দাঁড়িয়ে পানি পান কতটা ক্ষতিকর? জানুন স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্ভাবনা
পানি জীবনধারণের অন্যতম প্রধান উপাদান। সুস্থ থাকতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত ও বিশুদ্ধ পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি। শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হলে পানিশূন্যতা, ক্লান্তি, মাথাব্যথা থেকে শুরু করে নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক গড়ে ৩ থেকে ৪ লিটার পানি পান করা উচিত। তবে শুধু কতটা পানি পান করছেন তা-ই নয়, কীভাবে পানি পান করছেন—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
অনেকেই তাড়াহুড়ো করে দাঁড়িয়ে পানি পান করেন। কিন্তু কিছু স্বাস্থ্যবিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে শরীরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
দাঁড়িয়ে পানি পানের সম্ভাব্য ক্ষতিকর দিক
১. পর্যাপ্ত পানি পান না হওয়ার ঝুঁকি
দাঁড়িয়ে পানি পান করলে অনেক সময় ধীরে ধীরে নয়, দ্রুত পানি পান করা হয়। এতে প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি একবারে পান করা সম্ভব হয় না এবং শরীরে পানির ঘাটতি থেকেই যেতে পারে।
২. জয়েন্টের সমস্যার আশঙ্কা
কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দীর্ঘদিন দাঁড়িয়ে পানি পানের অভ্যাস শরীরের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে এবং জয়েন্টের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। যদিও এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন, তবুও সচেতন থাকা ভালো।
৩. হজম প্রক্রিয়ায় প্রভাব
বলা হয়, দাঁড়িয়ে দ্রুত পানি পান করলে তা শরীরে সঠিকভাবে শোষিত না-ও হতে পারে। এতে পাকস্থলী ও হজম প্রক্রিয়ার ওপর প্রভাব পড়তে পারে বলে অনেকে মনে করেন।
৪. কিডনির কার্যক্রমে সম্ভাব্য প্রভাব
কিডনির স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে নিয়মিত পানি পান জরুরি। তবে কিছু মতামতে বলা হয়েছে, দাঁড়িয়ে পানি পান করলে তা ধীরে ও স্বাভাবিকভাবে শরীরে প্রবাহিত না হয়ে দ্রুত নেমে যায়, যা কিডনির স্বাভাবিক পরিশোধন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে।
৫. নার্ভ ও মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাবের দাবি
কিছু প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে, দীর্ঘদিন এ অভ্যাস রক্ত সঞ্চালন ও স্নায়ুতন্ত্রে প্রভাব ফেলতে পারে, যা মানসিক চাপ বা উদ্বেগ বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। তবে এসব দাবির ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সীমিত।
কীভাবে পানি পান করা ভালো?
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, বসে ধীরে ধীরে পানি পান করা উত্তম। এতে শরীর পানি সঠিকভাবে শোষণ করতে পারে এবং হজম প্রক্রিয়াও স্বাভাবিক থাকে। একবারে বেশি না খেয়ে অল্প অল্প করে পানি পান করাই স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পানির পরিমাণ সমন্বয় করা। সঠিক অভ্যাসই পারে সুস্থতা নিশ্চিত করতে।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!