Dark Mode
Image
  • Friday, 20 February 2026
টানা ৩০ দিন প্রতিদিন ৩ লিটার পানি: উপকার নাকি ঝুঁকি?

টানা ৩০ দিন প্রতিদিন ৩ লিটার পানি: উপকার নাকি ঝুঁকি?

শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, অস্থিসন্ধির নমনীয়তা বজায় রাখা এবং কোষে পুষ্টি পৌঁছে দেওয়া—এসব গুরুত্বপূর্ণ কাজেই পানি অপরিহার্য। তাই প্রতিদিন কতটুকু পানি পান করা উচিত, তা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন থাকে। কেউ বলেন ২ থেকে ২.৫ লিটার যথেষ্ট, আবার কেউ মনে করেন ৩ লিটার বা তারও বেশি পানি প্রয়োজন—বিশেষ করে যাদের ঘাম বেশি হয়।

পুষ্টিবিদদের মতে, মানবদেহের বড় একটি অংশই পানি দিয়ে গঠিত। শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম, বিশেষ করে মূত্রের মাধ্যমে টক্সিন বের করে দেওয়া—এসবের জন্য পানি অপরিহার্য। তবে টানা ৩০ দিন প্রতিদিন ৩ লিটার পানি পান করলে শরীরে কী পরিবর্তন আসতে পারে? বিষয়টি নির্ভর করে ব্যক্তিভেদে নানা শারীরিক উপাদানের ওপর।

সম্ভাব্য ইতিবাচক পরিবর্তন

পুষ্টিবিদ বিধি চাওলা-এর মতে, নিয়মিত পর্যাপ্ত পানি পান করলে প্রথমেই যে পরিবর্তন চোখে পড়ে তা হলো ত্বকে। পর্যাপ্ত পানি ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে, ফলে শুষ্কতা কমে এবং ত্বক তুলনামূলক উজ্জ্বল দেখায়।

এ ছাড়া—

ডিহাইড্রেশনজনিত মাথাব্যথা কমতে পারে

হজম প্রক্রিয়া উন্নত হয়

কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমে

কিডনিতে পাথর জমার ঝুঁকি হ্রাস পায়

বিশেষ করে গরম আবহাওয়া বা বেশি শারীরিক পরিশ্রমের ক্ষেত্রে বেশি পানি পান উপকারী হতে পারে।

সবার জন্য কি ৩ লিটার প্রয়োজন?

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, সবার শরীর এক নয়। বয়স, ওজন, আবহাওয়া, শারীরিক কার্যক্রম—সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই পানির পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত।

যারা খুব বেশি শারীরিকভাবে সক্রিয় নন, ঠান্ডা আবহাওয়ায় থাকেন বা খুব বেশি ঘামেন না—তাদের ক্ষেত্রে প্রতিদিন ৩ লিটার পানি পান প্রয়োজন নাও হতে পারে। বরং অতিরিক্ত পানি পান করলে উল্টো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

অতিরিক্ত পানি পানের ঝুঁকি

অতিরিক্ত পানি খেলে শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। বিশেষ করে রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা কমে গেলে যে অবস্থা তৈরি হয়, তাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় হাইপোনেট্রিমিয়া বলা হয়।

এই অবস্থায় দেখা দিতে পারে—

মাথাব্যথা

পেশিতে টান

বমিভাব

মানসিক বিভ্রান্তি

কিডনি বা হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পানি পান আরও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

কী করবেন?

সবচেয়ে ভালো উপায় হলো শরীরের চাহিদা অনুযায়ী পানি পান করা। তৃষ্ণা লাগলে পানি পান করুন, প্রস্রাবের রঙ হালকা থাকছে কিনা লক্ষ্য করুন, এবং বিশেষ শারীরিক অবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

পানি জীবনদায়ী—তবে পরিমাণ বুঝে পান করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

Comment / Reply From