Dark Mode
Image
  • Wednesday, 10 June 2026
মালচিং চাষে দ্বিগুণ লাভের স্বপ্ন কৃষকদের

মালচিং চাষে দ্বিগুণ লাভের স্বপ্ন কৃষকদের

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তি ‘মালচিং পদ্ধতি’। কম খরচে অধিক ফলন এবং রোগবালাই ও আগাছার উপদ্রব কম থাকায় এ পদ্ধতিতে সবজি ও ফল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন কৃষকরা। বিশেষ করে সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মালচিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষকরা উল্লেখযোগ্য লাভের মুখ দেখছেন।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মালচিং পদ্ধতিতে প্রথমে জমিতে প্রয়োজনীয় জৈব ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ করে সারিবদ্ধ বেড তৈরি করা হয়। এরপর বেডগুলো বিশেষ ধরনের পলিথিন বা মালচিং পেপার দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। নির্দিষ্ট দূরত্বে ছিদ্র করে সেখানে বীজ বা চারা রোপণ করা হয়। এর ফলে মাটির আর্দ্রতা বজায় থাকে, আগাছা কম জন্মায় এবং রোগবালাইয়ের আক্রমণও তুলনামূলকভাবে কম হয়। একই সঙ্গে সেচ ও শ্রমের প্রয়োজন কমে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।

উচ্চমূল্যের ফসল উৎপাদনে কৃষকদের উৎসাহিত করতে বাংলাদেশ টেকসই পুনরুদ্ধার জরুরি প্রস্তুতি ও প্রক্রিয়া প্রকল্প (বি-স্ট্রং)-এর আওতায় সদর উপজেলা কৃষি অফিস কৃষকদের বিনামূল্যে মালচিং পেপার সরবরাহ করছে।

সুহিলপুর ইউনিয়নের মীরহাটি গ্রামের কৃষক মো. রায়হান জানান, তিনি গত ছয় থেকে সাত বছর ধরে মালচিং পদ্ধতিতে বিভিন্ন ফসলের আবাদ করছেন। তাঁর মতে, এ পদ্ধতিতে সবজি ও ফলগাছ সহজে মাটি থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণ করতে পারে এবং অতিবৃষ্টির সময়ও ফসল তুলনামূলক নিরাপদ থাকে। রোগবালাই কম হওয়ায় উৎপাদনও ভালো হয়। এ বছর তিনি প্রায় ছয় বিঘা জমিতে তরমুজের আবাদ করেছেন এবং খরচ বাদ দিয়ে তিন থেকে চার লাখ টাকা লাভের আশা করছেন।

একই এলাকার কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, গত পাঁচ বছর ধরে তিনি মালচিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে সবজি চাষ করছেন। এতে মাটির আর্দ্রতা দীর্ঘ সময় ধরে বজায় থাকে এবং পোকামাকড় ও আগাছার সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে। এ বছর তিনি দুই কানি জমিতে সূর্যডিম জাতের তরমুজ চাষ করেছেন।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম জানান, এ বছর প্রথমবারের মতো বি-স্ট্রং প্রকল্পের আওতায় ৬০ জন উদ্যোক্তা কৃষকের মধ্যে মালচিং পেপার বিতরণ করা হয়েছে। প্রতিটি কৃষককে ৩৩ শতক জমির জন্য প্রয়োজনীয় মালচিং পেপার দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২২ জন কৃষক গ্রীষ্মকালীন শসা, ৮ জন অফ-সিজন তরমুজ এবং অন্যান্য কৃষক টমেটো চাষ করছেন।

তিনি আরও জানান, মালচিং ব্যবহারের ফলে আগাছা, সার ও সেচের প্রয়োজনীয়তা কমে যায়, যা কৃষকের উৎপাদন ব্যয় হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রকল্পের আওতায় সরবরাহ করা মালচিং পেপার বায়োডিগ্রেডেবল হওয়ায় এটি কয়েক মৌসুম পর মাটির সঙ্গে মিশে যায় এবং পরিবেশের কোনো ক্ষতি করে না। এ কারণে কৃষকদের মধ্যে প্রযুক্তিটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, মালচিং প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লে উৎপাদন খরচ কমার পাশাপাশি দেশের কৃষি খাত আরও টেকসই ও লাভজনক হয়ে উঠবে।

Comment / Reply From