রান্নার স্বাদ ও সুগন্ধের পাশাপাশি তেজপাতার ঔষধি গুণ
নিরামিষ হোক কিংবা আমিষ—বাংলা রান্না তেজপাতা ছাড়া যেন অসম্পূর্ণ। পোলাও, খিচুড়ি, মাংস, তরকারি থেকে শুরু করে পায়েস পর্যন্ত—সবখানেই তেজপাতা যোগ করে অনন্য সুগন্ধ ও স্বাদ। এর নিজস্ব ঘ্রাণ খাবারের স্বাদ বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে। শুধু রান্নাতেই নয়, তেজপাতার রয়েছে অসাধারণ ঔষধি গুণ, যার জন্য এটি দেশ-বিদেশে সমাদৃত।
তেজপাতা গাছ মূলত ভারত, চীন, নেপাল ও ভুটান অঞ্চলে জন্মে। কাঁচা অবস্থায় পাতার রং সবুজ হলেও শুকিয়ে গেলে তা বাদামি হয়ে যায়। মসলা হিসেবে ব্যবহৃত হলেও তেজপাতা ভিটামিন ‘সি’ ও ‘ই’-সমৃদ্ধ এবং এতে রয়েছে ফলিক অ্যাসিড ও নানা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান।
স্যুপ, পোলাও, পায়েস ও সিদ্ধ জাতীয় খাবারে সুগন্ধ বাড়াতে এই পাতা বহুল ব্যবহৃত। এমনকি তেজপাতা দিয়ে তৈরি চা শরীরকে হালকা ও সতেজ অনুভূতি দেয়। প্রাচীন গ্রিসেও তেজপাতা ঐতিহ্যবাহী ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হতো।
তেজপাতার উল্লেখযোগ্য ঔষধি গুণ
*চুলের যত্নে উপকারী: চুলের বৃদ্ধি বাড়ায় ও খুশকি দূর করতে সহায়তা করে
*ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
*হজমশক্তি উন্নত করে এবং শরীর থেকে অতিরিক্ত টক্সিন বের করতে সাহায্য করে
*হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখে: তেজপাতায় থাকা রুটিন ও ক্যাফেক অ্যাসিড কোলেস্টেরল কমাতে সহায়তা করে
*ব্যথা উপশমে কার্যকর: মাথাব্যথা, জয়েন্ট ও বাতের ব্যথা কমায়
*ক্যান্সার প্রতিরোধে ভূমিকা: কিছু গবেষণায় ক্যান্সার কোষ ধ্বংসে তেজপাতার সম্ভাব্য ভূমিকার কথা বলা হয়েছে
*ক্ষত নিরাময়ে সহায়ক: অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান ক্ষত সারাতে সাহায্য করে
*ঠান্ডা ও কাশিতে উপকারী
*কিডনির পাথর, উদ্বেগ ও মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক
সতর্কতা
গর্ভবতী নারী ও সদ্য মা হয়েছেন—এমন নারীদের ক্ষেত্রে তেজপাতা প্রস্রাবের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এছাড়া যাঁদের শিগগির অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা, তাঁদের অস্ত্রোপচারের অন্তত দুই সপ্তাহ আগে তেজপাতা গ্রহণ এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এটি স্নায়ুতন্ত্রে প্রভাব ফেলতে পারে।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!