ঈদবাজারে যাচ্ছে সৈয়দপুরের কারচুপির পোশাক, ব্যস্ত ৩০ হাজার নারী 👗✨
ঈদুল ফিতর সামনে রেখে জমে উঠেছে কারচুপির পোশাক তৈরির কাজ। নীলফামারীর Saidpur শহর ও আশপাশের এলাকায় প্রায় ৩০ হাজার নারী এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন শাড়ি, লেহেঙ্গা, থ্রি-পিস ও ওড়নায় সূক্ষ্ম কারচুপির কাজ করতে। এসব পোশাক পরে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে রাজধানী Dhaka-র ঈদবাজারে।
রোজার মাসে স্কুল-কলেজে ছুটি থাকায় অনেক ছাত্রীও যুক্ত হয়েছে এই কাজে। এতে তারা পরিবারের জন্য বাড়তি আয় করতে পারছে।
ছুটিতে কাজ করে আয়ের চেষ্টা শিক্ষার্থীদের
শহরের উত্তরা আবাসন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, অসংখ্য নারী ঘরের ভেতর ফ্রেমে কাপড় টানটান করে বসিয়ে মনোযোগ দিয়ে কারচুপি করছেন। তাদেরই একজন আবাসন স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী কোমল।
কোমল জানায়, রোজার ছুটিতে বড় বোনের সঙ্গে কারচুপির কাজে হাত লাগিয়েছে সে। কোমলের বাবা আর বেঁচে নেই, তার মা বাসাবাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করেন। ঈদের আগে এই কাজ করে প্রায় ১০ হাজার টাকা আয় করার আশা করছে সে। সেই টাকা দিয়ে মা ও ভাইবোনদের জন্য ঈদের পোশাক কিনতে চায়।
পরিবার নিয়েই চলছে কারচুপির কাজ
উত্তরা আবাসন এলাকার বাসিন্দা পারভীন আক্তার (৩৫) হোটেল শ্রমিক আমিনুর রহমানের স্ত্রী। তিনি তার দুই মেয়ে—বৃষ্টি (১৭) ও ঝর্ণা (১৩)-কে সঙ্গে নিয়ে কারচুপির কাজ করছেন।
পারভীন জানান, সারা বছরই এই কাজ থাকলেও ঈদের সময় অর্ডার অনেক বেড়ে যায়। স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় মেয়েরাও কাজে সাহায্য করছে, ফলে তারাও কিছু আয় করতে পারছে।
শহরজুড়ে ব্যস্ততা
সৈয়দপুর শহরের কাজিহাট, মুন্সিপাড়া, মিস্ত্রিপাড়া, বাঁশবাড়ী, হাতিখানা, নতুন বাবুপাড়া, ইসলামবাগ, গোলাহাট, রসুলপুর ও বার্মাসেলসহ বিভিন্ন মহল্লার বাড়ি বাড়িতে এখন চলছে কারচুপির পোশাক তৈরির কাজ।
শুধু শহরেই নয়, উপজেলার কামারপুকুর, বোতলাগাড়ি, বাঙ্গালিপুর, কাশিরাম বেলপুকুর ও খাতামধুপুর ইউনিয়নের গ্রামগুলোতেও অসংখ্য নারী শ্রমিক এই কাজে যুক্ত রয়েছেন।
ঢাকায় যাচ্ছে সৈয়দপুরের পোশাক
কারচুপি শিল্পী রোশনি জানান, এই এলাকার শ্রমিকরা কাজের দক্ষতার জন্য পরিচিত। তাই ঢাকার ব্যবসায়ীরা নিয়মিত এখানে অর্ডার দেন। প্রতি মাসেই হাজার হাজার শাড়ি, লেহেঙ্গা ও থ্রি-পিসের অর্ডার আসে, আর ঈদ এলেই কাজের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
মহাজনরা ঢাকায় বসেই ই-মেইলের মাধ্যমে অর্ডার সংগ্রহ করেন এবং ডিজাইনের নির্দেশনা দেন। পরে তারা জর্জেট বা শিফন কাপড়, চুমকি, রেশমি সুতা ও অন্যান্য উপকরণ শ্রমিকদের বাড়িতে পৌঁছে দেন। নারী শ্রমিকরা শুধু কারচুপির কারুকাজ সম্পন্ন করেন।
একজন নারী শ্রমিক দিনে প্রায় ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
৩০ হাজার নারীর কর্মসংস্থান
সৈয়দপুর কারচুপি সমিতির সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন জানান, ঢাকার বড় বড় শপিংমল ও মার্কেটে সৈয়দপুরে তৈরি কারচুপির পোশাক বিক্রি হয়। বিশেষ করে বিয়ে ও ঈদের সময় এসব পোশাকের চাহিদা অনেক বেশি থাকে।
তিনি বলেন, বর্তমানে প্রায় ৩০ হাজার নারী এই কারচুপি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। রোজার ছুটিতে শিক্ষার্থীরাও এতে অংশ নেওয়ায় ঈদ সামনে রেখে পুরো এলাকায় যেন উৎসবমুখর কর্মব্যস্ততা দেখা দিয়েছে।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!