Dark Mode
Image
  • Tuesday, 07 July 2026
বান্দরবানে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে অ্যাভোকাডো, বাড়ছে কৃষকদের আগ্রহ

বান্দরবানে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে অ্যাভোকাডো, বাড়ছে কৃষকদের আগ্রহ

বান্দরবানের পাহাড়ি ভূমিতে এবার নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে আন্তর্জাতিকভাবে জনপ্রিয় ফল অ্যাভোকাডো। মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকার এই উচ্চমূল্যের ফল এখন পরীক্ষামূলক পর্যায় পেরিয়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু হয়েছে। পুষ্টিগুণ, উচ্চ বাজারমূল্য এবং ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে কৃষক ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে অ্যাভোকাডো চাষে আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।

কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, বান্দরবানের পাহাড়ি আবহাওয়া, উঁচু-নিচু ভূমি এবং উন্নত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা অ্যাভোকাডো চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। তাই এই ফলকে জেলার কৃষিতে একটি সম্ভাবনাময় সংযোজন হিসেবে দেখছে কৃষি বিভাগ।

পরীক্ষামূলক চাষ থেকে বাণিজ্যিক উদ্যোগ

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জনপ্রিয় হলেও বাংলাদেশে এখনো সীমিত পরিসরে অ্যাভোকাডো চাষ হয়। তবে বান্দরবানের কয়েকজন কৃষক ও উদ্যোক্তা কয়েক বছর আগে পরীক্ষামূলকভাবে চারা রোপণ করে আশাব্যঞ্জক ফলন পেয়েছেন। সেই সফলতাকে ভিত্তি করে এখন বড় পরিসরে বাণিজ্যিক বাগান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ইতোমধ্যে অনেক কৃষক অ্যাভোকাডোর চারা রোপণ করেছেন। কয়েকটি বাগানে ফল ধরতে শুরু করেছে এবং স্থানীয় বাজারেও সীমিত আকারে বিক্রি হচ্ছে এই বিদেশি ফল।

বাজারে বাড়ছে চাহিদা

দেশের বিভিন্ন অভিজাত হোটেল, রেস্তোরাঁ, সুপারশপ এবং স্বাস্থ্যসচেতন ভোক্তাদের মধ্যে অ্যাভোকাডোর জনপ্রিয়তা বাড়ছে। অন্যান্য প্রচলিত ফলের তুলনায় এর বাজারমূল্যও অনেক বেশি।

কৃষকদের মতে, একটি পরিপক্ব গাছ থেকে বছরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ফল পাওয়া যায়। মানসম্মত চারা, উন্নত বাজারজাতকরণ এবং রপ্তানির সুযোগ তৈরি হলে অ্যাভোকাডো চাষ আরও লাভজনক হয়ে উঠবে।

চারার শখ থেকে সফলতার গল্প

রোয়াংছড়ির বেতছড়া এলাকার কৃষক রোমিও মারমা জানান, চার বছর আগে ঢাকার আগারগাঁও বৃক্ষমেলা থেকে প্রতি চারা ৭০০ টাকা দরে ১২টি অ্যাভোকাডো গাছ কিনে রোপণ করেছিলেন। বর্তমানে সাতটি গাছে ফল এসেছে এবং একটি গাছ থেকেই প্রায় ১৫ থেকে ২০ কেজি ফল পাওয়ার আশা করছেন।

সফলতার অভিজ্ঞতায় অনুপ্রাণিত হয়ে চলতি বছর তিনি আরও ১০০টি অ্যাভোকাডোর চারা রোপণ করেছেন।

শত একরের বাগানে অ্যাভোকাডো

নাইক্ষ্যাংছড়ির জারুলিয়া এলাকায় দীপ্ত এগ্রো-এর মালিক ইফতেখার সেলিম অগ্নি প্রায় ১০০ একর জমিতে মাল্টা, কমলা, কাজুবাদাম, ১২ মাসি সজনে, চুইঝালসহ বিভিন্ন উচ্চমূল্যের ফলের চাষ করছেন।

চার বছর আগে তিনি এক হাজার ভারতীয় জাতের অ্যাভোকাডোর চারা রোপণ করেন। এর মধ্যে চলতি বছর প্রায় ২০০টির বেশি গাছে ফল এসেছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে ফল সংগ্রহ শুরু হবে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, ফল বাজারে আসার আগেই দেশের বিভিন্ন পাঁচতারকা হোটেল, রেস্তোরাঁ, সুপারশপ এবং আগ্রহী ক্রেতারা অ্যাভোকাডো কেনার জন্য যোগাযোগ করছেন।

আধুনিক কৃষির পথে বান্দরবান

বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, একসময় জেলার কৃষকরা মূলত জুম চাষের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। বর্তমানে সেই চিত্র বদলেছে।

এখন ড্রাগন, মাল্টা, কমলা, কফি, বিদেশি জাতের আম, রামবুটান, কাজুবাদাম এবং অ্যাভোকাডোর মতো উচ্চমূল্যের ফল চাষে আগ্রহ বাড়ছে। ফলে জেলার কৃষি ধীরে ধীরে আধুনিক ও বহুমুখী কৃষি ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

কৃষি বিভাগের সহযোগিতা

বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিশুক মারমা বলেন, জেলার মাটি ও আবহাওয়া বিদেশি ফল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।

তিনি জানান, অ্যাভোকাডোর চাষ এখনো সীমিত পর্যায়ে থাকলেও কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ, প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি সহযোগিতা দিতে কৃষি বিভাগ সবসময় প্রস্তুত রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পিতভাবে অ্যাভোকাডো চাষ সম্প্রসারণ, উন্নত মানের চারা উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা গেলে বান্দরবান ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম অ্যাভোকাডো উৎপাদন অঞ্চলে পরিণত হতে পারে।

Comment / Reply From