হাঁপানি বাড়লে বুঝবেন যেভাবে
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বেড়েই চলেছে হাঁপানি বা অ্যাজমা রোগীর সংখ্যা। শিশু থেকে বয়স্ক—যে কেউ আক্রান্ত হতে পারেন এই দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রজনিত সমস্যায়। তবে সময়মতো সচেতনতা, সঠিক চিকিৎসা এবং কিছু নিয়ম মেনে চললে অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
চিকিৎসকদের মতে, যাদের পরিবারে আগে থেকেই অ্যাজমার ইতিহাস রয়েছে, তাদের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। বিশেষ করে মা-বাবা বা ভাই-বোনের হাঁপানি থাকলে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
এ ছাড়া যাদের একজিমা, অ্যালার্জিক রাইনাইটিস বা অন্যান্য অ্যালার্জিজনিত সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও অ্যাজমার আশঙ্কা বাড়ে। ধুলাবালি, ধোঁয়া, বায়ুদূষণ কিংবা রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে দীর্ঘদিন থাকলেও এই রোগ দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, শৈশবে কম ওজন নিয়ে জন্ম, সময়ের আগে জন্মগ্রহণ, তামাকের ধোঁয়ার সংস্পর্শ এবং ভাইরাসজনিত শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ ভবিষ্যতে হাঁপানির ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
এ ছাড়া ঘরের ধূলিকণা, ছত্রাক, দূষিত বায়ু এবং অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতাও অ্যাজমার অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
অ্যাজমা অ্যাটাকের লক্ষণ
হাঁপানির সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা হলো অ্যাজমা অ্যাটাক। এ সময় রোগীর শ্বাস নিতে মারাত্মক কষ্ট হয় এবং দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে।
যেসব লক্ষণ দেখা দিলে সতর্ক হতে হবে—
- শ্বাসকষ্ট হঠাৎ বেড়ে যাওয়া
- ইনহেলার কাজ কম করা বা ঘন ঘন প্রয়োজন হওয়া
- কথা বলতে সমস্যা হওয়া
- হাঁটতে বা স্বাভাবিক কাজ করতে কষ্ট হওয়া
- পিক ফ্লো রিডিং স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যাওয়া
চিকিৎসকদের মতে, এসব উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।
অ্যাজমার চিকিৎসা কী?
অ্যাজমার স্থায়ী কোনো নিরাময় নেই। তবে নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ ব্যবহারের মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
চিকিৎসার মূল লক্ষ্য হলো—
- উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে রাখা
- ফুসফুসের কার্যক্ষমতা স্বাভাবিক রাখা
- অ্যাজমা অ্যাটাক প্রতিরোধ করা
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ব্যবহার করলে বেশিরভাগ রোগী স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।
প্রতিরোধে যা করবেন
অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ট্রিগার বা উদ্দীপক কারণগুলো চিহ্নিত করা জরুরি। কোন পরিবেশে বা কোন পরিস্থিতিতে সমস্যা বাড়ছে, তা পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
এ ছাড়া—
- ধুলাবালি ও ধোঁয়া এড়িয়ে চলুন
- প্রয়োজন হলে অ্যালার্জি টেস্ট করান
- ঠান্ডা ও সংক্রমণ থেকে সতর্ক থাকুন
- চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ফ্লু ও নিউমোনিয়ার টিকা নিন
- নিয়মিত অ্যাজমার ওষুধ ব্যবহার করুন
- উপসর্গ কমে গেলেও নিজে থেকে ওষুধ বন্ধ করবেন না
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতনতা এবং নিয়মিত চিকিৎসাই অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!