Dark Mode
Image
  • Wednesday, 04 February 2026
চুলকানি ত্বকের ঘরোয়া সমাধান: প্রাকৃতিক যত্নেই মিলুক আরাম

চুলকানি ত্বকের ঘরোয়া সমাধান: প্রাকৃতিক যত্নেই মিলুক আরাম

ত্বকের চুলকানি খুবই সাধারণ একটি সমস্যা, কিন্তু মাত্রা বাড়লে তা অসহ্যকর হয়ে উঠতে পারে। আবহাওয়া পরিবর্তন, অ্যালার্জি, শুষ্ক ত্বক কিংবা হালকা সংক্রমণ—বিভিন্ন কারণেই চুলকানি দেখা দেয়। এ সমস্যা থেকে দ্রুত মুক্তি পেতে অনেকেই রাসায়নিকযুক্ত ক্রিম বা মলম ব্যবহার করেন, যা দীর্ঘমেয়াদে ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। অথচ ঘরে থাকা কিছু প্রাকৃতিক উপাদান দিয়েই নিরাপদ ও কার্যকর সমাধান পাওয়া সম্ভব।

লেবুতে মিলবে শীতল প্রশান্তি

লেবুর রসে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান ত্বকের প্রদাহ ও চুলকানি কমাতে সাহায্য করে। চুলকানির স্থানে অল্প লেবুর রস লাগিয়ে কিছুক্ষণ শুকাতে দিন। কয়েক মিনিটের মধ্যেই জ্বালাভাব কমে আসবে।

তুলসী পাতায় প্রাকৃতিক আরাম

তুলসী পাতায় থাকা ইউজেনল নামের উপাদানটি হালকা অ্যানেসথেটিক হিসেবে কাজ করে। এক মগ ফুটন্ত পানিতে ১৫–২০টি তুলসী পাতা সেদ্ধ করে নির্যাস তৈরি করুন। কুসুম গরম অবস্থায় পরিষ্কার কাপড়ে ভিজিয়ে চুলকানির জায়গায় লাগালে দ্রুত আরাম পাওয়া যায়।

পুদিনা পাতার শীতল স্পর্শ

পুদিনা পাতাও চুলকানি কমাতে বেশ কার্যকর। এতে রয়েছে প্রদাহনাশক ও অবশকারী উপাদান। ফুটন্ত পানিতে পুদিনা পাতা জ্বাল দিয়ে তৈরি করা পানি চুলকানির জায়গায় লাগালে জ্বালাভাব অনেকটাই কমে যায়।

অ্যালোভেরা—ত্বকের সেরা বন্ধু

অ্যালোভেরা জেল ত্বকের নানা সমস্যার সমাধানে পরিচিত। চুলকানি হলে তাজা অ্যালোভেরা পাতা থেকে জেল বের করে আক্রান্ত স্থানে লাগান। এটি ত্বক ঠান্ডা রাখে এবং দ্রুত আরাম দেয়।

বেকিং সোডায় পিএইচের ভারসাম্য

ত্বকের পিএইচ ভারসাম্য ঠিক রাখতে বেকিং সোডা কার্যকর। অল্প পানির সঙ্গে বেকিং সোডা মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে চুলকানির জায়গায় লাগালে অ্যালার্জি ও জ্বালা কমে।

অলিভ অয়েল: ত্বকের যত্নে বহুমুখী প্রাকৃতিক উপাদান

বাঙালির ঐতিহ্যবাহী রূপচর্চায় সরিষার তেলের ব্যবহার থাকলেও আধুনিক বিকল্প হিসেবে অলিভ অয়েল এখন বেশ জনপ্রিয়। ভিটামিন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর এই তেল ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে দারুণ কার্যকর।

প্রাকৃতিক ক্লিনজার হিসেবে
রাসায়নিক মেকআপ রিমুভারের বদলে অলিভ অয়েল ব্যবহার করা যেতে পারে। মুখে হালকা মালিশ করে তুলা দিয়ে মুছে নিলেই মেকআপ ও ময়লা পরিষ্কার হয়।

বলিরেখা কমাতে
হালকা গরম অলিভ অয়েল দিয়ে নিয়মিত ফেস ম্যাসাজ করলে কোলাজেন উৎপাদন বাড়ে, ত্বক থাকে টানটান ও মসৃণ।

রোদে পোড়া দাগ দূর করতে
অলিভ অয়েলের সঙ্গে কাঁচা হলুদের রস মিশিয়ে মালিশ করলে ত্বকের কালচে ছোপ ধীরে ধীরে হালকা হয়।

উজ্জ্বলতা ফেরাতে প্যাক
বেসন, গোলাপজল ও কয়েক ফোঁটা অলিভ অয়েল মিশিয়ে তৈরি প্যাক মুখে লাগালে ত্বক তাৎক্ষণিকভাবে সতেজ দেখায়।

শুষ্ক ত্বকের যত্নে
অলিভ অয়েল ও মধুর মিশ্রণ শুষ্ক ত্বকের জন্য দারুণ উপকারী। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক হয় নরম ও কোমল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সব ধরনের ত্বকের জন্যই ‘এক্সট্রা ভার্জিন’ অলিভ অয়েল নিরাপদ ও কার্যকর।

Comment / Reply From