Dark Mode
Image
  • Wednesday, 04 February 2026
যেভাবে স্মার্টফোনই আগে টের পায় ভূমিকম্প

যেভাবে স্মার্টফোনই আগে টের পায় ভূমিকম্প

ভূমিকম্প হওয়ার আগেই মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা—শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও বাস্তবে এটি এখন সম্ভব। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে ভূমিকম্পের আগে অনেক মানুষ তাদের স্মার্টফোনে আগাম নোটিফিকেশন পেয়েছেন। এমনকি ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় হওয়া ৫ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পের ক্ষেত্রেও বহু মানুষ কম্পন অনুভব করার অন্তত ৩০ সেকেন্ড আগেই সতর্কবার্তা পেয়েছিলেন।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এসব ভূমিকম্প প্রথমে শনাক্ত করেছিল ওই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের ব্যবহৃত স্মার্টফোনই।

গুগলের আগাম সতর্কবার্তা প্রযুক্তি

এই প্রযুক্তির পেছনে রয়েছে গুগলের তৈরি অ্যান্ড্রয়েড আর্থকোয়েক অ্যালার্ট সিস্টেম। বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ (ইউএসজিএস) ও ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যৌথভাবে এই প্রযুক্তি উন্নয়নে কাজ করছে গুগল। লক্ষ্য একটাই—ভূমিকম্প শুরুর কয়েক সেকেন্ড আগেই মানুষকে সতর্ক করা।

গুগলের বিশ্বাস, এই কয়েক সেকেন্ড সময়ই কাউকে টেবিল বা খাটের নিচে আশ্রয় নিতে, গ্যাসের লাইন বন্ধ করতে কিংবা ট্রেনের গতি কমাতে সাহায্য করতে পারে। বড় ধরনের ভূমিকম্পে এই সতর্কবার্তা বহু মানুষের জীবন বাঁচাতে সক্ষম।

কীভাবে কাজ করে এই সিস্টেম

এই সিস্টেম মূলত দুই ধরনের উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে—

১. সিসমোমিটার নেটওয়ার্ক:
যুক্তরাষ্ট্রে থাকা হাজার হাজার সিসমোমিটার থেকে সরাসরি ভূমিকম্পের ডেটা সংগ্রহ করা হয়। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও আশপাশের অঞ্চলে ভূমিকম্প তুলনামূলক নির্ভুলভাবে শনাক্ত করা সম্ভব।

২. অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন:
যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে ব্যক্তিগত ব্যবহারের অ্যান্ড্রয়েড ফোনই সিসমোমিটারের কাজ করে। অধিকাংশ অ্যান্ড্রয়েড ফোনে থাকা এক্সেলারোমিটার সেন্সর ফোন নড়াচড়া শনাক্ত করতে পারে। হাঁটা, দৌড়ানো মাপার পাশাপাশি এই সেন্সর এতটাই সংবেদনশীল যে ছোটখাটো ভূকম্পনও ধরতে পারে।

ভূমিকম্পের প্রাথমিক ধাক্কা শনাক্ত হলেই ফোনটি গুগলের সার্ভারে তথ্য পাঠায়। একই এলাকার হাজার হাজার ফোন থেকে একই ধরনের কম্পনের তথ্য এলে গুগল তা বিশ্লেষণ করে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সতর্কবার্তা পাঠিয়ে দেয়।

যেহেতু রেডিও সিগন্যাল ভূকম্পনের চেয়ে দ্রুত গতিতে ছড়ায়, তাই ভূমিকম্পের কেন্দ্র থেকে দূরের এলাকাগুলোতে কম্পন পৌঁছানোর আগেই সতর্কবার্তা দেওয়া সম্ভব হয়।

অ্যান্ড্রয়েড সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার মার্ক স্টোগাইটিস বলেন,
‘এটা আসলে আলোর গতিবেগ আর ভূমিকম্পের গতির মধ্যে এক ধরনের রেস। সৌভাগ্যবশত আলোর গতি অনেক দ্রুত।’

সতর্কবার্তায় সাধারণত ব্যবহারকারীদের বলা হয়—“ড্রপ, কাভার অ্যান্ড হোল্ড”, অর্থাৎ নিচু হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকুন।

কোথায় কার্যকর, কোথায় সীমাবদ্ধতা

বর্তমানে গুগলের এই আর্থকোয়েক অ্যালার্ট সিস্টেম বিশ্বের ৯০টিরও বেশি দেশে চালু রয়েছে। ধারণা করা হয়, বিশ্বে থাকা প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০ কোটি অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস এই নেটওয়ার্কের অংশ।

তবে এর কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। যেসব এলাকায় অ্যান্ড্রয়েড ফোনের সংখ্যা কম বা সমুদ্রে উৎপন্ন হওয়া ভূমিকম্প—সেসব ক্ষেত্রে এই সিস্টেম খুব কার্যকর নয়। আর এটি ভূমিকম্প আগেভাগে পূর্বাভাস দেয় না, কেবল শুরু হওয়ার কয়েক সেকেন্ড আগে সতর্ক করে।যেভাবে ফোনে আর্থকোয়েক অ্যালার্ট চালু করবেন

অ্যান্ড্রয়েড ফোনে এই সুবিধা পেতে—

Settings এ যান

Safety & Emergency অপশনে ঢুকুন

Earthquake Alerts চালু করুন

সর্বোচ্চ সুবিধা পেতে ফোনের লোকেশন অন রাখতে হবে। পাশাপাশি ফোনটিকে চার্জারে লাগিয়ে স্থির জায়গায় (যেমন টেবিলের ওপর) রাখলে এটি সিসমোগ্রাফ হিসেবে ভালোভাবে কাজ করতে পারে।

একই এলাকার একাধিক ফোন থেকে কম্পনের তথ্য পেলেই গুগল বুঝতে পারে সম্ভাব্য ভূমিকম্প আসছে, আর তখনই আশপাশের সব অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীকে পাঠানো হয় আগাম সতর্কবার্তা।

Comment / Reply From