Dark Mode
Image
  • Friday, 06 February 2026
চুল প্রতিস্থাপনের পর যেসব সমস্যা জানা জরুরি

চুল প্রতিস্থাপনের পর যেসব সমস্যা জানা জরুরি

চুল পড়া এখন কেবল সৌন্দর্যের বিষয় নয়, অনেকের কাছে এটি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতিতে চুল প্রতিস্থাপন বা হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তবে এই অস্ত্রোপচারের পর কিছু শারীরিক ও মানসিক সমস্যার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এসব বিষয়ে আগে থেকে ধারণা থাকলে অযথা ভয় বা দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমে যায়।

অস্থায়ী চুল পড়া (শক লস):
চুল প্রতিস্থাপনের ২ থেকে ৮ সপ্তাহের মধ্যে অনেকের নতুন প্রতিস্থাপিত চুল ঝরে যেতে পারে। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘শক লস’ বলা হয়। এটি স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া এবং সাধারণত ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যেই নতুন চুল গজাতে শুরু করে।

ফোলাভাব ও ব্যথা:
অপারেশনের পর কপাল, চোখের চারপাশ বা মাথার ত্বকে হালকা থেকে মাঝারি ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। সঙ্গে ব্যথা বা অস্বস্তিও থাকতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করলে এসব সমস্যা কয়েক দিনের মধ্যেই কমে যায়।

চুলকানি ও খোস-পাঁচড়া:
চুল প্রতিস্থাপনের জায়গায় ছোট ছোট খোস বা স্ক্যাব তৈরি হওয়া খুবই স্বাভাবিক। এতে চুলকানি হতে পারে। তবে খোসা খোঁচানো বা জোর করে তুলে ফেললে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

সংক্রমণ ও রক্তপাতের ঝুঁকি:
যদিও খুবই বিরল, তবু অপারেশনের পর সংক্রমণ বা অতিরিক্ত রক্তপাতের সম্ভাবনা থাকে। বিশেষ করে পরিচ্ছন্নতা বজায় না রাখা বা চিকিৎসকের নির্দেশনা অমান্য করলে এই ঝুঁকি বাড়ে।

দাগ ও অসম চুল গজানো:
স্ট্রিপ মেথডে চুল প্রতিস্থাপন করলে মাথার পেছনে তুলনামূলক বড় দাগ থেকে যেতে পারে। অন্যদিকে ফলিকুলার ইউনিট এক্সট্রাকশন (FUE) পদ্ধতিতে ছোট ছোট দাগ দেখা যায়। কিছু ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত ঘনত্বে চুল না গজানো বা চুল সমানভাবে না বাড়ার অভিযোগও পাওয়া যায়।

কখন সতর্ক হবেন?
চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিন ফোলাভাব না কমা, জ্বর, তীব্র ব্যথা, পুঁজ বা দুর্গন্ধ, হঠাৎ অতিরিক্ত চুল পড়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

চুল প্রতিস্থাপন সাধারণত একটি নিরাপদ ও কার্যকর পদ্ধতি। তবে অপারেশনের পর কিছু সাময়িক সমস্যা দেখা দেওয়া স্বাভাবিক। সঠিক চিকিৎসক নির্বাচন, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং নিয়মিত ফলোআপ করলেই ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

Comment / Reply From