Dark Mode
Image
  • Thursday, 30 April 2026
রূপপুরে জ্বলবে আলো, কবে আসছে বিদ্যুৎ? ⚡

রূপপুরে জ্বলবে আলো, কবে আসছে বিদ্যুৎ? ⚡

বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র-এর মাধ্যমে। ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিং শুরু হওয়ায় দেশটি এখন বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশের তালিকায় যুক্ত হওয়ার পথে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) প্রথম ইউনিটে জ্বালানি প্রবেশের মধ্য দিয়ে ‘ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপ’ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

কীভাবে উৎপাদিত হবে বিদ্যুৎ?

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল অংশ হলো রিঅ্যাক্টর। এখানে ইউরেনিয়াম জ্বালানির মাধ্যমে Nuclear Fission বা নিউক্লিয়ার বিভাজন ঘটে।

এই প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন তাপ পানিকে বাষ্পে রূপান্তর করে, যা টারবাইন ঘুরিয়ে জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। পুরো প্রক্রিয়াটি একটি নিয়ন্ত্রিত চেইন রিঅ্যাকশনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

জ্বালানি লোডিংয়ের পর কী হবে?

জ্বালানি প্রবেশের পর প্রথম ধাপে ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’ অর্জন করা হবে—অর্থাৎ নিয়ন্ত্রিত ফিশন বিক্রিয়া শুরু হবে। এরপর ধাপে ধাপে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা ১–৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত নেওয়া হবে।

এই পর্যায়ে পৌঁছালেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে। পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে প্রায় ৭০–৮০ দিন সময় লাগতে পারে।

কবে আসবে বিদ্যুৎ?

প্রাথমিকভাবে আশা করা হচ্ছে, আগামী আগস্টের শুরুতেই প্রথম ইউনিট থেকে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে।

পরবর্তীতে ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে প্রথম ইউনিট থেকে ১১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্য রয়েছে। একই বছরের সেপ্টেম্বরে দুই ইউনিট মিলিয়ে মোট ২২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে।

রাশিয়ার সহযোগিতায় বাস্তবায়ন

এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংস্থা Rosatom-এর সহযোগিতায়। ২০১১ সালে চুক্তি স্বাক্ষরের পর ২০১৫ সালে প্রকল্প বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।

প্রকল্পে নির্মাণ, যন্ত্রপাতি সরবরাহ, জনবল প্রশিক্ষণ এবং প্রাথমিক পর্যায়ে জ্বালানি সরবরাহের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ব্যয় ও অর্থায়ন

দেশের সবচেয়ে বড় এই প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা। এর প্রায় ৯০ শতাংশ অর্থ ঋণ হিসেবে দিচ্ছে রাশিয়া, যা দীর্ঘমেয়াদে পরিশোধ করতে হবে।

প্রাথমিকভাবে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ ৬ টাকা ধরা হলেও তা বেড়ে প্রায় ১২ টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা শক্তিশালী?

রূপপুর প্রকল্পে তৃতীয় প্রজন্মের উন্নত রিঅ্যাক্টর প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যেখানে জরুরি পরিস্থিতিতে স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়।

পুরো প্রকল্প আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে, যার তত্ত্বাবধানে রয়েছে International Atomic Energy Agency

বিশেষজ্ঞদের মতে, পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে ‘জিরো এরর’ নীতি অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি।

কর্মসংস্থান ও প্রভাব

এই প্রকল্পে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে হাজারো প্রকৌশলী ও শ্রমিক কাজ করছেন। নির্মাণকালে প্রতিদিন প্রায় ২০–২৫ হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে, যা অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

শেষ কথা

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র শুধু একটি বিদ্যুৎ প্রকল্প নয়—এটি বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার প্রতীক। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই এই প্রকল্প দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Comment / Reply From