Dark Mode
Image
  • Thursday, 29 January 2026
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পাল্টে যাচ্ছে অ্যান্টার্কটিকার পেঙ্গুইনের প্রজনন সময়

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পাল্টে যাচ্ছে অ্যান্টার্কটিকার পেঙ্গুইনের প্রজনন সময়

জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে অ্যান্টার্কটিকার পেঙ্গুইনদের জীবনচক্রে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, উষ্ণায়নের কারণে কিছু পেঙ্গুইন প্রজাতির প্রজনন মৌসুম আগের তুলনায় তিন সপ্তাহেরও বেশি এগিয়ে এসেছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন—এই পরিবর্তন পেঙ্গুইনদের খাদ্যপ্রাপ্যতা ও টিকে থাকার জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করতে পারে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও অক্সফোর্ড ব্রুকস বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে এক দশকব্যাপী পরিচালিত ‘পেঙ্গুইন ওয়াচ’ প্রকল্পে এই তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণার প্রধান লেখক ড. ইগনাসিও জুয়ারেজ মার্টিনেজ বলেন, পেঙ্গুইনদের প্রজনন সময় এত দ্রুত বদলে যাওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কারণ, তারা ইতিহাসের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন অনেক আগেই প্রজননে যাচ্ছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবেশগত পরিবর্তন যদি এভাবে চলতে থাকে এবং পর্যাপ্ত খাবার না মেলে, তাহলে ভবিষ্যতে পেঙ্গুইনরা প্রজননই বন্ধ করে দিতে পারে। বিশেষ করে ছানাদের জীবনের প্রথম কয়েক সপ্তাহে খাদ্যের সংকট দেখা দিলে তার প্রভাব হবে মারাত্মক।

গবেষণায় ২০১২ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনটি পেঙ্গুইন প্রজাতির প্রজনন সময় বিশ্লেষণ করা হয়। প্রজাতিগুলো হলো—অ্যাডেলি, চিনস্ট্র্যাপ ও জেন্টু পেঙ্গুইন। অ্যান্টার্কটিকা ও পার্শ্ববর্তী উপ-অ্যান্টার্কটিক দ্বীপপুঞ্জের ৩৭টি অঞ্চলে স্থাপন করা ৭৭টি টাইম-ল্যাপস ক্যামেরার তথ্য ব্যবহার করেন গবেষকরা। এসব ক্যামেরা ছবি তোলার পাশাপাশি তাপমাত্রার তথ্যও রেকর্ড করেছে।

‘জার্নাল অব অ্যানিমেল ইকোলজি’-তে প্রকাশিত গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, তিনটি প্রজাতিরই প্রজনন মৌসুম রেকর্ড পরিমাণ এগিয়ে গেছে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে জেন্টু পেঙ্গুইনের ক্ষেত্রে। এদের প্রজনন সময় গড়ে ১৩ দিন এবং কিছু অঞ্চলে সর্বোচ্চ ২৪ দিন পর্যন্ত এগিয়ে এসেছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এটি পাখি কিংবা সম্ভবত যেকোনো মেরুদণ্ডী প্রাণীর প্রজনন সময় পরিবর্তনের দ্রুততম রেকর্ড।

অন্যদিকে অ্যাডেলি ও চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইনের প্রজনন সময়ও গড়ে প্রায় ১০ দিন এগিয়ে গেছে। গবেষকরা বলছেন, জেন্টু পেঙ্গুইন তুলনামূলকভাবে নাতিশীতোষ্ণ পরিবেশে মানিয়ে নিতে সক্ষম হওয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তারা কিছুটা লাভবান হচ্ছে। ফলে অ্যান্টার্কটিক উপদ্বীপজুড়ে তাদের বিস্তৃতি ও সংখ্যা বাড়ছে। বিপরীতে, একই অঞ্চলে কমে যাচ্ছে অ্যাডেলি ও চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইনের সংখ্যা।

Comment / Reply From

You May Also Like