জরুরি।”
প্রকৃতির এই রক্তিম সৌন্দর্য টিকিয়ে রাখতে এখন প্রয়োজন সচেতনতা ও উদ্যোগ। নাহলে বসন্তের সঙ্গে শিমুলের যে আবেগঘন সম্পর্ক, তা হয়তো একদিন স্মৃতিতেই সীমাবদ্ধ হয়ে যাবে।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!