দুপুরের খাবার বাদ? ক্ষতি জানলে আর ভুল করবেন না!
কর্মব্যস্ত জীবনে সময়ের অভাব কিংবা ওজন কমানোর তাড়নায় অনেকেই নিয়মিত দুপুরের খাবার এড়িয়ে চলেন। কেউ ভাবেন, একবেলা না খেলেই ক্যালোরি কমবে। আবার কেউ ব্যস্ততার অজুহাতে দুপুরের খাবার বাদ দেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত দুপুরের খাবার না খাওয়া শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
মাঝে মধ্যে একবেলা দেরিতে খাওয়া বড় সমস্যা না হলেও দীর্ঘদিন ধরে দুপুরের খাবার বাদ দিলে শরীরের ভেতরে নানা জটিল পরিবর্তন শুরু হয়। চলুন জেনে নেওয়া যাক, কী কী প্রভাব পড়তে পারে—
রক্তে শর্করার মাত্রা অস্বাভাবিক ওঠানামা
দুপুরে খাবার না খেলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত কমে যেতে পারে। এতে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, হাত কাঁপা, অতিরিক্ত ঘাম কিংবা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন এমন চলতে থাকলে ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যায়
দীর্ঘ সময় না খেলে শরীর শক্তি সঞ্চয়ের জন্য ‘সারভাইভাল মোডে’ চলে যায়। এতে বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে ক্যালোরি পোড়ানোর ক্ষমতা কমে যায়। ফলস্বরূপ, ওজন কমার বদলে উল্টো বাড়তে শুরু করে।
অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে
দুপুরে না খাওয়ার কারণে সন্ধ্যা বা রাতে তীব্র ক্ষুধা অনুভূত হয়। তখন অল্প সময়ে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। এতে বদহজম, গ্যাস, অ্যাসিডিটি এবং ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি বেড়ে যায়।
পুষ্টির ঘাটতি তৈরি হয়
দুপুরের খাবার শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টির বড় উৎস। এটি বাদ দিলে ফাইবার, প্রোটিন, আয়রন, ভিটামিন বি১২, ক্যালসিয়ামসহ নানা প্রয়োজনীয় উপাদানের ঘাটতি তৈরি হয়। এর ফলে চুল পড়া, ত্বক রুক্ষ হওয়া, ক্লান্তি এবং রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।
রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়
জিঙ্ক, ভিটামিন সি ও প্রোটিনের অভাবে শরীর সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে দুর্বল হয়ে পড়ে। এতে ঠান্ডা-কাশি, ভাইরাল সংক্রমণ এমনকি গ্যাস্ট্রো-ইনফেকশনের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
হজমের জটিলতা
দীর্ঘ সময় পেট খালি থাকলে পাকস্থলীতে অতিরিক্ত অ্যাসিড জমা হয়। এর ফলে বুক জ্বালা, অ্যাসিড রিফ্লাক্স, গ্যাস্ট্রাইটিস এমনকি আলসারের মতো সমস্যাও হতে পারে।
হৃদরোগের আশঙ্কা বাড়ে
দুপুরে নিয়মিত না খেলে শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল (এলডিএল) বেড়ে যেতে পারে। পাশাপাশি রক্তচাপের ওঠানামাও দেখা দেয়। দীর্ঘমেয়াদে এটি হৃদরোগ, স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।
কী করবেন?
প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে দুপুরের খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। খাদ্যতালিকায় প্রোটিন, ফাইবার ও স্বাস্থ্যকর চর্বি রাখুন। সময়ের অভাব হলে স্যুপ, ফল, বাদাম বা হালকা স্যান্ডউইচের মতো পুষ্টিকর খাবার বেছে নিতে পারেন। ওজন কমাতে চাইলে খাবার বাদ নয়, বরং সঠিক পরিমাণ ও সময় মেনে খাওয়াই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
মনে রাখবেন, দুপুরের খাবার বাদ দেওয়া ছোট বিষয় মনে হলেও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব হতে পারে ভয়াবহ। সুস্থ থাকতে নিয়মিত ও সুষম খাদ্যাভ্যাসই সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!