শুধু শিশু নয়, বড়রাও কেন আক্রান্ত হচ্ছেন হামে?
দেশজুড়ে হামের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় শিশুদের পাশাপাশি এবার প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও রোগটি শনাক্ত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বড়দের হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে দেখা গেছে। কিছু হাসপাতালে এ ধরনের রোগীদের জন্য আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ডও চালু করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম মূলত শিশুদের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হলেও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে বড়রাও আক্রান্ত হতে পারেন। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রাপ্তবয়স্করা দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন।
কেন বাড়ছে হাম সংক্রমণ?
চলতি বছরের শুরু থেকেই দেশে হাম ভয়াবহ আকার ধারণ করে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, গত কয়েক বছরে শিশুদের নিয়মিত টিকা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়াই এর বড় কারণ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮টিতেই হাম সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে সংস্থাটি টিকার ঘাটতি ও বাড়তে থাকা মৃত্যুহার নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বলছে, রোববার পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ৪৫৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
বড়রা কেন আক্রান্ত হচ্ছেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শিশুদের তুলনায় বেশি থাকে। তাই বড়দের মধ্যে হাম কম দেখা যায়। তবে শরীর দুর্বল হয়ে গেলে বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে ঝুঁকি বাড়ে।
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্যান্সার, যক্ষ্মা, কিডনি রোগ বা দীর্ঘদিন স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ গ্রহণকারীদের মধ্যে হাম সংক্রমণের আশঙ্কা বেশি থাকে। এছাড়া কেমোথেরাপি বা ডায়ালাইসিস নেওয়া রোগীরাও ঝুঁকিতে থাকেন।
হার্ড ইমিউনিটি দুর্বল হয়ে পড়ছে
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগে অধিকাংশ শিশু টিকার আওতায় থাকায় সমাজে ‘হার্ড ইমিউনিটি’ তৈরি হয়েছিল। ফলে হাম সহজে ছড়াতে পারত না। কিন্তু এখন টিকাদানের হার কমে যাওয়ায় সেই সুরক্ষা দুর্বল হয়ে পড়েছে।
ফলে শুধু শিশুরাই নয়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন বড়রাও আক্রান্ত হচ্ছেন।
হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর চাপ
ঢাকার কয়েকটি হাসপাতাল ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বড়দের হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে। তবে চিকিৎসকদের মতে, প্রাপ্তবয়স্কদের বেশিরভাগ রোগীর অবস্থা গুরুতর নয় এবং চিকিৎসায় তারা দ্রুত সেরে উঠছেন।
নতুন করে টিকাদান কর্মসূচি
হাম নিয়ন্ত্রণে সরকার আবারও ব্যাপক টিকাদান কার্যক্রম শুরু করেছে। শিশুদের জন্য হামের টিকার বয়সও ৯ মাস থেকে কমিয়ে ৬ মাস করা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী মাসে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, অধিকাংশ শিশু টিকার আওতায় এলে আবারও কমিউনিটি বা হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হবে এবং সংক্রমণ কমে আসবে।
বিশ্বজুড়েও বাড়ছে হাম
বাংলাদেশের মতো যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশেও আবার হাম সংক্রমণ বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, কোভিড মহামারির সময় নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে ব্যাঘাত এবং টিকাবিরোধী প্রচারণার কারণে বিশ্বজুড়ে হাম ফিরে আসছে।
চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী দ্য ল্যানসেট-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে গত দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হাম প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সময়মতো টিকা নিশ্চিত করা এবং সচেতনতা বাড়ানো।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!