পেট ব্যথা কি বড় রোগের সংকেত?
পেট ব্যথা খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। অনেক সময় গ্যাস, বদহজম বা খাবারের অনিয়মের কারণে সাময়িক ব্যথা হয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে এই ব্যথাই হতে পারে গুরুতর রোগের সতর্ক সংকেত। উপসর্গের ধরন ও ব্যথার অবস্থান বুঝে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী বা তীব্র পেটব্যথাকে কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। কারণ এর আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে নানা জটিল রোগ।
গ্যাস্ট্রাইটিস
পাকস্থলীর ভেতরের আবরণে প্রদাহ তৈরি হলে তাকে গ্যাস্ট্রাইটিস বলা হয়। অতিরিক্ত অ্যাসিড, ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ, নিয়মিত ব্যথানাশক ওষুধ সেবন, মানসিক চাপ বা অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে এ সমস্যা হতে পারে। অবহেলা করলে আলসার বা রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ে।
পেপটিক আলসার
পাকস্থলী বা ক্ষুদ্রান্ত্রে ক্ষত তৈরি হলে সেটিকে পেপটিক আলসার বলা হয়। দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া, ধূমপান ও ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ এর প্রধান কারণ।
অ্যাপেন্ডিসাইটিস
নাভির আশপাশে শুরু হওয়া ব্যথা ধীরে ধীরে পেটের ডান পাশে ছড়িয়ে পড়লে তা অ্যাপেন্ডিসাইটিসের লক্ষণ হতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা না নিলে অ্যাপেন্ডিক্স ফেটে মারাত্মক সংক্রমণ হতে পারে।
গলব্লাডার অ্যাটাক
পিত্তথলিতে পাথর তৈরি হয়ে পিত্তনালী আটকে গেলে তীব্র ব্যথা, বমি, জ্বর ও হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। জটিল হলে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হতে পারে।
ইনকারসারেটেড হার্নিয়া
হার্নিয়ার কারণে অন্ত্রের অংশ পেটের দেয়ালের বাইরে চলে গিয়ে রক্ত চলাচল বন্ধ হলে তীব্র ব্যথা হয়। এটি জরুরি চিকিৎসার বিষয়।
কোষ্ঠকাঠিন্য
সপ্তাহে তিনবারের কম মলত্যাগ, শক্ত মল বা অতিরিক্ত চাপ দিয়ে পায়খানা করা গুরুতর কোষ্ঠকাঠিন্যের লক্ষণ হতে পারে। পর্যাপ্ত পানি, ব্যায়াম ও আঁশযুক্ত খাবার এতে উপকারী।
প্যানক্রিয়াটাইটিস
অগ্ন্যাশয়ে প্রদাহ হলে ওপরের পেটে ব্যথা হয়, যা খাওয়ার পর আরও বাড়ে। সঙ্গে বমিভাব ও বমিও হতে পারে। গুরুতর হলে হাসপাতালে ভর্তি প্রয়োজন হতে পারে।
স্টমাক ভাইরাস
ভাইরাসজনিত সংক্রমণে ডায়রিয়া, পেটে মোচড়, বমি ও দুর্বলতা দেখা দেয়। সাধারণত দূষিত খাবার বা আক্রান্ত ব্যক্তির মাধ্যমে এটি ছড়ায়।
ইনফ্ল্যামেটরি বাওয়েল ডিজিজ (আইবিডি)
আলসারেটিভ কোলাইটিস ও ক্রোন্স ডিজিজ এই রোগের প্রধান ধরন। এতে অন্ত্রে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ তৈরি হয়। পেটব্যথার পাশাপাশি ডায়রিয়া, জ্বর ও ওজন কমে যেতে পারে।
ডাইভার্টিকুলাইটিস
বৃহদান্ত্রের দেয়ালে ছোট থলির মতো অংশে প্রদাহ বা সংক্রমণ হলে তীব্র ব্যথা, বমিভাব ও মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন দেখা দেয়।
ফুড পয়জনিং
দূষিত খাবারের কারণে ডায়রিয়া, বমি ও পেটব্যথা হতে পারে। দীর্ঘসময় উপসর্গ থাকলে চিকিৎসা জরুরি।
ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস)
পেট ফাঁপা, গ্যাস, মোচড় ও কখনো ডায়রিয়া আবার কখনো কোষ্ঠকাঠিন্য—এসব আইবিএসের সাধারণ লক্ষণ। মানসিক চাপ ও খাদ্যাভ্যাস এ সমস্যাকে বাড়িয়ে দিতে পারে।
ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স
দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার হজমে সমস্যা হলে পেট ফাঁপা, গ্যাস, ডায়রিয়া ও পেটব্যথা হতে পারে। শরীরে ল্যাকটেজ এনজাইমের ঘাটতির কারণে এ সমস্যা হয়।
পেলভিক ইনফ্ল্যামেটরি ডিজিজ (পিআইডি)
নারীদের প্রজননতন্ত্রের সংক্রমণজনিত এই রোগে তলপেটে ব্যথা, জ্বর, অস্বাভাবিক স্রাব ও সহবাসের সময় ব্যথা হতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা না নিলে জটিলতা বাড়তে পারে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
পেটব্যথার সঙ্গে জ্বর, বমি, রক্তমিশ্রিত পায়খানা, অতিরিক্ত দুর্বলতা বা দীর্ঘদিন উপসর্গ থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ সাধারণ মনে হলেও পেটব্যথা অনেক সময় বড় রোগের ইঙ্গিত হতে পারে।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!