ধানি জমিতে রঙিন আমের চমক, কৃষকের বাগানে বসেছে বিদেশি আমের মেলা
ধানের জমিতে আম চাষ! শুনতে অবাক লাগলেও কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার শিকারপুর গ্রামের কৃষক সুরুজ মিয়া সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করে দেখিয়েছেন। ধানি জমির ডোবার পাড়ে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের রঙিন আম চাষ করে তিনি এখন এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন।
সুরুজ মিয়ার বাগানে রয়েছে কিউজাই, চিয়াংমাই, কিং অব চাকাপাত, ব্যানানা ম্যাঙ্গো এবং বারি-৪সহ নানা জাতের আম। বিভিন্ন রঙ, আকার ও স্বাদের এসব আমের সমাহারে তার বাগান যেন এক ব্যতিক্রমী ফলের প্রদর্শনী।
ধানি জমিতে ফলের বাগান
প্রায় ১১০ শতক জমির মিশ্র ফলের বাগানে আম ছাড়াও রয়েছে চায়না কমলা, মাল্টা, কুল, পেয়ারাসহ বিভিন্ন জাতের ফলগাছ। শুধু ফল উৎপাদনই নয়, নিজের বাড়ির উঠানে গড়ে তুলেছেন একটি নার্সারি। সেখানে উৎপাদিত বিভিন্ন ফলের চারা বিক্রি করে বাড়তি আয়ও করছেন তিনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, ধানের মাঠের এক পাশে ডোবার পাড় ঘিরে গড়ে উঠেছে তার আমের বাগান। গাছে গাছে ঝুলছে থোকা থোকা রঙিন আম। কিছু আমের ওজন এক কেজিরও বেশি। পরিপক্ব ফল সংগ্রহের পাশাপাশি বাগানের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটছে তার।
উপহাস থেকে সফলতার গল্প
স্থানীয় কৃষক সফিউল্লাহ ও মো. খোকন জানান, শুরুতে ধানি জমিতে আম চাষের উদ্যোগকে অনেকেই গুরুত্ব দেননি। বরং বিষয়টি নিয়ে হাসাহাসিও হয়েছিল। কিন্তু এখন ফলন দেখে অনেকেই বিস্মিত।
তাদের ভাষায়, আগে এসব বিদেশি জাতের আমের নামও শোনা হয়নি। এখন সুরুজ মিয়ার সফলতা দেখে অন্য কৃষকরাও একই ধরনের চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
ইউটিউব দেখে শুরু
সুরুজ মিয়া জানান, ইউটিউবে বিভিন্ন কৃষিবিষয়ক ভিডিও দেখে তিনি এই উদ্যোগ নেন। ধানের জমির ডোবার পাড়কে কাজে লাগিয়ে সেখানে আমের চারা রোপণ করেন। শুরুতে অনেকেই এটিকে পাগলামি বললেও এখন তার সফলতা দেখে আশপাশের কৃষকেরা উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, তার নার্সারিতে উৎপাদিত বিভিন্ন ফলের চারা কিনে অনেকেই নিজেদের জমিতে রোপণ করছেন।
কৃষি বিভাগের সহযোগিতা
স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ার ভূঁইয়া বলেন, সুরুজ মিয়া একজন পরিশ্রমী ও উদ্যমী কৃষক। প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরে তিনি আধুনিক ফল চাষে মনোযোগ দেন। কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় তিনি কুল, আমসহ বিভিন্ন ফলের সফল চাষাবাদ করতে সক্ষম হয়েছেন।
তার মতে, সুরুজ মিয়ার হাত ধরেই শিকারপুর গ্রাম ফল চাষের জন্য নতুন পরিচিতি পেয়েছে। ভবিষ্যতে এই এলাকায় আম, কুল ও অন্যান্য ফলের বাণিজ্যিক চাষ আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করছেন তিনি।
সুরুজ মিয়ার এই উদ্যোগ প্রমাণ করেছে, সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক জ্ঞান ও পরিশ্রম থাকলে সীমিত সম্পদ দিয়েও কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করা সম্ভব।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!