হাইপ্রেশারে কফি: খাবেন নাকি এড়িয়ে চলবেন?
কফি অনেকের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ঘুম কাটানো, কাজে মনোযোগ বাড়ানো কিংবা আড্ডা জমাতে—এক কাপ কফি যেন অপরিহার্য। তবে সবার জন্য কফি সমানভাবে উপকারী নয়। বিশেষ করে যাঁরা উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাডপ্রেশারে ভুগছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে কফি খাওয়ার বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
কফিতে থাকা ক্যাফেইন একটি শক্তিশালী স্টিমুল্যান্ট, যা হার্ট রেট বাড়ায় এবং শরীরে অ্যাড্রেনালিন নিঃসরণ বৃদ্ধি করে। এর ফলে হৃদস্পন্দন দ্রুত হয় এবং রক্তনালিগুলো সাময়িকভাবে সঙ্কুচিত হয়ে পড়ে। এই অবস্থায় রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়, যা হাইপ্রেশারের রোগীদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।
তবে কফি পুরোপুরি ক্ষতিকর—এমনটাও নয়। পরিমিত মাত্রায় কফি পান করলে মনোযোগ বাড়ে, ক্লান্তি কমে, মেটাবলিজম সক্রিয় হয় এবং টাইপ–২ ডায়াবেটিস, লিভারের রোগ ও আলঝেইমারের ঝুঁকি কিছুটা কমতে পারে। বিশেষ করে চিনি ছাড়া ব্ল্যাক কফিতে থাকা অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী।
কফি খাওয়ার ৩০ মিনিট থেকে ২ ঘণ্টার মধ্যে শরীরে ক্যাফেইনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়। তবে কফি খেলেই যে সবার রক্তচাপ বাড়বে—তা নয়। এটি ব্যক্তিভেদে শারীরিক অবস্থা, অভ্যাস ও জীবনযাপনের ওপর নির্ভর করে।
তাই হাই ব্লাডপ্রেশার থাকলে কফি পুরোপুরি বাদ না দিয়ে কিছু নিয়ম মেনে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।
হাই ব্লাডপ্রেশার থাকলে যেভাবে কফি খাবেন
১. শরীরের সংকেত বুঝুন
কফি খাওয়ার পর বুক ধড়ফড়ানি, অতিরিক্ত ঘাম, অস্থিরতা, মাথা ঘোরা বা দুশ্চিন্তা অনুভব করলে সতর্ক হন। এসব লক্ষণ রক্তচাপ বাড়ার ইঙ্গিত হতে পারে। এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
চেষ্টা করুন দুপুরের আগেই কফি পান করতে। সন্ধ্যা বা রাতে কফি খেলে ঘুমের সমস্যা বাড়ে, যা রক্তচাপের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
২. পরিমাণে নিয়ন্ত্রণ রাখুন
একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক দিনে সাধারণত ৩–৪ কাপ কফি পান করতে পারেন। তবে উচ্চ রক্তচাপ থাকলে দিনে ১–২ কাপের বেশি কফি না খাওয়াই নিরাপদ।
৩. কফির ধরন বেছে নিন
দুধ, ক্রিম ও চিনি মেশানো কফি এড়িয়ে চলুন। এতে ক্যালরি বাড়ে এবং কফির উপকারিতা অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায়। বরং চিনি ছাড়া ব্ল্যাক কফি পান করাই সবচেয়ে ভালো।
৪. রক্তচাপ পর্যবেক্ষণ করুন
কফি খাওয়ার আগে ও পরে নিয়মিত ব্লাডপ্রেশার মাপুন। এতে বুঝতে পারবেন কফি আপনার রক্তচাপের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলছে।
সচেতন থাকলে কফি পুরোপুরি ছাড়তে হবে না। বরং নিজের শরীর বুঝে, সঠিক নিয়ম মেনে কফি পান করলেই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!