গলা ব্যথায় রান্নাঘরের পরিচিত উপাদানেই মিলুক স্বস্তি
শীতের সময়ে সর্দি, কাশি ও গলা ব্যথার সমস্যা অনেকেরই দেখা দেয়। কখনো সাধারণ ঠান্ডা, কখনো ফ্লু কিংবা অন্য কোনো শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের কারণে গলায় অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে গলা ব্যথা কয়েক দিনের মধ্যে কমে আসে। তবে এই সময়ে কিছু ঘরোয়া উপায় সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে।
রান্নাঘরে থাকা মধু, লেবু ও হলুদের কথা অনেকেই জানেন। বিশেষ করে মধু কাশি কমাতে এবং গলার অস্বস্তি প্রশমনে কিছুটা সহায়ক হতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, এসব উপাদান সংক্রমণ সারানোর ওষুধ নয়।
মধু ও হলুদ কি গলা ব্যথায় উপকারী?
মধু দীর্ঘদিন ধরেই কাশি ও গলার অস্বস্তি কমাতে ঘরোয়া উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশেষ করে কাশির কারণে গলায় খুসখুসে ভাব তৈরি হলে মধু কিছুটা আরাম দিতে পারে। অন্যদিকে হলুদে রয়েছে কারকিউমিন নামের একটি উপাদান, যা নিয়ে প্রদাহ কমানোর সম্ভাব্য ভূমিকা বিষয়ে গবেষণা হয়েছে।
তবে হলুদ ও মধু একসঙ্গে খেলে গলা ব্যথা বা সর্দি-কাশি দ্রুত সেরে যায়, কিংবা ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ দূর হয়—এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। তাই এগুলোকে চিকিৎসার বিকল্প না ভেবে সাময়িক স্বস্তির ঘরোয়া উপায় হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
মধু-লেবুর পানীয় যেভাবে তৈরি করবেন
এক কাপ কুসুম গরম পানিতে এক থেকে দুই চা-চামচ মধু মিশিয়ে নিন। চাইলে স্বাদ অনুযায়ী অল্প লেবুর রস যোগ করতে পারেন। পানীয়টি উষ্ণ থাকতেই ধীরে ধীরে পান করুন। অতিরিক্ত গরম পানীয় পান করা থেকে বিরত থাকুন।
হলুদ খেতে পছন্দ করলে স্বাভাবিক খাবারের অংশ হিসেবে অল্প পরিমাণ হলুদ ব্যবহার করা যায়। তবে বেশি পরিমাণ হলুদ ও মধু মিশিয়ে নির্দিষ্ট মাত্রায় বারবার খেলে দ্রুত সুস্থ হওয়া যাবে—এমন কোনো প্রতিষ্ঠিত নিয়ম নেই।
বিশেষ সতর্কতা: এক বছরের কম বয়সী শিশুকে কোনো অবস্থাতেই মধু দেওয়া যাবে না। এতে শিশুর বটুলিজম নামের গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি থাকে।
লবণপানিতে গার্গল করেও মিলতে পারে স্বস্তি
গলা ব্যথা কমাতে কুসুম গরম লবণপানিতে গার্গল করা সহজ একটি উপায়। এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে আধা চা-চামচ লবণ মিশিয়ে নিন। এরপর পানি দিয়ে গার্গল করে ফেলে দিন, গিলে ফেলবেন না। এটি গলার অস্বস্তি প্রশমনে সাহায্য করতে পারে। তবে ছোট শিশুদের দিয়ে গার্গল করানো উচিত নয়।
গলা ব্যথায় আরও যা করতে পারেন
গলা ব্যথার সময় শরীরকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দেওয়া জরুরি। পাশাপাশি নিয়মিত পানি পান করুন এবং নরম খাবার খান। ধূমপান ও ধোঁয়াযুক্ত পরিবেশ এড়িয়ে চলুন। কুসুম গরম পানীয় পান করলেও গলার অস্বস্তি কিছুটা কমতে পারে।
সাধারণ ভাইরাসজনিত সর্দি-কাশি বা গলা ব্যথায় অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হয় না। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করা উচিত নয়।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
গলা ব্যথার সঙ্গে শ্বাস নিতে বা পানি গিলতে অসুবিধা হলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। জ্বর দীর্ঘস্থায়ী হলে, শরীরে পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে কিংবা গলা ব্যথা এক সপ্তাহেও না কমলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। উপসর্গ ১০ দিনের বেশি স্থায়ী হলে বা ভালো হওয়ার পর আবার বেড়ে গেলেও অবহেলা করা ঠিক নয়।
সর্দি-কাশি ও গলা ব্যথা অনেক সময় সাধারণ সংক্রমণের কারণে হলেও কিছু ক্ষেত্রে ফ্লু বা কোভিডের লক্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা প্রয়োজন।
ঘরোয়া উপায় গলার অস্বস্তি কমাতে সহায়তা করতে পারে, কিন্তু অসুস্থতার কারণ নির্ণয় বা প্রয়োজনীয় চিকিৎসার বিকল্প নয়। তাই শরীরের অবস্থা বুঝে যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!