Dark Mode
Image
  • Tuesday, 17 February 2026
ঘাড়-কোমর ব্যথায় লেজার থেরাপি: কতটা কার্যকর ও নিরাপদ?

ঘাড়-কোমর ব্যথায় লেজার থেরাপি: কতটা কার্যকর ও নিরাপদ?

ঘাড়, কোমর ও হাঁটুর দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা অনেকের দৈনন্দিন জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে। বিশেষ করে মেরুদণ্ডের সমস্যাজনিত ব্যথা কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং স্বাভাবিক চলাফেরায় বাধা সৃষ্টি করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে এখন এ ধরনের ব্যথা উপশমে লেজার থেরাপি আধুনিক ও তুলনামূলক নিরাপদ একটি পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মেরুদণ্ডের সমস্যায় কেন হয় ব্যথা?

মানবদেহের মেরুদণ্ড অসংখ্য ছোট হাড় বা কশেরুকা (ভার্টিব্রা) দিয়ে গঠিত। প্রতিটি কশেরুকার মাঝখানে থাকে ইন্টারভার্টেব্রাল ডিস্ক, যা চাপ শোষণ করে এবং শরীরের নড়াচড়ায় সহায়তা করে। এই ডিস্ক ক্ষতিগ্রস্ত বা স্থানচ্যুত হলে সৃষ্টি হয় ডিস্ক প্রোল্যাপস। এতে স্পাইনাল কর্ড বা নার্ভরুটে চাপ পড়ে এবং তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়।

কোমরের লাম্বার ডিস্ক প্রোল্যাপসে কোমর থেকে ব্যথা ঊরু, হাঁটু, পায়ের পেছন দিক, এমনকি আঙুল পর্যন্ত ছড়িয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি ঝিনঝিন ভাব, অবশ অনুভূতি ও পেশি দুর্বলতাও দেখা দেয়। আবার ঘাড়ের সারভাইকাল ডিস্ক প্রোল্যাপসে ঘাড়ের ব্যথা হাত পর্যন্ত ছড়াতে পারে এবং হাতে অবশভাব বা দুর্বলতা তৈরি হতে পারে।

প্রচলিত চিকিৎসা বনাম লেজার পদ্ধতি

ডিস্কজনিত সমস্যায় সাধারণত ওষুধ, বিশ্রাম, ফিজিওথেরাপি বা গুরুতর ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে আধুনিক চিকিৎসায় পারকিউটেনিয়াস লেজার ডিস্ক ডিকম্প্রেশন (পিএলডিডি) পদ্ধতি দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

এই পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট মাত্রার লেজার রশ্মি ডিস্কের ভেতরে প্রয়োগ করা হয়, যা ডিস্কের অতিরিক্ত চাপ কমিয়ে দেয়। ফলে স্থানচ্যুত অংশ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে এবং স্নায়ুর ওপর চাপ কমে যায়। এতে ব্যথা উল্লেখযোগ্যভাবে উপশম হয়।

কেন লেজার থেরাপি নিরাপদ বিবেচিত?

লেজার চিকিৎসায় বড় ধরনের কাটাছেঁড়া বা অজ্ঞান করার প্রয়োজন হয় না। ফলে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীরাও তুলনামূলক ঝুঁকিমুক্তভাবে এ চিকিৎসা নিতে পারেন। লেজারের অপটোথারমো-মেকানিক্যাল প্রভাব স্নায়ুর পুনরুজ্জীবনে সহায়তা করে বলে চিকিৎসকেরা মনে করেন।

উন্নত বিশ্বে এখন অনেক ক্ষেত্রেই খোলা অস্ত্রোপচারের বিকল্প হিসেবে লেজার চিকিৎসা ব্যবহৃত হচ্ছে। বাংলাদেশেও মেরুদণ্ডজনিত ঘাড় ও কোমর ব্যথার চিকিৎসায় এই পদ্ধতির ব্যবহার ধীরে ধীরে বাড়ছে।

তবে যেকোনো চিকিৎসা নেওয়ার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ও সঠিক রোগনির্ণয় জরুরি। সব রোগীর জন্য একই পদ্ধতি উপযুক্ত নাও হতে পারে।

Comment / Reply From