রংপুরের লিচুতে ৩০০ কোটি টাকার সম্ভাবনা
এক সময় লিচুর জন্য সবার আগে উচ্চারিত হতো দিনাজপুরের নাম। তবে সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। হাঁড়িভাঙা আমের জন্য পরিচিত রংপুর এখন লিচু উৎপাদনেও শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় উৎপাদিত লিচু স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের নানা প্রান্তে সরবরাহ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমানে বাজারে থাকা লিচুর বড় একটি অংশই রংপুরে উৎপাদিত।
দিনাজপুরের লিচু এখনও পুরোপুরি বাজারে না আসায় রংপুরের লিচুর চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ। প্রতিদিন ভোর থেকে রংপুর নগরীর সিটি বাজারসহ বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজারে লিচুর জমজমাট বেচাকেনা চলছে। এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন প্রায় একশ ব্যবসায়ী। বাজারে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে হাড়িয়া ও মাদ্রাজি জাতের লিচুর।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে রংপুর জেলায় ৮২৭ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড়ে ১০ দশমিক ৫০ মেট্রিক টন উৎপাদনের ভিত্তিতে মোট উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৬৬ মেট্রিক টন। এই উৎপাদনের সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৩০০ কোটি টাকা।
রংপুরে উৎপাদিত জনপ্রিয় লিচুর জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে হাড়িয়া, চায়না-২, চায়না-৩ এবং মাদ্রাজি। এর মধ্যে হাড়িয়া ও মাদ্রাজি জাতের লিচুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর জেলায় লিচুর উৎপাদন বাড়ছে। অনেক কৃষক এখন বাণিজ্যিকভাবে লিচুর বাগান গড়ে তুলে উল্লেখযোগ্য লাভ করছেন, যা স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
পাইকারি ব্যবসায়ী আব্দুল কুদ্দুস মিয়া জানান, তারাগঞ্জসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ব্যাপক হারে লিচুর উৎপাদন হচ্ছে। কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি লিচু সংগ্রহ করে তারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করছেন। বর্তমানে প্রতি হাজার লিচু আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দিনাজপুরের লিচু বাজারে আসার আগ পর্যন্ত রংপুরের লিচুর বিক্রি আরও ভালো থাকবে বলেও মনে করছেন তিনি।
তবে লিচু কেনার সময় ক্রেতাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন কৃষিবিদ আবিদ করিম মুন্না। তাঁর মতে, অনেকেই গাঢ় লাল রঙের লিচুকে ভালো মনে করে কিনে ফেলেন। অথচ লাল ও সবুজের মিশ্রণযুক্ত লিচু সাধারণত বেশি সুস্বাদু হয়। অনেক ক্ষেত্রে কৃত্রিম রঙ ব্যবহার করে লিচুকে আকর্ষণীয় করে তোলা হয়, তাই কেনার আগে ভালোভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মোস্তারী বেগম মিতা শিশুদের বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ছোট শিশুরা একা লিচু খেতে গিয়ে বিচি গলায় আটকে ফেলতে পারে। এছাড়া অতিরিক্ত লিচু খেলে, বিশেষ করে খালি পেটে, শিশুদের রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ কমে যেতে পারে, যা গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে।
রংপুরের লিচু উৎপাদন ও বাজার সম্প্রসারণের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে আগামী বছরগুলোতে এ খাত আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে একদিকে যেমন কৃষকের আয় বাড়বে, অন্যদিকে দেশের ফল উৎপাদন খাতেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!