লবণ একেবারে বাদ? শরীরে নীরব বিপদ!
সুস্থ থাকতে অতিরিক্ত লবণ খাওয়া কমানোর পরামর্শ চিকিৎসকেরা প্রায়ই দিয়ে থাকেন। কিন্তু তাই বলে লবণ সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া কি ঠিক? বিশেষজ্ঞদের মতে, একেবারে লবণ না খাওয়াও শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
ভারতের চিকিৎসক প্রভাতরঞ্জন সিংহ জানিয়েছেন, শরীরে সোডিয়ামের কোনো প্রয়োজন নেই—এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। বরং দীর্ঘ সময় ধরে লবণের মাত্রা অত্যন্ত কমিয়ে দিলে শরীরে নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে।
শরীরে লবণের প্রয়োজন কেন?
লবণ বা সোডিয়াম শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি খনিজ উপাদান। এটি—
শরীরের তরলের ভারসাম্য বজায় রাখে
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে
স্নায়ুর বার্তা আদান-প্রদান সচল রাখে
মাংসপেশির স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সাহায্য করে
ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য রক্ষা করে
অর্থাৎ, লবণ শুধু খাবারের স্বাদ বাড়ানোর উপাদান নয়—বরং এটি শরীরের মৌলিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত।
দীর্ঘদিন লবণ কম খেলে কী হতে পারে?
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া হঠাৎ করে লবণ অনেকটা কমিয়ে দিলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের প্রভাব পড়তে পারে—
১. রক্তচাপ হঠাৎ কমে যাওয়া
লবণের মাত্রা কমে গেলে রক্তচাপ হঠাৎ নিচে নেমে যেতে পারে। এতে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, এমনকি অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে।
২. হরমোনের ভারসাম্যে প্রভাব
শরীরের রক্তচাপ ও তরল নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন যেমন রেনিন-অ্যাঞ্জিওটেনসিন-অ্যালডোস্টেরন সিস্টেম লবণের ঘাটতিতে প্রভাবিত হতে পারে।
৩. হাইপোন্যাট্রেমিয়া
রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা অত্যন্ত কমে গেলে ‘হাইপোন্যাট্রেমিয়া’ নামক অবস্থা তৈরি হতে পারে। এতে—
অতিরিক্ত দুর্বলতা
বিভ্রান্তি
মনোযোগে ঘাটতি
মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ব্যাহত হওয়া
এর মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
৪. স্নায়বিক সমস্যা ও ক্লান্তি
সোডিয়াম স্নায়বিক বার্তা প্রেরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই এর ঘাটতি হলে ক্লান্তি, অবসাদ ও শারীরিক দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।
৫. পেশিতে টান
পানি ও খনিজের ভারসাম্য নষ্ট হলে পেশিতে টান ধরা বা ক্র্যাম্প হতে পারে।
৬. কিডনির উপর প্রভাব
যদিও কিডনি রোগীদের কম লবণ খেতে বলা হয়, তবে অত্যধিক সোডিয়াম ঘাটতি কিডনির স্বাভাবিক কাজেও বিঘ্ন ঘটাতে পারে।
তাহলে কী করবেন?
অতিরিক্ত লবণ যেমন ক্ষতিকর, তেমনি একেবারে লবণ বাদ দেওয়াও নিরাপদ নয়। তাই—
প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত নোনতা খাবার এড়িয়ে চলুন
খাবারের সঙ্গে অতিরিক্ত কাঁচা লবণ খাওয়া বন্ধ করুন
হার্ট, উচ্চ রক্তচাপ বা কিডনি রোগ থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে লবণের পরিমাণ নির্ধারণ করুন
মনে রাখবেন, ভারসাম্যই সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!